ভারতবর্ষে বর্তমান রাজনীতি আবর্তিত "জোট রাজনীতিতে"। এটাও মার্ক্সবাদী বিশ্লেষন এর অবধারিত পর্যায় । এই পর্যায়তেও নেতৃত্বে থাকতে হবে মার্ক্সবাদীদেরই । তাই শ্রেনী দৃস্টিভঙ্গীর নিরিখে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে লক্ষ্যে পৌছতে মার্ক্সবাদীদের হতে হবে তীক্ষ্ণ ও কৌশলী । আজ দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু বি জে পি তথা আর এস এস । তাই সমস্ত বিরোধিতার মুখকে ধারালো করতে হবে ওদের বিরুদ্ধে এবং ওদের সহযোগী দলগুলোর বিরুদ্ধে ।যেমন পশ্চিমবঙ্গে " তৃনমূল"। তাই প্রাথমিক ভাবে লুঠ হওয়া গনতন্ত্র রক্ষাকে পাখীর চোখ করে বন্ধুর সংখ্যা বাড়াতেই হবে । শত্রু যখন মানুষের কাছেও চিহ্নিত তখন বন্ধু নির্বাচনে খানিকটা প্রশস্ততাও যেমন জরুরী তেমনই জরুরী তীক্ষ্ণ সতর্কতা । কারন শাসকও নিজের শক্তি বাড়াতে "জোট" কেই হাতিয়ার করতে সচেষ্ট ।এমনকি প্রয়োজনে বি জে পি বিরোধী সেজেও মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আসলে এরা গনতন্ত্র রক্ষার জোট কেই ভাঙতে বদ্ধ পরিকর । নিরন্তর আন্দোলন সংগ্রাম এবং নিবীড় জনসংযোগে এই চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে গনতন্ত্রের পতাকাকে তুলে ধরতে হবে । পাশা পাশি বহু যুদ্ধে শানিত বামফ্রন্টকে অর্থাৎ বামফ্রন্টের মধ্যের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বন্ধু নির্বাচনে মতৈক্যে পৌছতে চিরাচরিত ধারনায় নিজেদের অবরুদ্ধ না করে বাস্তব দৃস্টিভঙ্গীর পরিচয় রাখাটাই জরুরী । বন্ধু বা সঙ্গী নির্বাচনে সামান্যতম ভুল এই পরিস্থিতিকে জটীল করে তুলতে পারে । মনে রাখাটা জরুরী --দেশের দাবী ই বাস্তবতা ,নিছক দলীয় দাবী নয় । আর রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা সংগ্রাম আমাদের দেশে বহুধা এবং দীর্ঘস্থায়ী । তাই এখনটাই শেষ নয় । কথাগুলো তুললাম কারন উল্লিখিত সবকটা শুভ এবং অ-শুভ গনতান্ত্রিক জোটের পক্ষে এবং বিপক্ষে চারিত হোচ্ছে ।এবং বাজারী সংবাদ মাধ্যমগুলিও কোমর বেঁধে নেমেছে গনতান্ত্রিক জোট সম্পর্কে মানুষকে হতাশ এবং অবিশ্বাষী করে তুলতে । যেমন এ রাজ্যে তৃনমুলের বিকল্পে বি জে পি কে তুলে ধরে মার্ক্সবাদীদের অগ্রগতিকে অস্বীকার করা । তবে এত চক্রান্তের পরেও শ্রমিক কৃষক সাধারন মানুষ ছাত্র যুব মহিলারা লাখে লাখ সোচ্চার মার্ক্সবাদী কম্যুনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে তথা বাম ফ্রন্টের নেতৃত্বে । নবান্ন অভিযান,সিঙ্গুর থেকে রাজ ভবন অভিযান ,দিল্লীর লাখে লাখ কৃষক সমাবেশ , সারা ভারত শ্রমিক ধর্মঘট গুলি প্রমান করছে বাম ও গনতান্ত্রিক শক্তির দুর্বার উত্থান এবং মার্ক্সবাদীদের অবশ্যম্ভাবী নেতৃত্বের । তাই বামেদের জোটকে হতে হবে নিশ্ছিদ্র । দেশ পরিবর্তনের এক সন্ধিক্ষনে এসে দাঁড়িয়েছে এবং আমাদের সবার দায়িত্ব আছে দস্তানার নীচে লুকোনো কালো রক্তখাগী হাতগুলোকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ।দেশকে ,রাজ্যগুলিকে ,সমাজকে বিপন্মুক্ত করার । ধর্মের দস্তানায় লুকোন কর্পোরেট হাত গুলিকে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেবার । মনে রাখুন ,বাঁচার ইচ্ছেটা প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন আমাদের প্রত্যেকের ।উপায়টা লড়ায়ের ময়দানেই নিরূপিত হবে--অবশ্যই মারক্সবাদীদের নেতৃত্বে । আশা রাখছি সাফল্যের । ধন্যবাদ । লাল সেলাম । (আপাতত এইটুকুই) ।
Saturday, December 1, 2018
Monday, November 26, 2018
৮ এর পর "দস্তানার চরিত্র---৯
আমাদের মত দেশে সংসদীয় গনতন্ত্রে শিক্ষিত মানুষ জনদের প্রতিফলন তুলনামূলক ভাবে অনেক অনেক কম। কারন রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থাটাই সে ভাবে তৈরী যাতে বেশী সচেতন মানুষের প্রতিনিধিত্ব না আসতে পারে পার্লামেন্ট এ কিংবা বিধান সভায় ।উপনিবেশবাদীদের অনুকরনে প্রচলিত এই সংবিধান অন্ততঃ কিছুটা গনমুখী হলেও গন অর্থাৎ বেশীর ভাগ মানুষই জানেন না ,কোনটা তাঁদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ,আর কোনটা তাঁদের আরও দরকার ? এ রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার মানুষের জন্য যে পরিমান কাজ করেছিলেন তা কিন্তু ঐ সংবিধানের অধিকারের মধ্যে ,বদল করে নয় । আর এটাতেই প্রমানিত হয় স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচিত রাজ্য সরকার গুলির থেকে এই সরকারের প্রকৃত সৎ উদ্দেশ্য গুলিকে । অন্যান্য সরকারগুলির থেকে মার্ক্সবাদী সরকারগুলির দৃস্টিভঙ্গীর ফারাক । যুক্ত রাস্ত্রীয় কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখেও । মার্ক্সবাদীদের মূল লক্ষ্য সংসদীয় ব্যাবস্থার আমূল পরিবর্তন , তথা রাস্ট্র যন্ত্রের দখল । আর এটা মার্ক্সবাদীদের কোনো গোপন চক্রান্ত নয় । বরং বলিষ্ঠ ঘোষনা ।