আমাদের মত দেশে সংসদীয় গনতন্ত্রে শিক্ষিত মানুষ জনদের প্রতিফলন তুলনামূলক ভাবে অনেক অনেক কম। কারন রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থাটাই সে ভাবে তৈরী যাতে বেশী সচেতন মানুষের প্রতিনিধিত্ব না আসতে পারে পার্লামেন্ট এ কিংবা বিধান সভায় ।উপনিবেশবাদীদের অনুকরনে প্রচলিত এই সংবিধান অন্ততঃ কিছুটা গনমুখী হলেও গন অর্থাৎ বেশীর ভাগ মানুষই জানেন না ,কোনটা তাঁদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ,আর কোনটা তাঁদের আরও দরকার ? এ রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার মানুষের জন্য যে পরিমান কাজ করেছিলেন তা কিন্তু ঐ সংবিধানের অধিকারের মধ্যে ,বদল করে নয় । আর এটাতেই প্রমানিত হয় স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচিত রাজ্য সরকার গুলির থেকে এই সরকারের প্রকৃত সৎ উদ্দেশ্য গুলিকে । অন্যান্য সরকারগুলির থেকে মার্ক্সবাদী সরকারগুলির দৃস্টিভঙ্গীর ফারাক । যুক্ত রাস্ত্রীয় কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখেও । মার্ক্সবাদীদের মূল লক্ষ্য সংসদীয় ব্যাবস্থার আমূল পরিবর্তন , তথা রাস্ট্র যন্ত্রের দখল । আর এটা মার্ক্সবাদীদের কোনো গোপন চক্রান্ত নয় । বরং বলিষ্ঠ ঘোষনা ।এবং তা হবে মার্ক্সবাদী লেনিন বাদী পথেই । সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অর্থে বল প্রয়োগের দ্বারা রাস্ত্র ক্ষমতার দখল আজ এই যুগে এই সময়ে এবং এত বড় দেশে বোধ হয় সম্ভব নয় , অন্ততঃ প্রাথমিক বিশ্লেষনেতো তাই ই মনে হয় । অবশ্য পরিবেশ পরিস্থিতি বদলালে কোন পথে আসবে বেশীর ভাগ মানুষের মুক্তি তা সময়ই বলতে পারে । বর্তমান নয় । অতএব বিকল্প কোনো পথ না পাওয়া পর্যন্ত এই সংসদীয় গনতন্ত্রের পথেই ,এবং এই গনতান্ত্রিক সীমা বদ্ধতার মধ্যেই মার্ক্সবাদীদের হয়ে উঠতে হোচ্ছে সৃস্টিশীল । আর সৃস্টিশীল যে কোনো কাজ কখনোই সরলরেখায় চলে না । আঁকা বাঁকা পথেই তাকে পৌছতে হয় সম্পূর্ণতায়। আর এই চলাটাই সম্পুর্ণতায় পৌছলে চলার এই ছন্দ এই আঁকিবুকিটাই হয়ে যায় একটী ছবি ,আরো একটি প্রয়োগ পদ্ধতি , আরো একটি মার্ক্সবাদী প্রয়োগ । তৈরী হয় নতুন তত্ত্ব । এটাই মার্ক্সবাদী সৃজন শীলতা ,যা অবিনশ্বর এবং সুন্দর । কারন এর মূল চালিকা শক্তি সচেতন মানুষ। আর এ ছবি আঁকতে মার্ক্সবাদীরা বিশ্বাস করেন গনতন্ত্রে । তাই সীমীত হলেও যেটুকু গনতন্ত্র আছে তাকে রক্ষা করতে হবে এবং আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গনতন্ত্রের সীমানা বাড়াতে হবে । যে গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আমাদের শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে কাংখিত " সমাজ তন্ত্রে"। এবং তাই বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর অনেক পার্টি কর্মী কিংবা দরদীদের বলতে শুনি ," সরকারে আসাটা আমাদের লক্ষ্য নয় । আমরা মানুষের সংগ্রামে মানুষের পাশে থাকতে পথেই আছি ।" হ্যাঁ ।পথেইতো থাকতে হবে ।কারন মানুষ পথেই ছিলেন ,পথেই আছেন ,পথেই থাকবেন । কোনো মিনারে নয় । কিন্তু পথ থেকে আমাদের গন্তব্য কোথায়? সংসদীয় গনতন্ত্রের সংগ্রামে নির্বাচন এবং নির্বাচনে জয়লাভটাকে অস্বীকার করি কি করে ? আর নির্বাচনে অংশগ্রহন এবং তাতে জয়লাভ করতে প্রয়োজন শক্তির (সব অর্থে) ব্যাপকতা এবং ব্যাপক শক্তিকে সংগঠিত করা । প্রতিটী এলাকায় এলাকায় সন্ত্রস্ত বিপন্ন আক্রান্ত সর্বস্বান্ত মানুষের কাছে পৌঁছে এ সাহস যোগাতে হবে যে ," পারেন । আপনারাই পারেন। আপনারাই পেরেছিলেন। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরাই পারি এই সন্ত্রাস, আতংক, বেকারীর বিরুদ্ধে , শিল্পের পক্ষে কৃষির পক্ষে শিক্ষার পক্ষে স্বাস্থের পক্ষে লড়াই জারী রাখতে এবং আবার ও বামফ্রন্ট সরকার গড়তে । এবং গনতন্ত্রের পরিধিকে প্রশস্ত করতে সারা দেশের মানুষকে সমবেত করতে বামফ্রন্টের নেতৃত্বে "। চলুন আবারও ডাক তুলি , বামফ্রন্ট সরকার --সংগ্রামের হাতিয়ার"। কারন লড়াইটা আজ একেবারে মুখোমুখী। দস্তানায় তালু লুকিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে করপোরেট তথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি , তারাই এখন মুখোমুখী এ দেশের কোটী কোটী মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কম্যুনিস্ট পার্টি তথা বাম্পন্থীদের । এই লড়াইটা লড়তে গেলে এবং জিততে গেলে একটা সামিট ক্যাম্প বা বেস ক্যাম্প দরকার । ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিন ভারতে সে সম্ভাবনা প্রবল। তাই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সব শক্তি নিয়ে সংগঠনের কাজে। এটাই ভারতের দ্বিতীয় এবং বৃহত্তম স্বাধীনতা যুদ্ধ ।। ( ক্রমশঃ)।
Monday, November 26, 2018
Saturday, November 24, 2018
দস্তানার চরিত্র---৮
প্রসংগ সিঙ্গুর রুপায়নের প্রশ্নে ভুলটা কার ? পার্টির না সরকারের ? জ্যোতি বাবু প্রমোদ বাবু অশোক ঘোষ নিখিল দাস দের সময়ে গৃহীত নীতি ছিলো , " বাম ফ্রন্ট এ আলোচনা কোরে যে কোনো সিদ্ধান্ত্ব গ্রহন করতে হবে " , সরকারের তরফ থেকে যে কোনো প্রস্তাবের বা বাম ফ্রন্ট এর পক্ষ থেকে যে কোনো প্রস্তাব । বাম ফ্রন্ট এর সম্মতি মতোই সরকার এবং পার্টীগুলি একযোগে তা রুপায়নে মাঠে নামবেন । প্রশ্ন , তেমনটা হয়েছিলো কি ? যদি হয়ে থাকে তবে ফ্রন্টের এক বড় শরিক(নাম করছিনা ফ্রন্ট এর অস্তিত্বের প্রয়োজনে ) এর উচ্চ স্তরের নেতাদের সিঙ্গুর বিরোধিতা জন মনে প্রশ্ন তুলেছিলো কেন? ২ ) সি পি আই (এম)এর কৃষক সভার জ্ঞাতে কি টাটার পছন্দের জমি নির্বাচিত হয়েছিলো ? যদি হতো তবে জমি দখলের প্রশ্নে প্রথম দিকে চাষীরা বাধা দিয়েছিলেন কেন ? পরে যদিও কৃষক সভার নেতৃত্বেই জমি দিতে বেশীর ভাগ চাষীই সম্মত হয়েছিলেন এবং সরকারের উন্নয়নের এই উদ্যোগ যে শিল্পের সাথে সাথে তাঁদেরও সার্বিক উন্নয়ন তা তাঁরা উপলব্ধি করে বামফ্রন্ট এর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন । কিন্তু আগেই কৃষক সভাকে সম্মত করে এ কাজে নামলে বেচারামদের জন্ম হোত কি ? তাই মানুষ সাদা চোখে মনে করেন কোথাও একটা সরকারী ঔদ্ধত্য পার্টী এবং ফ্রন্ট কে অন্ধকারে রেখেছিলো । তাই এ ভুল সরকারের । ক্ষতি নিরাময়ে সবাই পরে একজোট হলেও ক্ষতি ঠেকানো গেল না । কারন অশিক্ষিত এবং ধ্বংসকারী শক্তি তৃনমুলের বিরুদ্ধে সরকার তার রাষ্ট্রীয় ভাষা প্রয়োগের বদলে গনতান্ত্রিক ভাষা এবং ব্যাবহার বহাল রাখায় । এক্ষেত্রেও প্রশ্ন থাকে পার্টী ,ফ্রন্ট ,ও সরকারের সাজুয্যতা নিয়ে । অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কম্যুনিস্ট পার্টীর তফাত এই যে ,অন্য দলগুলোর অস্তিত্ব কিংবা না অস্তিত্বর ওপর নির্ভর করে না সাধারন মানুষের জীবন জীবিকা কিংবা নিরাপত্তার প্রশ্ন। কিন্তু কম্যুনিস্ট পার্টী ও কম্যুনিস্ট ভাবাদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে যা একেবারেই বিপরীত । কারন কম্যুনিস্ট পার্টীর একমাত্র স্বার্থ মানুষের শৃংখল মুক্তি ।রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তি ।মার্ক্সবাদী পথে । তাই সাধারন মানুষের ওপর যে কোনো আক্রমন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কিংবা ব্যাক্তিক সে আক্রমন আসলে কম্যুনিস্ট পার্টী কিংবা কম্যুনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী মার্ক্সবাদী পার্টীগুলির ওপরই আক্রমন । আর তাই মানুষ তাকিয়ে থাকেন এই আক্রমনের মোকাবেলায় পার্টীর ভূমিকার এবং নির্দেশের দিকে । এ ক্ষেত্রেও তাই স্বভাবতই পার্টীকে হতে হয় একই সাথে সাবধানী ,সতর্ক, এবং প্রতিরোধী । দায়িত্বটা কঠিন কিন্তু অবশ্য কর্তব্য । প্রশ্ন এখন এই সময়ে পার্টী কোথায়, আমরা কোথায়, আর কি ই বা আজকের রাজ্যের এবং দেশের পরিস্থিতি? কি আমাদের কর্তব্য ? (পরের বার ) ।
Friday, November 23, 2018
দস্তানার চরিত্র---৭
রাজ্যের অর্থে পশ্চিমবঙ্গের ত্রুটীগুলিও সর্বমোট ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টীর (মার্ক্সবাদী) গৃহীত ভুল সিদ্ধান্ত্ব ও কৌশলগুলিরই ফলাফল। উপরন্তু যোগ হলো পার্টীর বেশীটাই আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা । বাম পার্টীগুলিকে কোরে তুললো জন বিচ্ছিন্ন । পার্টীর এবং মানুষের মধ্যের রক্ত মাংসের যোগ যত কমেছে ততই পার্টির মতাদর্শের লড়াই হয়েছে ম্লান । আর এই বিশাল জনবুনোট এর আলগা ফাঁকে বাসা বাঁধলো বিষাক্ত কীট , প্রোমোটার,কন্ট্রাক্টর , চাটুকারদের ছদ্মবেশে। অনেক জেলায় তারাই হয়ে উঠেছিলো পার্টির নিয়ন্তা এবং সাধারন মানুষের কাছে পার্টী তথা সরকারের সেতু । গ্রাম থেকে শহর এমন কি সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও শক্তিশালী হলো একদল রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক " মাফিয়া"। শুধু নেতৃত্ব আজীবন সৎ থেকেও রক্ষা করা যায়নি সামগ্রিক রাজনৈতিক সততা । এই মাফিয়াদের সংখ্যা ছিল তুলনায় কমই , কিন্তু ক্ষমতা ছিলো অসীম । থানা কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যালিটী , পঞ্চায়েত , বিদ্যালয় , মহা বিদ্যালয় , হাসপাতাল , সাংস্কৃতিক অঙ্গন , মোটের ওপর যে সমস্ত স্থানে সাধারন মানুষেরা নিত্য সেখানেই এরাই ছিলো মাতব্বর , লাল মিছিলে পা মিলিয়ে , লাল জামা পরেই । প্রমান ? লক্ষন শেঠ এর মতো লোকেরা । প্রসঙ্গ সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম----------। এ কথা ভুললে চলবে না যে উন্নত পঞ্চায়েত ব্যাবস্থার মাধ্যমে গ্রামীন সরকারকে শক্তিশালী করে একদিন ক্রীতদাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ নুব্জে পড়া কৃষক সমাজকে মেরুদন্ড সোজা করে মাথা উঁচু করে বাঁচার পথ দেখিয়েছিলেন বামফ্রন্ট সরকার । গ্রামের মানুষের চরম অর্থনৈতিক পরাধীনতাকে সম্ভব মতো অবসান করার ফলে বাড়লো গ্রামের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা । তাই পরিকল্পনা মাফিকই তৈরি হোল নতুন নতুন বিদ্যালয় ,মহা বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় । কারন এই সরকার সচেতন ছিলেন যে দেশের বেশীরভাগ মানুষ থাকেন গ্রামে ।এবং দারিদ্রের সংখ্যাও বেশী । তাই ১৯৭৭ এই এক দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার ক্রম সাজিয়ে ছিলেন ।প্রথমে কৃষি , তারপর শিক্ষা, এবং অবশ্যই শিল্প । তাই প্রথম থেকেই লক্ষ্য পূরনে এই সরকার ছিলেন সচল । অর্থাৎ কৃষির উন্নয়নের সাথে সাথেই এগিয়ে যেতে হবে শিক্ষায় । এবং শিক্ষায় এগিয়ে থাকা একটি জাতি কখনই শুধু মাত্র কৃষি কাজে আবদ্ধ থাকতে পারেন না । কারন বেশী মানুষের হাতে পয়সা আসা মানেই বাজারে তাঁদের অধিকারের বৃদ্ধি । তাই বাজার( লুঠের নয় ) এবং শিক্ষাকে সফল করে তুলতে প্রয়োজন ভারী শিল্প । এবং তারই নিরন্তর প্রচেস্টার ফলশ্রুতি সিঙ্গুররের মোটর কারখানা টাটা গোষ্ঠীর । অন্য দিকে পুরুলিয়ায় জিন্দালদের বৃহত্তম ইস্পাত প্রকল্প এবং নন্দীগ্রামে কেমিকাল হাব । প্রমাদ গুনলো বাম বিরোধীরা এবং অবশ্যই কর্পোরেট শক্তি তথা সাম্রাজ্যবাদ । কারন সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যেও কম্যুনিস্টরা কৃষি সমস্যা মিটিয়ে শিল্প ভাবনায় সাফল্য পায় তবে সেই দৃস্ট্বান্ত দেশের অন্য রাজ্যগুলিকেও বিকল্প ভাবনায় সাহসী করে তুলবে । এবং কম্যুনিস্ট তথা বাম শক্তির প্রসার ঘটবে । সংসদীয় গনতন্ত্রের মধ্যে থেকেও পরীক্ষা নীরিক্ষার এই সফল প্রয়োগ শুধু ভারত নয় ,এশিয়া মহাদেশের থেকেও সাম্রাজ্যবাদ তথা করপোরেট শক্তির কাছে যেন অন্তিম বার্তা । তাই যে ভাবেই হোক একে রুখতে হবে । প্রয়োজনে সব শক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করে । এবং তা করতে হাতিয়ার হয়ে উঠলো বাম্ফ্রন্ট ও সি পি আই (এম ) এর ভুলগুলি এবং ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্নতা । অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর দুর্বল প্রশাসনিক চরিত্র । বাংলাকে তছনছ করতে বিদেশী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি কোমর বেঁধে নামলো । জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ রইলো ২১দিন । আদালতের সুস্পস্ট রায় সরকারের পক্ষে। অথচ সরকার তার রাস্ত্রীয় ক্ষমতার প্রয়োগ না করে দিনের পর দিন আলোচনায় মীমাংসায় পৌঁছতে সচেস্ট থেকে ওদের সংগঠিত ও সাহসী হয়ে উঠতে শক্তি জোগালো । শিক্ষিত মানুষ বুদ্ধ বাবু ভুলে গেলেন যে অশিক্ষিত এবং "একা" একজন ক্ষমতা লোভীকেই বেছে নিয়েছে করপোরেট শক্তি । যাতে লুম্পেন দ্বারাই চালিত করানো যায় তাকে । তাই প্রায় শেষ হবার মুখে টাটার কারখানা বন্ধ হয়ে গেল ।পরিকল্পনা করেই নন্দীগ্রামে চলল অবরোধ - মাও বাদী দের ভাড়া করে । "পরিবর্তনের " আওয়াজ তুলে তাকে সফল করতে ওই দুস্ট শক্তি অই সাহসটিকেই পুঁজি করলো । তারপরটাযে সুখকর নয় এ আর না জানা আছে কার ? এখন প্রশ্ন সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম প্রশ্নে ভুলটা কার ? সরকারের না পার্টীর ? ( ক্রমশঃ)
Thursday, November 22, 2018
দস্তানার চরিত্র--৬
দস্তানা-৫ এ কথা ছিল ৩৪ বছরের জনমুখী সরকার চালানো সত্ত্বেও এই সরকারের পতন কেন? সাধারন মানুষের বিবেচনায় ভুলগুলি কি ? এই বিবেচনার মধ্যে হয়তো পাওয়া নাও যেতে পারে কোনো তত্ত্বের দ্বান্দিক বিশ্লেষন। বিজ্ঞ তর্কযুদ্ধে হয়তো নাস্তানাবুদ হবেন সাধারন বামপ্রিয় মানুষেরা। কিন্তু তবু তাঁদের সোজা সাপ্টা কথাগুলি একেবারে অদ্বান্দিক এবং অ -দূরদর্শী এমনটা ভেবে অভিজ্ঞ মার্ক্সবাদী সাজলে এ বিপদ আসবে বারবার । আর ঠিক এখনকার রাজনৈতিক বাতাবরন যেন মানুষের অনুভবের সোজাসাপ্টা প্রকাশকেই যুক্তিনিষ্ঠ করে। ১) কমরেড সইফুদ্দিন চৌধুরী যখন সিপিয়াই (এম) এর নেতা ছিলেন এবং অত্যন্ত সুদক্ষ সাংসদ ,তখন তাঁর একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষন "কংগ্রেস" সম্পর্কে এবং বামেদের দায়িত্ব যা নেতৃত্ব মানেন