এবং তা হবে মার্ক্সবাদী লেনিন বাদী পথেই । সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অর্থে বল প্রয়োগের দ্বারা রাস্ত্র ক্ষমতার দখল আজ এই যুগে এই সময়ে এবং এত বড় দেশে বোধ হয় সম্ভব নয় , অন্ততঃ প্রাথমিক বিশ্লেষনেতো তাই ই মনে হয় । অবশ্য পরিবেশ পরিস্থিতি বদলালে কোন পথে আসবে বেশীর ভাগ মানুষের মুক্তি তা সময়ই বলতে পারে । বর্তমান নয় । অতএব বিকল্প কোনো পথ না পাওয়া পর্যন্ত এই সংসদীয় গনতন্ত্রের পথেই ,এবং এই গনতান্ত্রিক সীমা বদ্ধতার মধ্যেই মার্ক্সবাদীদের হয়ে উঠতে হোচ্ছে সৃস্টিশীল । আর সৃস্টিশীল যে কোনো কাজ কখনোই সরলরেখায় চলে না । আঁকা বাঁকা পথেই তাকে পৌছতে হয় সম্পূর্ণতায়। আর এই চলাটাই সম্পুর্ণতায় পৌছলে চলার এই ছন্দ এই আঁকিবুকিটাই হয়ে যায় একটী ছবি ,আরো একটি প্রয়োগ পদ্ধতি , আরো একটি মার্ক্সবাদী প্রয়োগ । তৈরী হয় নতুন তত্ত্ব । এটাই মার্ক্সবাদী সৃজন শীলতা ,যা অবিনশ্বর এবং সুন্দর । কারন এর মূল চালিকা শক্তি সচেতন মানুষ। আর এ ছবি আঁকতে মার্ক্সবাদীরা বিশ্বাস করেন গনতন্ত্রে । তাই সীমীত হলেও যেটুকু গনতন্ত্র আছে তাকে রক্ষা করতে হবে এবং আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গনতন্ত্রের সীমানা বাড়াতে হবে । যে গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আমাদের শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে কাংখিত " সমাজ তন্ত্রে"। এবং তাই বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর অনেক পার্টি কর্মী কিংবা দরদীদের বলতে শুনি ," সরকারে আসাটা আমাদের লক্ষ্য নয় । আমরা মানুষের সংগ্রামে মানুষের পাশে থাকতে পথেই আছি ।" হ্যাঁ ।পথেইতো থাকতে হবে ।কারন মানুষ পথেই ছিলেন ,পথেই আছেন ,পথেই থাকবেন । কোনো মিনারে নয় । কিন্তু পথ থেকে আমাদের গন্তব্য কোথায়? সংসদীয় গনতন্ত্রের সংগ্রামে নির্বাচন এবং নির্বাচনে জয়লাভটাকে অস্বীকার করি কি করে ? আর নির্বাচনে অংশগ্রহন এবং তাতে জয়লাভ করতে প্রয়োজন শক্তির (সব অর্থে) ব্যাপকতা এবং ব্যাপক শক্তিকে সংগঠিত করা । প্রতিটী এলাকায় এলাকায় সন্ত্রস্ত বিপন্ন আক্রান্ত সর্বস্বান্ত মানুষের কাছে পৌঁছে এ সাহস যোগাতে হবে যে ," পারেন । আপনারাই পারেন। আপনারাই পেরেছিলেন। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরাই পারি এই সন্ত্রাস, আতংক, বেকারীর বিরুদ্ধে , শিল্পের পক্ষে কৃষির পক্ষে শিক্ষার পক্ষে স্বাস্থের পক্ষে লড়াই জারী রাখতে এবং আবার ও বামফ্রন্ট সরকার গড়তে । এবং গনতন্ত্রের পরিধিকে প্রশস্ত করতে সারা দেশের মানুষকে সমবেত করতে বামফ্রন্টের নেতৃত্বে "। চলুন আবারও ডাক তুলি , বামফ্রন্ট সরকার --সংগ্রামের হাতিয়ার"। কারন লড়াইটা আজ একেবারে মুখোমুখী। দস্তানায় তালু লুকিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে করপোরেট তথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি , তারাই এখন মুখোমুখী এ দেশের কোটী কোটী মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কম্যুনিস্ট পার্টি তথা বাম্পন্থীদের । এই লড়াইটা লড়তে গেলে এবং জিততে গেলে একটা সামিট ক্যাম্প বা বেস ক্যাম্প দরকার । ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিন ভারতে সে সম্ভাবনা প্রবল। তাই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সব শক্তি নিয়ে সংগঠনের কাজে। এটাই ভারতের দ্বিতীয় এবং বৃহত্তম স্বাধীনতা যুদ্ধ ।। ( ক্রমশঃ)।
Saturday, November 24, 2018
দস্তানার চরিত্র---৮
প্রসংগ সিঙ্গুর রুপায়নের প্রশ্নে ভুলটা কার ? পার্টির না সরকারের ? জ্যোতি বাবু প্রমোদ বাবু অশোক ঘোষ নিখিল দাস দের সময়ে গৃহীত নীতি ছিলো , " বাম ফ্রন্ট এ আলোচনা কোরে যে কোনো সিদ্ধান্ত্ব গ্রহন করতে হবে " , সরকারের তরফ থেকে যে কোনো প্রস্তাবের বা বাম ফ্রন্ট এর পক্ষ থেকে যে কোনো প্রস্তাব । বাম ফ্রন্ট এর সম্মতি মতোই সরকার এবং পার্টীগুলি একযোগে তা রুপায়নে মাঠে নামবেন । প্রশ্ন , তেমনটা হয়েছিলো কি ? যদি হয়ে থাকে তবে ফ্রন্টের এক বড় শরিক(নাম করছিনা ফ্রন্ট এর অস্তিত্বের প্রয়োজনে ) এর উচ্চ স্তরের নেতাদের সিঙ্গুর বিরোধিতা জন মনে প্রশ্ন তুলেছিলো কেন? ২ ) সি পি আই (এম)এর কৃষক সভার জ্ঞাতে কি টাটার পছন্দের জমি নির্বাচিত হয়েছিলো ? যদি হতো তবে জমি দখলের প্রশ্নে প্রথম দিকে চাষীরা বাধা দিয়েছিলেন কেন ? পরে যদিও কৃষক সভার নেতৃত্বেই জমি দিতে বেশীর ভাগ চাষীই সম্মত হয়েছিলেন এবং সরকারের উন্নয়নের এই উদ্যোগ যে শিল্পের সাথে সাথে তাঁদেরও সার্বিক উন্নয়ন তা তাঁরা উপলব্ধি করে বামফ্রন্ট এর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন । কিন্তু আগেই কৃষক সভাকে সম্মত করে এ কাজে নামলে বেচারামদের জন্ম হোত কি ? তাই মানুষ সাদা চোখে মনে করেন কোথাও একটা সরকারী ঔদ্ধত্য পার্টী এবং ফ্রন্ট কে অন্ধকারে রেখেছিলো । তাই এ ভুল সরকারের । ক্ষতি নিরাময়ে সবাই পরে একজোট হলেও ক্ষতি ঠেকানো গেল না । কারন অশিক্ষিত এবং ধ্বংসকারী শক্তি তৃনমুলের বিরুদ্ধে সরকার তার রাষ্ট্রীয় ভাষা প্রয়োগের বদলে গনতান্ত্রিক ভাষা এবং ব্যাবহার বহাল রাখায় । এক্ষেত্রেও প্রশ্ন থাকে পার্টী ,ফ্রন্ট ,ও সরকারের সাজুয্যতা নিয়ে । অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কম্যুনিস্ট পার্টীর তফাত এই যে ,অন্য দলগুলোর অস্তিত্ব কিংবা না অস্তিত্বর ওপর নির্ভর করে না সাধারন মানুষের জীবন জীবিকা কিংবা নিরাপত্তার প্রশ্ন। কিন্তু কম্যুনিস্ট পার্টী ও কম্যুনিস্ট ভাবাদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে যা একেবারেই বিপরীত । কারন কম্যুনিস্ট পার্টীর একমাত্র স্বার্থ মানুষের শৃংখল মুক্তি ।রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তি ।মার্ক্সবাদী পথে । তাই সাধারন মানুষের ওপর যে কোনো আক্রমন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কিংবা ব্যাক্তিক সে আক্রমন আসলে কম্যুনিস্ট পার্টী কিংবা কম্যুনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী মার্ক্সবাদী পার্টীগুলির ওপরই আক্রমন । আর তাই মানুষ তাকিয়ে থাকেন এই আক্রমনের মোকাবেলায় পার্টীর ভূমিকার এবং নির্দেশের দিকে । এ ক্ষেত্রেও তাই স্বভাবতই পার্টীকে হতে হয় একই সাথে সাবধানী ,সতর্ক, এবং প্রতিরোধী । দায়িত্বটা কঠিন কিন্তু অবশ্য কর্তব্য । প্রশ্ন এখন এই সময়ে পার্টী কোথায়, আমরা কোথায়, আর কি ই বা আজকের রাজ্যের এবং দেশের পরিস্থিতি? কি আমাদের কর্তব্য ? (পরের বার ) ।
Friday, November 23, 2018
দস্তানার চরিত্র---৭
রাজ্যের অর্থে পশ্চিমবঙ্গের ত্রুটীগুলিও সর্বমোট ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টীর (মার্ক্সবাদী) গৃহীত ভুল সিদ্ধান্ত্ব ও কৌশলগুলিরই ফলাফল। উপরন্তু যোগ হলো পার্টীর বেশীটাই আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা । বাম পার্টীগুলিকে কোরে তুললো জন বিচ্ছিন্ন । পার্টীর এবং মানুষের মধ্যের রক্ত মাংসের যোগ যত কমেছে ততই পার্টির মতাদর্শের লড়াই হয়েছে ম্লান । আর এই বিশাল জনবুনোট এর আলগা ফাঁকে বাসা বাঁধলো বিষাক্ত কীট , প্রোমোটার,কন্ট্রাক্টর , চাটুকারদের ছদ্মবেশে। অনেক জেলায় তারাই হয়ে উঠেছিলো পার্টির নিয়ন্তা এবং সাধারন মানুষের কাছে পার্টী তথা সরকারের সেতু । গ্রাম থেকে শহর এমন কি সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও শক্তিশালী হলো একদল রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক " মাফিয়া"। শুধু নেতৃত্ব আজীবন সৎ থেকেও রক্ষা করা যায়নি সামগ্রিক রাজনৈতিক সততা । এই মাফিয়াদের সংখ্যা ছিল তুলনায় কমই , কিন্তু ক্ষমতা ছিলো অসীম । থানা কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যালিটী , পঞ্চায়েত , বিদ্যালয় , মহা বিদ্যালয় , হাসপাতাল , সাংস্কৃতিক অঙ্গন , মোটের ওপর যে সমস্ত স্থানে সাধারন মানুষেরা নিত্য সেখানেই এরাই ছিলো মাতব্বর , লাল মিছিলে পা মিলিয়ে , লাল জামা পরেই । প্রমান ? লক্ষন শেঠ এর মতো লোকেরা । প্রসঙ্গ সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম----------। এ কথা ভুললে চলবে না যে উন্নত পঞ্চায়েত ব্যাবস্থার মাধ্যমে গ্রামীন সরকারকে শক্তিশালী করে একদিন ক্রীতদাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ নুব্জে পড়া কৃষক সমাজকে মেরুদন্ড সোজা করে মাথা উঁচু করে বাঁচার পথ দেখিয়েছিলেন বামফ্রন্ট সরকার । গ্রামের মানুষের চরম অর্থনৈতিক পরাধীনতাকে সম্ভব মতো অবসান করার ফলে বাড়লো গ্রামের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা । তাই পরিকল্পনা মাফিকই তৈরি হোল নতুন নতুন বিদ্যালয় ,মহা বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় । কারন এই সরকার সচেতন ছিলেন যে দেশের বেশীরভাগ মানুষ থাকেন গ্রামে ।এবং দারিদ্রের সংখ্যাও বেশী । তাই ১৯৭৭ এই এক দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার ক্রম সাজিয়ে ছিলেন ।প্রথমে কৃষি , তারপর শিক্ষা, এবং অবশ্যই শিল্প । তাই প্রথম থেকেই লক্ষ্য পূরনে এই সরকার ছিলেন সচল । অর্থাৎ কৃষির উন্নয়নের সাথে সাথেই এগিয়ে যেতে হবে শিক্ষায় । এবং শিক্ষায় এগিয়ে থাকা একটি জাতি কখনই শুধু মাত্র কৃষি কাজে আবদ্ধ থাকতে পারেন না । কারন বেশী মানুষের হাতে পয়সা আসা মানেই বাজারে তাঁদের অধিকারের বৃদ্ধি । তাই বাজার( লুঠের নয় ) এবং শিক্ষাকে সফল করে তুলতে প্রয়োজন ভারী শিল্প । এবং তারই নিরন্তর প্রচেস্টার ফলশ্রুতি সিঙ্গুররের মোটর কারখানা টাটা গোষ্ঠীর । অন্য দিকে পুরুলিয়ায় জিন্দালদের বৃহত্তম ইস্পাত প্রকল্প এবং নন্দীগ্রামে কেমিকাল হাব । প্রমাদ গুনলো বাম বিরোধীরা এবং অবশ্যই কর্পোরেট শক্তি তথা সাম্রাজ্যবাদ । কারন সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যেও কম্যুনিস্টরা কৃষি সমস্যা মিটিয়ে শিল্প ভাবনায় সাফল্য পায় তবে সেই দৃস্ট্বান্ত দেশের অন্য রাজ্যগুলিকেও বিকল্প ভাবনায় সাহসী করে তুলবে । এবং কম্যুনিস্ট তথা বাম শক্তির প্রসার ঘটবে । সংসদীয় গনতন্ত্রের মধ্যে থেকেও পরীক্ষা নীরিক্ষার এই সফল প্রয়োগ শুধু ভারত নয় ,এশিয়া মহাদেশের থেকেও সাম্রাজ্যবাদ তথা করপোরেট শক্তির কাছে