নি এবং কমরেড সইফুদ্দিন এর সাথে পার্টি সম্পর্ক ছিন্ন হয় বা করা হয় তা যে সঠিক পরবর্তিকালে ইউ পি এ -১ গঠনের মধ্যেই প্রমানিত । ২) প্রসিদ্ধ পার্টীনেতা ও জননেতা কমরেড জ্যোতি বসু কে প্রধান মন্ত্রী হতে না দেওয়া। মনে রাখতে হবে বুরজোয়ারা এ সময় নেতৃত্বহীন এবং বিপরীতে জোট সরকার পরিচালনায় কমরেড জ্যোতি বসু এবং সি পি আই (এম) এর কৃতকার্যতা এবং বড় দল হয়েও জোট কে প্রাধান্য দেওয়ার বিশ্বস্ততায় কমরেড জ্যোতি বসুর প্রতি ওদের আহ্বান ছিলো সময়ের বিচারে অবশ্যম্ভাবী । কিন্তু এ ক্ষেত্রেও পার্টীর রক্ষনশীল মনোভাবে পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহনের এবং তা অনুযায়ী রননীতি তৈরী করার সাহস এবং কুশলতা নেতৃত্বের দুর্বলতাকেই প্রকট করেছে। বাংলার তথা ভারতের মানুষের মনে তা চুড়ান্ত আঘাত হানে । অভিজ্ঞ কম্যুনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু "ঘুম ভাঙ্গাতে " আওয়াজ তুললেন " ঐতিহাসিক ভুল" । কিন্তু রক্ষনশীল ভীতু নেতৃত্বের তাতে ঘুম ভাংগেনি । বরং আরো বেশী করে চাদর টেনে দিবানিদ্রায় গেলেন ,যখন দেশ জুড়ে পুঁজিপতিদের সমর্থনে বিপজ্জনক ও ভয়ানক সাম্প্রদায়িক শক্তি আর এস এস তথা বি জে পি নিজেদের শক্তিশালী করতে জোট সঙ্গীর সন্ধানে তাদের রাজনৈতিক উদ্যোগে জোর দিচ্ছে । মনে রাখুন আজকের সারা দেশের ওপর নেমে আসা এমন রক্তাক্ত দিন ,গনতন্ত্রের অবনায়নের তীব্র গতির আঁতুড়ঘর ছিল সেই "ঐতিহাসিক ভুল"। ৩) দীর্ঘ পরীক্ষিত সি পি আই (এম ) নেতা ,বিশিস্ট ব্যাবহারজীবি সি পি আই(এম) সাংসদ ,পশ্চিমবঙ্গ শিল্প নিগম এর বাম ফ্রন্ট এর সময়ের চেয়ার ম্যান এবং পার্টির অনুমোদনে ইউ পি এ-১ সরকারের লোকসভার অধ্যক্ষ (যে সরকার বামেদের সমর্থনে গঠিত কংগ্রেস পরিচালিত সরকার ) মাননীয় কমরেড সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় কে ভুল কারনে পার্টি থেকে বহিস্কার যা বাংলার মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি ।( কারণটিও একটি ঐতিহাসিক ভুল। বহু আলোচিত।তাই আর উল্লেখ করলাম না ) ।এবং ৪ ) ইউ পি এ ১ থেকে তার মেয়াদ উত্তীর্ণ (আর অল্প কিছু দিন ছিলো) হওয়ার আগেই " নিউক্লিয়ারস ইস্যুতে" সমর্থন তুলে নেওয়া । মানুষের বিশ্বাস কমরেড জ্যোতি বসুর বাস্তবতাবোধও নিশ্চয় ছিলো পার্টির এই সিদ্ধান্ত্বের বিরুদ্ধে । সঠিক জানি না । তবে মানুষের জীবন বোধ দিয়ে চেনা জ্যোতি বাবু সম্পর্কে মানুষের এ বিশ্বাসকে অমর্যাদা করার সাহস না দেখানোই ভালো। আর এই ভুলের পরিনাম কংগ্রেসের হাত ধরে বিক্ষুব্ধ বাংলার মনের চাপা আঁচে বাতাস দিয়ে কংগ্রেস জাত বি জে পি পালিত তৃনমূলের তথা সংগঠিত লুম্পেন শক্তির বিপুল উত্থান এবং সরকার থেকে বাম ফ্রন্টের পতন । উল্লিখিত ভুলগুলি শুধু মাত্র কম্যুনিস্ট নেতৃত্বের ভুল, কেন্দ্রিয় ভাবে । এবার আলোচনা রাজ্য স্তরে । (ক্রমশঃ)
Thursday, November 15, 2018
দস্তানার চরিত্র----৫
১৯৭৭- ২০ শে জুন কংগ্রেস ঘোষিত জরুরী অবস্থা মোকাবেলা করে পশ্চিমবঙ্গে বহু নির্যাতন খুন সন্ত্রাসের জবাব কমরেড জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে প্রথম " বাম ফ্রন্ট সরকার"। মনে রাখতে হবে "বাম ফ্রন্ট' পর্যন্ত পৌঁছতে বাম নেতৃত্বকে পেরোতে হয়েছে অনেকখানি পথ । প্রথমে "বাম ও গনতান্ত্রিক " ঐক্য এবং "যুক্ত ফ্রন্ট" সরকার । কেন্দ্রের বে আইনী আক্রমন .৩৫৬ ধারার প্রয়োগে সরকারের পতন । কিছু তথাকথিত গনতান্ত্রিকদের দস্তানা খুলে কালো হাতের দর্শন । কম্যুনিস্টরা রইলেন মানুষের সঙ্গে । আবার নির্বাচন । এবার আরো বড় জয় । তৈরি হল দ্বিতীয় " যুক্ত ফ্রন্ট" সরকার । আবারো আক্রমন। চলল এম এল এ কেনা বেচা। আবারো ৩৫৬ র প্রয়োগ ,সরকারের পতন । এবং সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে চাপানো হোলো " কুখ্যাত রাস্ত্রপতি শাসন"। আবারও নতুন লড়াই । নতুন কৌশল । নীতিগত ভাবে বামপন্থীরা বুঝলেন "যুক্ত ফ্রন্ট" এর প্রয়োজন ফুরিয়েছে । মানুষের কাছে ওই ফ্রন্ট তার বিশ্বাস রাখতে পারেনি । ওই ফ্রন্টের মধ্যের কিছু শক্তি যারা প্রকৃত কংগেস জাত তাদের আক্রমনের মুল লক্ষ্য সি পি আই (এম) ও তার বন্ধু শক্তিদের । অতএব সি পি আই ( এম) নেতৃত্ব ডাক দিলেন শুধু " বাম ফ্রন্ট "। আন্দোলন সংগ্রাম মানুষ চাইলে সরকার ও গড়বেন "বাম ফ্রন্ট ' । মানুষের চাওয়াও যে ছিলো একদম তাই তার প্রমান রাজ্যে বিপুল সংখ্যাধিক্যে ~ বামফ্রন্ট সরকার । এবং জ্যোতি বসুর ঘোষনা , এ রাজ্যের সরকার চলবেনা মহাকরন থেকে । এ সরকার চলবে সমস্ত মানুষের দ্বারা তাঁদের কেন্দ্রগুলী থেকে --গ্রাম থেকে । শুরু হলো কর্ম যজ্ঞ । গঠিত হলো পঞ্চায়েত রাজ অর্থাৎ গ্রামগুলীর নিজেদের সরকার । কৃষকদের স্বার্থে অপারেশন বর্গা । জমিতে কৃষকদের দেওয়া হল লুঠ হয়ে যাওয়া অধিকার । দেওয়া হল দল মত নির্বিশেষে সমস্ত রাজ নৈতিক কারনে আটকে রাখা রাজনৈতিক বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি,শিক্ষার বিস্তারে উপযোগী ভুমিকা এবং কৃষির উন্নয়নের সাথে সাথে শিল্পের উদ্যোগ ইত্যাদি আরো বহু জনমুখী কাজ যা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনোন্নয়নে আন্তরিক । কমরেড প্রমোদ দাসগুপ্ত ,হরেকৃষন কোনার প্রভাস রায় ,ডক্টর অশোক মিত্রর মত ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে এ রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার মার্ক্সবাদের ও এক নতুন পরীক্ষা । যুক্ত রাস্ট্রীয় কাঠামোকে অক্ষুন্ন রেখেই সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যে থেকেও মানুষের বিপুল সমর্থনে এই সরকারের ৩৪ বছর প্রমান করেছে মারক্সবাদীরা কতটা সৃস্টিশীল । এখন প্রশ্ন তবুও মানুষেরই রায়ে বিশেষত গ্রামের মানুষের দ্বারা এই জনপ্রিয় বামফ্রন্ট প্রত্যাখ্যাত হলো কেন ? সমস্যাটা কি পার্টির ঘোষিত নীতিগুলির রুপায়নে সরকার থেকে সরকার ঘোষিত নীতিগুলির পার্টীর রুপায়নের ফারাক ? ফলে জন বিচ্ছিন্নতা ? কম্যুনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী পার্টীর সরকারী পার্টীতে পরিনত হওয়ার একটা ভয়ানক বিচ্যুতি? জানিনা । আমি একজন সাধারন নাট্যকর্মী মাত্র । সমাজ রাজনীতি অর্থনীতি এবং মানুষের ভাঙ্গা গড়ার ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থেকেই (আমার সীমাবদ্ধতা নিয়েই) নাটক করে চলেছি । তাই আমি নয় । এ সংশয়ের নিরশন করবেন পেশাদার রাজনৈতিক মানুষজন ,যারা রাজনীতির প্রয়োগে ভুলও করেন আবার ঠিকও করেন । ফারাক আছে । একদল ক্রমাগত ভুল করতে করতে হয়তো কখনও এক আধটা ঠিক করতে বাধ্য হয় ( ব্যাঙ্ক জাতীয়করন) নিজেদের পেশাকে বাঁচাতে । তাই তারা " ভুল" বলে কিছু স্বীকার করে না । বরঞ্চ ঘটে যাওয়া একটি বা দুটি "ঠিক" কে হাতিয়ার করে নিজেদের জয়ঢাক বাজায় ।