যেন অন্তিম বার্তা । তাই যে ভাবেই হোক একে রুখতে হবে । প্রয়োজনে সব শক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করে । এবং তা করতে হাতিয়ার হয়ে উঠলো বাম্ফ্রন্ট ও সি পি আই (এম ) এর ভুলগুলি এবং ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্নতা । অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর দুর্বল প্রশাসনিক চরিত্র । বাংলাকে তছনছ করতে বিদেশী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি কোমর বেঁধে নামলো । জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ রইলো ২১দিন । আদালতের সুস্পস্ট রায় সরকারের পক্ষে। অথচ সরকার তার রাস্ত্রীয় ক্ষমতার প্রয়োগ না করে দিনের পর দিন আলোচনায় মীমাংসায় পৌঁছতে সচেস্ট থেকে ওদের সংগঠিত ও সাহসী হয়ে উঠতে শক্তি জোগালো । শিক্ষিত মানুষ বুদ্ধ বাবু ভুলে গেলেন যে অশিক্ষিত এবং "একা" একজন ক্ষমতা লোভীকেই বেছে নিয়েছে করপোরেট শক্তি । যাতে লুম্পেন দ্বারাই চালিত করানো যায় তাকে । তাই প্রায় শেষ হবার মুখে টাটার কারখানা বন্ধ হয়ে গেল ।পরিকল্পনা করেই নন্দীগ্রামে চলল অবরোধ - মাও বাদী দের ভাড়া করে । "পরিবর্তনের " আওয়াজ তুলে তাকে সফল করতে ওই দুস্ট শক্তি অই সাহসটিকেই পুঁজি করলো । তারপরটাযে সুখকর নয় এ আর না জানা আছে কার ? এখন প্রশ্ন সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম প্রশ্নে ভুলটা কার ? সরকারের না পার্টীর ? ( ক্রমশঃ)
Thursday, November 22, 2018
দস্তানার চরিত্র--৬
দস্তানা-৫ এ কথা ছিল ৩৪ বছরের জনমুখী সরকার চালানো সত্ত্বেও এই সরকারের পতন কেন? সাধারন মানুষের বিবেচনায় ভুলগুলি কি ? এই বিবেচনার মধ্যে হয়তো পাওয়া নাও যেতে পারে কোনো তত্ত্বের দ্বান্দিক বিশ্লেষন। বিজ্ঞ তর্কযুদ্ধে হয়তো নাস্তানাবুদ হবেন সাধারন বামপ্রিয় মানুষেরা। কিন্তু তবু তাঁদের সোজা সাপ্টা কথাগুলি একেবারে অদ্বান্দিক এবং অ -দূরদর্শী এমনটা ভেবে অভিজ্ঞ মার্ক্সবাদী সাজলে এ বিপদ আসবে বারবার । আর ঠিক এখনকার রাজনৈতিক বাতাবরন যেন মানুষের অনুভবের সোজাসাপ্টা প্রকাশকেই যুক্তিনিষ্ঠ করে। ১) কমরেড সইফুদ্দিন চৌধুরী যখন সিপিয়াই (এম) এর নেতা ছিলেন এবং অত্যন্ত সুদক্ষ সাংসদ ,তখন তাঁর একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষন "কংগ্রেস" সম্পর্কে এবং বামেদের দায়িত্ব যা নেতৃত্ব মানেন নি এবং কমরেড সইফুদ্দিন এর সাথে পার্টি সম্পর্ক ছিন্ন হয় বা করা হয় তা যে সঠিক পরবর্তিকালে ইউ পি এ -১ গঠনের মধ্যেই প্রমানিত । ২) প্রসিদ্ধ পার্টীনেতা ও জননেতা কমরেড জ্যোতি বসু কে প্রধান মন্ত্রী হতে না দেওয়া। মনে রাখতে হবে বুরজোয়ারা এ সময় নেতৃত্বহীন এবং বিপরীতে জোট সরকার পরিচালনায় কমরেড জ্যোতি বসু এবং সি পি আই (এম) এর কৃতকার্যতা এবং বড় দল হয়েও জোট কে প্রাধান্য দেওয়ার বিশ্বস্ততায় কমরেড জ্যোতি বসুর প্রতি ওদের আহ্বান ছিলো সময়ের বিচারে অবশ্যম্ভাবী । কিন্তু এ ক্ষেত্রেও পার্টীর রক্ষনশীল মনোভাবে পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহনের এবং তা অনুযায়ী রননীতি তৈরী করার সাহস এবং কুশলতা নেতৃত্বের দুর্বলতাকেই প্রকট করেছে। বাংলার তথা ভারতের মানুষের মনে তা চুড়ান্ত আঘাত হানে । অভিজ্ঞ কম্যুনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু "ঘুম ভাঙ্গাতে " আওয়াজ তুললেন " ঐতিহাসিক ভুল" । কিন্তু রক্ষনশীল ভীতু নেতৃত্বের তাতে ঘুম ভাংগেনি । বরং আরো বেশী করে চাদর টেনে দিবানিদ্রায় গেলেন ,যখন দেশ জুড়ে পুঁজিপতিদের সমর্থনে বিপজ্জনক ও ভয়ানক সাম্প্রদায়িক শক্তি আর এস এস তথা বি জে পি নিজেদের শক্তিশালী করতে জোট সঙ্গীর সন্ধানে তাদের রাজনৈতিক উদ্যোগে জোর দিচ্ছে । মনে রাখুন আজকের সারা দেশের ওপর নেমে আসা এমন রক্তাক্ত দিন ,গনতন্ত্রের অবনায়নের তীব্র গতির আঁতুড়ঘর ছিল সেই "ঐতিহাসিক ভুল"। ৩) দীর্ঘ পরীক্ষিত সি পি আই (এম ) নেতা ,বিশিস্ট ব্যাবহারজীবি সি পি আই(এম) সাংসদ ,পশ্চিমবঙ্গ শিল্প নিগম এর বাম ফ্রন্ট এর সময়ের চেয়ার ম্যান এবং পার্টির অনুমোদনে ইউ পি এ-১ সরকারের লোকসভার অধ্যক্ষ (যে সরকার বামেদের সমর্থনে গঠিত কংগ্রেস পরিচালিত সরকার ) মাননীয় কমরেড সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় কে ভুল কারনে পার্টি থেকে বহিস্কার যা বাংলার মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি ।( কারণটিও একটি ঐতিহাসিক ভুল। বহু আলোচিত।তাই আর উল্লেখ করলাম না ) ।এবং ৪ ) ইউ পি এ ১ থেকে তার মেয়াদ উত্তীর্ণ (আর অল্প কিছু দিন ছিলো) হওয়ার আগেই " নিউক্লিয়ারস ইস্যুতে" সমর্থন তুলে নেওয়া । মানুষের বিশ্বাস কমরেড জ্যোতি বসুর বাস্তবতাবোধও নিশ্চয় ছিলো পার্টির এই সিদ্ধান্ত্বের বিরুদ্ধে । সঠিক জানি না । তবে মানুষের জীবন বোধ দিয়ে চেনা জ্যোতি বাবু সম্পর্কে মানুষের এ বিশ্বাসকে অমর্যাদা করার সাহস না দেখানোই ভালো। আর এই ভুলের পরিনাম কংগ্রেসের হাত ধরে বিক্ষুব্ধ বাংলার মনের চাপা আঁচে বাতাস দিয়ে কংগ্রেস জাত বি জে পি পালিত তৃনমূলের তথা সংগঠিত লুম্পেন শক্তির বিপুল উত্থান এবং সরকার থেকে বাম ফ্রন্টের পতন । উল্লিখিত ভুলগুলি শুধু মাত্র কম্যুনিস্ট নেতৃত্বের ভুল, কেন্দ্রিয় ভাবে । এবার আলোচনা রাজ্য স্তরে । (ক্রমশঃ)