বিপরীতে পেশাদার রাজনীতিক কম্যুনিস্টরা তথা বামেরা "ঠিক" করতে করতেই ঠিক করতে চেয়েই কখনও " ভুল" করে বসেন । বিশ্লেষনে ধরা পরলে মানুষের কাছে তা স্বীকার করে নেন সোচ্চারে কারন একমাত্র মানুষের কাছেই তাঁরা দায়বদ্ধ । তা হলে এ বিশ্বাসতো করাই যায় ৩৪ বছর ধরে এত বিপুল মানুষের সমর্থন যেমন অ-কারন ঘটেছে তা নয় ,ঠিক তেমনিই ৩৪ বছর বাদে বেশী মানুষের অ-সমর্থনও অ-কারন ঘটেছে তা নয় ? তা হলে কারনটা কি? মানুষেরতো তা জানা উচিত । হয়তো জানলে মানুষই বলবেন যে ভুল আপনাদের দৃস্টির বাইরে অথচ আপনাদের আলোচনায় আসেনি ।হয়নাকি ? নাকি পেশাদার হলেই তিনি সর্বজ্ঞ হয়ে যান ? মানুষ যা বলেন কিংবা বলতে চান তার দু একটা জানাবো পরবর্তীতে ।এবং তার পর তার পরের কিস্তি । শুভ রাত্রি বন্ধুরা । আবার দেখা হবে পরের অধ্যায়ে । ( ক্রমশঃ)।
Sunday, November 4, 2018
দস্তানার চরিত্র -- ৪
নয়া সাম্রাজ্যবাদ আমেরিকা এবং তার সহযোগীরা বিভক্ত দেশের লাভ কুড়তে মরিয়া । তারা তাদের যুদ্ধাস্ত্র বিক্রীর বড় বাজার তৈরি করলো । দু দেশেই পরে তিন দেশেই তারা যুদ্ধের পৃষ্ঠপোষকতায় মনোযোগী। সন্ত্রাস তাদের হাতিয়ার আজ সমগ্র এশিয়া জুড়ে । পারেনি , পারছেনা চীনকে বাগাতে । এ ছাড়া যেখানেই রয়ে গেছে উপোনিবেশবাদের ক্ষত সেখানেই তারা ছড়াচ্ছে সন্ত্রাস । লক্ষ্য সেই সব দেশের গনতন্ত্র। কারন ওরা জানে গনতন্ত্রের পথ ধরেই বিশ্বে উঠে আসবেই সমাজতন্ত্র ,ঘটবে কম্যুনিস্ট অভ্যুত্থান,এবং পুঁজিবাদের সাম্রাজ্যবাদের চিরকালীন কবরে মাথা তুলে দাঁড়াবে শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্ত মেহনতি মানুষের " লাল ঝান্ডা "। এবং তাই তাদের লুঠের গনতন্ত্রের দস্তানা চাপিয়ে সে দেশের শাসকদের বন্ধুত্বের মুখোশ পরে সাহায্যের নামে খুনী লুঠেরা হাত দস্তানায় ঢেকে তারা দেশগুলিকে করে তুলছে অস্থির । কোথাও বন্দুকের যোগান দিয়ে কোথাও ধর্মের জিগীর তুলে আবার কোথাও তথাকথিত "গনতন্ত্রের " দোহাই দিয়ে । ভৌগলিক কারনেই এবং জনশক্তির কারনে আমাদের সোনার দেশ রীতিমত ধনীই । যে কারনে বার বার বিদেশী আক্রমনে আমার দেশ হয়েছে রক্তাক্ত । কিন্তু তবুও নিঃস্ব করতে পারেনি কেউ । এমনকি ২০০ বছরে ব্রিটিশও । কংগ্রেস শাসনে থাকলেও পণ্ডিত নেহেরুরা ছিলেন সমাজতন্ত্রের সমর্থক । কিন্তু শ্রেনীহীন সমাজ ব্যাবস্থাকে স্বীকার না কোরে সমাজতন্ত্রের চিন্তা সো নার পাথরবাটীর মতই অবাস্তব ,অলীক । তাই শেষ পর্যন্ত সে সরকারটা হয়েছিল ধনীদের ই সরকার । চোরা স্রোতে সাম্প্রদায়িকতা থাকলেও এবং কম্যুনিস্ট পার্টী ছাড়া ভারতের সব রাজনৈতিক দলগুলি শাসন ক্ষমতায় আসতে কিংবা থাকতে তা ব্যবহারও করেছে বার বার । কিন্তু সংবিধানে ঘোষিত " সেকুলারিজম"এর সীমা লঙ্ঘন করেনি । ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে কংগ্রেসের শ্রমিক কৃষক বিরোধী নীতিগুলির বিরুদ্ধে কম্যুনিস্ট পার্টীর নেতৃত্বে জন জাগরন একসময় কংগ্রেসকেও ফ্যাসীবাদী পথে হাঁটতে বাধ্য করে । মানুষের প্রতিরোধে ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায় একদা ব্রিটিশের মদত পুস্ট এবং পরে নয়া সাম্রাজ্যবাদের দোসর "কংগ্রেস "। দেশে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটলো । একদিকে গড়ে উঠলো বাম ফ্রন্ট এবং তার বন্ধু শক্তি অন্যদিকে কম্যুনিস্ট ও বাম বিরোধীরা । সাম্রাজ্যবাদীরা প্রমাদ গুনতে শুরু করলো । ৭০ বছরের সোভিয়েতকে ভেঙ্গে দিয়ে ওরা ভেবেছিলো সমাজতন্ত্রের কবর দেওয়া গেছে । আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের মদতে সমাজতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত , ইয়োরোপে বেশ কিছু রাস্ট্রে সমাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ওরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলো । পোষা প্রচার মাধ্যমগুলি কম্যুনিস্ট মতাদর্শের শরশয্যা রচনায় যখন ব্যাস্ত তখনই পূর্ব ভারতে এবং দক্ষিনে কেরালায় মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে আবারও কম্যুনিস্ট পার্টীর নেতৃত্বে বাম ও গনতান্ত্রিক শক্তি । ওদের পেটোয়া কংগ্রেস আজ নখ দন্ত হীন । চাই নতুন শক্তি । যে হবে বেপরোয়া ,অ গনতান্ত্রিক, এবং সমাজতন্ত্রের এই পিছু হাটার দিনে কর্পোরেট শক্তিকে করবে অবাধ এবং জেট গতিতে, কম্যুনিস্টরা সারা ভারতে সংবিধানগতভাবে শক্তিশালী হওয়ার আগেই । মঞ্চে হাজির বি জে পি তথা আর এস এস এবং তার সহযোগীরা এবং তৃনমূল । কি ভাবে এবং কোন আভ্যন্তরীন পরিস্থিতিতে সে বিষয়ে পরেরবার । (ক্রমশঃ)
Saturday, November 3, 2018
দস্তানার চরিত্র-৩
আমি ভারতবাসী । ভারতবর্ষ আমার দেশ । বহুমুখী লড়াই সংগ্রামের ফসল আমার দেশের স্বাধীনতা । ইংরেজ বানিয়াদের বিরুদ্ধে এই সংগ্রামে কংগ্রেসের সাথে সাথে বহু অন্য সংগঠনের অবদানও অবশ্যই স্বীকার্য । সাঁওতাল বিদ্রোহ, তিতুমীর এর বিদ্রোহ , চোয়াড় বিদ্রোহ , সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ , চন্দ্রশেখর আজাদ ভগত সিং দের অকুতোভয় সংগ্রাম, ঐতিহাসিক নৌ বিদ্রোহ , সুভাস চন্দ্র বসুর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজের ইম্ফল পর্যন্ত আগমন ব্রিটিশ সিংহকে মুষিকে পরিনত করেছিল।। ভারত ছেড়ে তাদের চলে যাওয়া হয়ে উঠেছিলো বাধ্যতামূলক। তাই যাবার আগে নিজেদের অর্থনৈতিক শোষণ অব্যাহত রাখতে তারা ধর্মের নামে ভারতকে দুভাগ করে দিল ভারত এবং পাকিস্তান । পরে আবার পাকিস্তান ভেঙ্গে হল বাংলাদেশ ।কিছু স্বার্থবাদী ক্ষমতা লোভী দেশী বানিয়াদের প্রতিনিধিরা রাতের অন্ধকারে গোপন বোঝাপড়ায় ব্রিটিশদের চুক্তিমত রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভিক্ষা নিল । যে স্বাধীনতা ছিল মহান " অর্জনের " প্রতীক্ষায় তা ভুলুন্থিত হোল । আবুল কালাম আজাদ সহ বহু নেতৃবৃন্দ এবং কম্যুনিস্ট পার্টি এই খন্ডিত স্বাধীনতা মানতে চান নি । এমন কি জিন্নাও প্রথমদিকে ছিলেন না দেশ ভাগের পক্ষে । পরিবর্তে তাঁর দাবী নাকি ছিল সায়ত্ত্ব শাসনের । কিন্তু সেসব কিছুই যাতে না হয় তাই ব্রিটিশ অপেক্ষাকৃত নরম বিরোধীদের রাজী করিয়ে পাশা খেলে রাতের অন্ধকারে ঘোষণা করলো স্বাধীনতা । ইতিহাসে যা খ্যাত " FREEDOM AT MID NIGHT" নামে । মনে আছে দৃপ্ত স্বরে সেদিন কম্যুনিস্ট পার্টীর ডাক ছিলো ' ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যায় "। পরে উনারা নির্দিষ্ট কারনে ও বৃহত্তর স্বারথে ওই স্লোগান থেকে সরে আসেন । কিন্তু মানুষ জানেন ইয়ে আজাদী তাঁরা চান নি । আজাদীর পর কি তা ছিল তাঁদের অজ্ঞাত । ইংরেজ তাড়িয়ে ভারতীয়রা শাসনে বসার নাম স্বাধীনতা না তারপরেরটাই আসল ? সেই পরেরটা কি ? কেমন হবে স্বাধীন দেশের শিল্পনীতি কৃষি নীতি শিক্ষা নীতি আবাসন নীতি স্বাস্থ্য নীতি সাংস্কৃতিক সংরক্ষন ও বোঝাপড়া ? এসবের কোনো পরিষ্কার উচ্চারন সেদিন পাওয়া যায় নি , এই রাজনৈতিক স্বাধীনতার অপরিহার্যতার আবেগিত আবেদন ছাড়া । একমাত্র প্রাপ্তি এই যে আমাদের দেশ " সেকুলারিজম" কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রতিবেশী পাকিস্তানে যা নেই । (ক্রমশঃ)
Subscribe to:
Posts (Atom)