Thursday, November 15, 2018
দস্তানার চরিত্র----৫
১৯৭৭- ২০ শে জুন কংগ্রেস ঘোষিত জরুরী অবস্থা মোকাবেলা করে পশ্চিমবঙ্গে বহু নির্যাতন খুন সন্ত্রাসের জবাব কমরেড জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে প্রথম " বাম ফ্রন্ট সরকার"। মনে রাখতে হবে "বাম ফ্রন্ট' পর্যন্ত পৌঁছতে বাম নেতৃত্বকে পেরোতে হয়েছে অনেকখানি পথ । প্রথমে "বাম ও গনতান্ত্রিক " ঐক্য এবং "যুক্ত ফ্রন্ট" সরকার । কেন্দ্রের বে আইনী আক্রমন .৩৫৬ ধারার প্রয়োগে সরকারের পতন । কিছু তথাকথিত গনতান্ত্রিকদের দস্তানা খুলে কালো হাতের দর্শন । কম্যুনিস্টরা রইলেন মানুষের সঙ্গে । আবার নির্বাচন । এবার আরো বড় জয় । তৈরি হল দ্বিতীয় " যুক্ত ফ্রন্ট" সরকার । আবারো আক্রমন। চলল এম এল এ কেনা বেচা। আবারো ৩৫৬ র প্রয়োগ ,সরকারের পতন । এবং সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে চাপানো হোলো " কুখ্যাত রাস্ত্রপতি শাসন"। আবারও নতুন লড়াই । নতুন কৌশল । নীতিগত ভাবে বামপন্থীরা বুঝলেন "যুক্ত ফ্রন্ট" এর প্রয়োজন ফুরিয়েছে । মানুষের কাছে ওই ফ্রন্ট তার বিশ্বাস রাখতে পারেনি । ওই ফ্রন্টের মধ্যের কিছু শক্তি যারা প্রকৃত কংগেস জাত তাদের আক্রমনের মুল লক্ষ্য সি পি আই (এম) ও তার বন্ধু শক্তিদের । অতএব সি পি আই ( এম) নেতৃত্ব ডাক দিলেন শুধু " বাম ফ্রন্ট "। আন্দোলন সংগ্রাম মানুষ চাইলে সরকার ও গড়বেন "বাম ফ্রন্ট ' । মানুষের চাওয়াও যে ছিলো একদম তাই তার প্রমান রাজ্যে বিপুল সংখ্যাধিক্যে ~ বামফ্রন্ট সরকার । এবং জ্যোতি বসুর ঘোষনা , এ রাজ্যের সরকার চলবেনা মহাকরন থেকে । এ সরকার চলবে সমস্ত মানুষের দ্বারা তাঁদের কেন্দ্রগুলী থেকে --গ্রাম থেকে । শুরু হলো কর্ম যজ্ঞ । গঠিত হলো পঞ্চায়েত রাজ অর্থাৎ গ্রামগুলীর নিজেদের সরকার । কৃষকদের স্বার্থে অপারেশন বর্গা । জমিতে কৃষকদের দেওয়া হল লুঠ হয়ে যাওয়া অধিকার । দেওয়া হল দল মত নির্বিশেষে সমস্ত রাজ নৈতিক কারনে আটকে রাখা রাজনৈতিক বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি,শিক্ষার বিস্তারে উপযোগী ভুমিকা এবং কৃষির উন্নয়নের সাথে সাথে শিল্পের উদ্যোগ ইত্যাদি আরো বহু জনমুখী কাজ যা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনোন্নয়নে আন্তরিক । কমরেড প্রমোদ দাসগুপ্ত ,হরেকৃষন কোনার প্রভাস রায় ,ডক্টর অশোক মিত্রর মত ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে এ রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার মার্ক্সবাদের ও এক নতুন পরীক্ষা । যুক্ত রাস্ট্রীয় কাঠামোকে অক্ষুন্ন রেখেই সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যে থেকেও মানুষের বিপুল সমর্থনে এই সরকারের ৩৪ বছর প্রমান করেছে মারক্সবাদীরা কতটা সৃস্টিশীল । এখন প্রশ্ন তবুও মানুষেরই রায়ে বিশেষত গ্রামের মানুষের দ্বারা এই জনপ্রিয় বামফ্রন্ট প্রত্যাখ্যাত হলো কেন ? সমস্যাটা কি পার্টির ঘোষিত নীতিগুলির রুপায়নে সরকার থেকে সরকার ঘোষিত নীতিগুলির পার্টীর রুপায়নের ফারাক ? ফলে জন বিচ্ছিন্নতা ? কম্যুনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী পার্টীর সরকারী পার্টীতে পরিনত হওয়ার একটা ভয়ানক বিচ্যুতি? জানিনা । আমি একজন সাধারন নাট্যকর্মী মাত্র । সমাজ রাজনীতি অর্থনীতি এবং মানুষের ভাঙ্গা গড়ার ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থেকেই (আমার সীমাবদ্ধতা নিয়েই) নাটক করে চলেছি । তাই আমি নয় । এ সংশয়ের নিরশন করবেন পেশাদার রাজনৈতিক মানুষজন ,যারা রাজনীতির প্রয়োগে ভুলও করেন আবার ঠিকও করেন । ফারাক আছে । একদল ক্রমাগত ভুল করতে করতে হয়তো কখনও এক আধটা ঠিক করতে বাধ্য হয় ( ব্যাঙ্ক জাতীয়করন) নিজেদের পেশাকে বাঁচাতে । তাই তারা " ভুল" বলে কিছু স্বীকার করে না । বরঞ্চ ঘটে যাওয়া একটি বা দুটি "ঠিক" কে হাতিয়ার করে নিজেদের জয়ঢাক বাজায় ।বিপরীতে পেশাদার রাজনীতিক কম্যুনিস্টরা তথা বামেরা "ঠিক" করতে করতেই ঠিক করতে চেয়েই কখনও " ভুল" করে বসেন । বিশ্লেষনে ধরা পরলে মানুষের কাছে তা স্বীকার করে নেন সোচ্চারে কারন একমাত্র মানুষের কাছেই তাঁরা দায়বদ্ধ । তা হলে এ বিশ্বাসতো করাই যায় ৩৪ বছর ধরে এত বিপুল মানুষের সমর্থন যেমন অ-কারন ঘটেছে তা নয় ,ঠিক তেমনিই ৩৪ বছর বাদে বেশী মানুষের অ-সমর্থনও অ-কারন ঘটেছে তা নয় ? তা হলে কারনটা কি? মানুষেরতো তা জানা উচিত । হয়তো জানলে মানুষই বলবেন যে ভুল আপনাদের দৃস্টির বাইরে অথচ আপনাদের আলোচনায় আসেনি ।হয়নাকি ? নাকি পেশাদার হলেই তিনি সর্বজ্ঞ হয়ে যান ? মানুষ যা বলেন কিংবা বলতে চান তার দু একটা জানাবো পরবর্তীতে ।এবং তার পর তার পরের কিস্তি । শুভ রাত্রি বন্ধুরা । আবার দেখা হবে পরের অধ্যায়ে । ( ক্রমশঃ)।
Sunday, November 4, 2018
দস্তানার চরিত্র -- ৪
নয়া সাম্রাজ্যবাদ আমেরিকা এবং তার সহযোগীরা বিভক্ত দেশের লাভ কুড়তে মরিয়া । তারা তাদের যুদ্ধাস্ত্র বিক্রীর বড় বাজার তৈরি করলো । দু দেশেই পরে তিন দেশেই তারা যুদ্ধের পৃষ্ঠপোষকতায় মনোযোগী। সন্ত্রাস তাদের হাতিয়ার আজ সমগ্র এশিয়া জুড়ে । পারেনি , পারছেনা চীনকে বাগাতে । এ ছাড়া যেখানেই রয়ে গেছে উপোনিবেশবাদের ক্ষত সেখানেই তারা ছড়াচ্ছে সন্ত্রাস । লক্ষ্য সেই সব দেশের গনতন্ত্র। কারন ওরা জানে গনতন্ত্রের পথ ধরেই বিশ্বে উঠে আসবেই সমাজতন্ত্র ,ঘটবে কম্যুনিস্ট অভ্যুত্থান,এবং পুঁজিবাদের সাম্রাজ্যবাদের চিরকালীন কবরে মাথা তুলে দাঁড়াবে শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্ত মেহনতি মানুষের " লাল ঝান্ডা "। এবং তাই তাদের লুঠের গনতন্ত্রের দস্তানা চাপিয়ে সে দেশের শাসকদের বন্ধুত্বের মুখোশ পরে সাহায্যের নামে খুনী লুঠেরা হাত দস্তানায় ঢেকে তারা দেশগুলিকে করে তুলছে অস্থির । কোথাও বন্দুকের যোগান দিয়ে কোথাও ধর্মের জিগীর তুলে আবার কোথাও তথাকথিত "গনতন্ত্রের " দোহাই দিয়ে । ভৌগলিক কারনেই এবং জনশক্তির কারনে আমাদের সোনার দেশ রীতিমত ধনীই । যে কারনে বার বার বিদেশী আক্রমনে আমার দেশ হয়েছে রক্তাক্ত । কিন্তু তবুও নিঃস্ব করতে পারেনি কেউ । এমনকি ২০০ বছরে ব্রিটিশও । কংগ্রেস শাসনে থাকলেও পণ্ডিত নেহেরুরা ছিলেন সমাজতন্ত্রের সমর্থক । কিন্তু শ্রেনীহীন সমাজ ব্যাবস্থাকে স্বীকার না কোরে সমাজতন্ত্রের চিন্তা সো নার পাথরবাটীর মতই অবাস্তব ,অলীক । তাই শেষ পর্যন্ত সে সরকারটা হয়েছিল ধনীদের ই সরকার । চোরা স্রোতে সাম্প্রদায়িকতা থাকলেও এবং কম্যুনিস্ট পার্টী ছাড়া ভারতের সব রাজনৈতিক দলগুলি শাসন ক্ষমতায় আসতে কিংবা থাকতে তা ব্যবহারও করেছে বার বার । কিন্তু সংবিধানে ঘোষিত " সেকুলারিজম"এর সীমা লঙ্ঘন করেনি । ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে কংগ্রেসের শ্রমিক কৃষক বিরোধী নীতিগুলির বিরুদ্ধে কম্যুনিস্ট পার্টীর নেতৃত্বে জন জাগরন একসময় কংগ্রেসকেও ফ্যাসীবাদী পথে হাঁটতে বাধ্য করে । মানুষের প্রতিরোধে ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায় একদা ব্রিটিশের মদত পুস্ট এবং পরে নয়া সাম্রাজ্যবাদের দোসর "কংগ্রেস "। দেশে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটলো । একদিকে গড়ে উঠলো বাম ফ্রন্ট এবং তার বন্ধু শক্তি অন্যদিকে কম্যুনিস্ট ও বাম বিরোধীরা । সাম্রাজ্যবাদীরা প্রমাদ গুনতে শুরু করলো । ৭০ বছরের সোভিয়েতকে ভেঙ্গে দিয়ে ওরা ভেবেছিলো সমাজতন্ত্রের কবর দেওয়া গেছে । আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের মদতে সমাজতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত , ইয়োরোপে বেশ কিছু রাস্ট্রে সমাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ওরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলো । পোষা প্রচার মাধ্যমগুলি কম্যুনিস্ট মতাদর্শের শরশয্যা রচনায় যখন ব্যাস্ত তখনই পূর্ব ভারতে এবং দক্ষিনে কেরালায় মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে আবারও কম্যুনিস্ট পার্টীর নেতৃত্বে বাম ও গনতান্ত্রিক শক্তি । ওদের পেটোয়া কংগ্রেস আজ নখ দন্ত হীন । চাই নতুন শক্তি । যে হবে বেপরোয়া ,অ গনতান্ত্রিক, এবং সমাজতন্ত্রের এই পিছু হাটার দিনে কর্পোরেট শক্তিকে করবে অবাধ এবং জেট গতিতে, কম্যুনিস্টরা সারা ভারতে সংবিধানগতভাবে শক্তিশালী হওয়ার আগেই । মঞ্চে হাজির বি জে পি তথা আর এস এস এবং তার সহযোগীরা এবং তৃনমূল । কি ভাবে এবং কোন আভ্যন্তরীন পরিস্থিতিতে সে বিষয়ে পরেরবার । (ক্রমশঃ)
Saturday, November 3, 2018
দস্তানার চরিত্র-৩
আমি ভারতবাসী । ভারতবর্ষ আমার দেশ । বহুমুখী লড়াই সংগ্রামের ফসল আমার দেশের স্বাধীনতা । ইংরেজ বানিয়াদের বিরুদ্ধে এই সংগ্রামে কংগ্রেসের সাথে সাথে বহু অন্য সংগঠনের অবদানও অবশ্যই স্বীকার্য । সাঁওতাল বিদ্রোহ, তিতুমীর এর বিদ্রোহ , চোয়াড় বিদ্রোহ , সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ , চন্দ্রশেখর আজাদ ভগত সিং দের অকুতোভয় সংগ্রাম, ঐতিহাসিক নৌ বিদ্রোহ , সুভাস চন্দ্র বসুর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজের ইম্ফল পর্যন্ত আগমন ব্রিটিশ সিংহকে মুষিকে পরিনত করেছিল।। ভারত ছেড়ে তাদের চলে যাওয়া হয়ে উঠেছিলো বাধ্যতামূলক। তাই যাবার আগে নিজেদের অর্থনৈতিক শোষণ অব্যাহত রাখতে তারা ধর্মের নামে ভারতকে দুভাগ করে দিল ভারত এবং পাকিস্তান । পরে আবার পাকিস্তান ভেঙ্গে হল বাংলাদেশ ।কিছু স্বার্থবাদী ক্ষমতা লোভী দেশী বানিয়াদের প্রতিনিধিরা রাতের অন্ধকারে গোপন বোঝাপড়ায় ব্রিটিশদের চুক্তিমত রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভিক্ষা নিল । যে স্বাধীনতা ছিল মহান " অর্জনের " প্রতীক্ষায় তা ভুলুন্থিত হোল । আবুল কালাম আজাদ সহ বহু নেতৃবৃন্দ এবং কম্যুনিস্ট পার্টি এই খন্ডিত স্বাধীনতা মানতে চান নি । এমন কি জিন্নাও প্রথমদিকে ছিলেন না দেশ ভাগের পক্ষে । পরিবর্তে তাঁর দাবী নাকি ছিল সায়ত্ত্ব শাসনের । কিন্তু সেসব কিছুই যাতে না হয় তাই ব্রিটিশ অপেক্ষাকৃত নরম বিরোধীদের রাজী করিয়ে পাশা খেলে রাতের অন্ধকারে ঘোষণা করলো স্বাধীনতা । ইতিহাসে যা খ্যাত " FREEDOM AT MID NIGHT" নামে । মনে আছে দৃপ্ত স্বরে সেদিন কম্যুনিস্ট পার্টীর ডাক ছিলো ' ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যায় "। পরে উনারা নির্দিষ্ট কারনে ও বৃহত্তর স্বারথে ওই স্লোগান থেকে সরে আসেন । কিন্তু মানুষ জানেন ইয়ে আজাদী তাঁরা চান নি । আজাদীর পর কি তা ছিল তাঁদের অজ্ঞাত । ইংরেজ তাড়িয়ে ভারতীয়রা শাসনে বসার নাম স্বাধীনতা না তারপরেরটাই আসল ? সেই পরেরটা কি ? কেমন হবে স্বাধীন দেশের শিল্পনীতি কৃষি নীতি শিক্ষা নীতি আবাসন নীতি স্বাস্থ্য নীতি সাংস্কৃতিক সংরক্ষন ও বোঝাপড়া ? এসবের কোনো পরিষ্কার উচ্চারন সেদিন পাওয়া যায় নি , এই রাজনৈতিক স্বাধীনতার অপরিহার্যতার আবেগিত আবেদন ছাড়া । একমাত্র প্রাপ্তি এই যে আমাদের দেশ " সেকুলারিজম" কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রতিবেশী পাকিস্তানে যা নেই । (ক্রমশঃ)
Wednesday, October 31, 2018
দস্তানার চরিত্র--২
মানুষ ই শেষ কথা বলেন ।না । এটা কোনো তত্ত্ব কথা নয় । এটা প্রমানিত সত্য । মানুষের ওপর যে কোনো শাসকের চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় তাই শেষ পর্যন্ত মানুষই প্রতিহত করেন । মার্ক্সবাদীরা এই মতাদর্শে স্থির বলেই বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদ এবং পুঁজিবাদীদের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মোকাবেলা করে পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের প্রয়াসে অবিরত এবং আস্থাশীল । চীন ,পূর্বতন সোভিয়েত, ভিয়েতনাম ,কিউবা ,ভেনেজুয়েলা,প্রভৃতি আরো অনেক দেশ তার প্রমান । তাই পুঁজিবাদীদের প্রধান শত্রু মার্ক্সবাদ। লড়াইটাও স্বাভাবিক কারনেই কম্যুনিস্টদের সঙ্গে বাজারীদের । মানুষকে বিভ্রম ঘটাতে ওরা তথাকথিত গনতন্ত্র ( আসলে যা শুধু ওদের লুঠের গনতন্ত্র) ,উন্নয়ন ( আসলে যা শুধু লুঠেরাদের উন্নয়ন) এইসব মনমোহিনী "দস্তানা" পরিধান করে । কখনো কখনো ওরা সাময়িক ভাবে জেতেও । যেমন পুরনো সোভিয়েত ,পুরোনো পূর্ব জার্মানি ,রোমানিয়া থেকে এই হালে ব্রাজিল। মজা হল খোদ আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের অভ্যন্তরেই আজ বেকারী ,দারিদ্র্য ,নিরাপত্তাহীনতা সেখানকার মানুষদের গ্রাস করছে ।অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা আজ টালমাটাল । গোটা ইওরোপ জুড়েই আজ পুঁজির সংকোট চরমে। কিন্তু প্রচার মাধ্যমগুলি সেই প্রচারে উদাসীন ।কারন তাদেরও মূল শত্রু মার্ক্সবাদ এবং কম্যুনিস্ট পার্টী ।তাই যে রাস্ট্রগুলি সাম্রাজ্যবাদের মোকাবেলা করে মার্ক্সবাদী ভাবধারায় তৃনমূল স্তর থেকে যথার্থ উন্নয়নে নিমগ্ন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে চালায় লাগাতার " দারিদ্র আর অসহায়ত্বের" ভুয়ো প্রচার। মানুষকে পুঁজিবাদে ফেরাতে পুঞ্জীবাদী ভোগবাদকে করে তোলে রঙ্গীন । তাই এ সংঘর্ষ চলবেই যতদিন না পাশাপাশী অনেক রাস্ত্র " সমাজতন্ত্র" কায়েম করে ।আর সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারও চলবে ।তবু বিজ্ঞান কে পথভ্রস্ট করে কে?।সারা পৃথিবীতেই একদিন সমাজতন্ত্র কায়েম হবেই এবং তারপর শ্রেনীহীন সীমানাহীন রাস্ট্রহীন এক নতুন পৃথিবী ,মার্ক্সবাদের শেষ উত্তরমালায় । মুখ আর মুখোশের ,হাত আর দস্তানার প্রতিদিনকার লড়াইয়েই মানুষ মুখোশ ছিঁড়ে মুখ ,আর দস্তানা ছিঁড়ে সত্যি হাতের তালু দেখবেনই ।আজ না হয় কাল । (ক্রমশঃ)
Tuesday, October 30, 2018
দস্তানার চরিত্র
অতিরিক্ত শীত বা গরম থেকে হাত বাঁচাতে দস্তানার ব্যবহারতো সবার ই জানা । মুখ আর মুখোশের যেমন বৈরিতা বা সখ্যতা হাত আর দস্তানার ও বোধ হয় তাই ।। যেমন মুখ জানে "সত্যি " কি ? মুখোশের আড়ালে সে সত্যিকে লুকোয় । আবার হাতও জানে "বাস্তব" কি? দস্তানার আড়ালে সে বাস্তবতা লুকোতে চায় । এমন লুকোচুরির প্রসংগ এলো বর্তমান সময়ের আন্তর্জাতিক এবং আমার দেশের রাজনীতির হালচাল এর পর্যালোচনা করতে চেয়ে । সারা বিশ্বে মধ্য আমেরিকা ( লাতিন আমেরিকা) জুড়ে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের কবল থেকে মুক্তি পেতে চলছে নিরন্তর প্রয়াস । মুলত ফিদেল এর পথে এবং কিউবার প্রেরনায় চে-গুয়েভারাকে আদর্শ করে মার্ক্সবাদী মতাদর্শে এই লড়াইটা চলছেই । পাশাপাশি আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের ধর্ম অনুযায়ী আর পুরোনো কায়দায় তার আগ্রাসন চালাতে পারছে না ।তাই তার রক্ত লোলুপ সাম্রাজ্যবাদী হাতটা লুকোতে পরিধান করেছে " গনতন্ত্রের" সাদা দস্তানা । লক্ষ্য নির্বিবাদে অপরের দেশের সম্পদ লুন্থন করে নিজেদের দানবীয় শক্তি কায়েম রাখা । ইরাকের তেল চাই । তাই গনতন্ত্রের সাদা দস্তানার আড়ালে মিথ্যা অভিযোগে শ্বান্ত ইরাককে অশান্ত করে যুদ্ধ বাধিয়ে সাদ্দামের ফাঁসী । তার পরেও চলল বিচারের নামে অকাতরে প্রাণদণ্ড ,কারাবাস ।ইরাক দখল নিলো আমেরিকান সৈন্য বাহিনী । মনে রাখতে হবে সাদ্দাম কিন্তু ছিলেন তীব্র কম্যুনিস্ট বিদ্বেষী । কিন্তু একই সঙ্গে ছিলেন আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের ও শত্রু । তাই আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর বীরোচিত লড়াইএ ছিলো না সেই দেশের ব্যাপক অংশের অংশগ্রহন । ফলে আধুনিকতম অস্ত্র প্রযুক্তির জোরে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের সহজ জয় এবং ইরাকের শাসকের পরাজয় ।জনতার নয় । বশংবদ প্রচারমাধ্যম গুলির সে জয়ের প্রচার ছিল যেন দীপাবলীর উৎসবের মত । যুদ্ধের বিপজ্জনক বীভৎসতা পরিবেশিত হল রঙ্গীন বিনোদোনের মত । আবার এক ই সাথে প্রবল মদমত্ততার জয়ধ্বনি ,বিশ্বের প্রতি হুঁশিয়ারি -- খবরদার । রাস্ট্রের শক্তি সেনা পুলিশ বন্দুক নয় । রাস্ত্রের শক্তি সেই রাস্ট্রের মানুষ , সেই মানুষ যে মানুষ তাঁদের শ্রম দিয়ে দেশকে সম্পদশালী করেন, মনন দিয়ে গড়ে তোলেন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য । কোন দেশ যদি তার সেই মূল শক্তিকে অস্বীকার করে অস্ত্র শক্তিতেই নিজেদের বলীয়ান ভাবেন তবে এভাবেই যুদ্ধোন্মাদরা যুদ্ধজয়ের প্রচার করতেই থাকবে । তাই বলে ইরাক এর মানুষ কি থেমে ছিলেন ? না। তাঁরা তৈরী হচ্ছিলেন শেষ যূদ্ধের সূচনা করতে ,এবং অবশ্যই মার্ক্সবাদী পথে । তাঁরা জয়ী । ইরাকে আজ লাল ঝান্ডার জয়জয়কার । (ক্রমশঃ)
Friday, October 26, 2018
"শপথ"এর আগামী ভাবনা।
শপথ তাদের উল্লেখযোগ্য বহু প্রযোজনার সারনি থেকে মাত্র কয়েকটীকে পুনরমঞ্চায়নের মাধ্যমে সময়কে এবং নিজেদেরকেও একটু ফিরে দেখতে চায় । দায়হীন কোনো প্রযোজনায় " শপথ" এর অবিশ্বাস দৃঢ় তা শপথের দীর্ঘ দিনের দর্শককুল জানেন এবং তাই সমবেত হয়েছেন ,হন , এবং হবেন ও। ১৯৭৬ এর ২৪ শে সেপ্টেম্বের শিবপুর পাব্লিক লাইব্রেরীর ননীভুষন সিংহ মেমরিয়াল হলে মৌলিক নাট্য "অংকুর ' দিয়ে শপথের পথ চলা শুরু ।তার পর বহু প্রযোজনা মঞ্চে পথে মাঠে ময়দানে ।মানুষের প্রয়োজনে তাদের সান্নিধ্যে। স্বরচিত বহু গানও শপথ এর সম্পদ । শপথ এর সব নাটকেই গান অবশ্যম্ভাবী এবং প্রশংসিত । এই সব কিছু নিয়েই একটা ভাবনা " ফিরে দেখার"। ফিরে দেখা সময়কে এবং সময়ের নিরিখে নিজেদের ও । একটু মিলিয়ে নেবার চেস্টা বদলালো কতটা? বদলটা গুনগত না প্রথাগত কিংবা মানগত ? তাই ভাবনা নির্বাচিত কয়েকটি প্রযোজনা , কিছু গন সংগীতের প্রকাশ এবং অবশ্যই কিছু নাটকের গানের প্রকাশ দৃশ্যের বিবরন সহ । বেশীটাই শপথের নাটকের গান এবং কিছু অন্য নাটকেরও গান যার সুরারোপ ও আমার । হয়তো বার করা হবে কিছু প্রবন্ধ যা জারিত বিভিন্ন সময়ের আঁচড়ে। যে প্রযোজনাগুলি প্রাথমিক ভাবে ভাবনায় তার এক ঝলক------ অংকুর, ক্ষুদিরামের -মা ,ধর্মযুদ্ধ, উপমা, খিল , এওজালম্ব , অন্য গান্ধী, এবং ভাঙ্গন । এই সমস্ত কর্ম কান্ডে প্রয়োজন এক ঝাঁক গান জানা (গাইয়ে নয়) সংস্কৃতি মন ছেলে মেয়ে এবং লোক । বয়স কোনো বাধা নয় । কারন নদী সব পথ দিয়েই তার গতি করে নেয় । প্রয়োজন শুধু ঢাল টা । শপথ নাটক শেখায় ।ধার করে ধনীতে বিশ্বাস করে না । আর তাই শপথের ছাত্র ছাত্রীরা আজ দিকে দিকেই উন্নত সংগঠক, পরিচালক, নাট্যকার ও অভিনেতা । ছোট বড় পর্দায় ও তারা সাবলীল । শিক্ষার ধর্মইতো তাই । আহবান করছি উৎসাহীদের। যোগাযোগের ঠিকানা - ৫৮ রামকৃষ্ণ সরনী ।আশাবরী । বেহালা । কলকাতা -৬০। দূ-ভা- বিস্বনাথ দে -হো আপ-৯৮৩৬৪৩৪৩৪৯।
Saturday, October 13, 2018
শারদোৎসবে সোনার মেয়ে ছাত্রী নেত্রী সুকৃতি আঁশ কারান্তরালে । কেন ?
দুজন ছাত্রের গুলিতে মৃত্যু ইসলামপুরে। বিক্ষোভ সারা রাজ্যে । শিলিগুড়িতেও । মুখ্যমন্ত্রী শিল্পের নামে বিদেশ ঘোরার সাধ মেটানো ।সরকারী ব্যায়ে ।ছাত্র যুব মহিলারা উত্তাল পুলিশী বর্ব্তার বিরুদ্ধে ।মুখ্যমন্ত্রী বিদেশ থেকেই পুলিশকে নির্দোষ ঘোষনা । সন্তানহারা মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদ । মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানো নিয়ে দলদাস পুলিশ এবং বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাক বিতন্দা । মিথ্যে সাজানো কেস দেওয়া । এস এফ আই নেত্রী সুকৃতি আঁশকে গ্রেপ্তের করতে পুলিশের বিশেষ তৎপরতা। ঘটনার বেশ অনেক পরে হাওড়ায় সুকৃতির আত্মীয়ার বাড়ী থেকে সুকৃতিকে গ্রেপ্তার ।জেন খুন কিংবা ডাকাতের অথবা রাস্ট্র বিরোধী চরম উগ্রপন্থী কেউ । আদালতে পেশ ।জামিন না মঞ্জুর । এই শারদোৎসবে সুকৃতির পাঁচদিন হাজত বাস । সংবাদ চলছে নির্যাতন । অপরাধ কি ? কুশপুত্তলিকা পোড়ানো যা গনতান্ত্রিক আন্দোলনের স্বীকৃত অংশ । মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা ।জ্যান্ত মুখ্যমন্ত্রী নয় । তাতেই এত উদ্বেগ ? এত ভয় ? তাহলে কি এটাই প্রমানিত যে পাপের উচ্চতম শিখরে এই সরকার এবং তার মুখ্যমন্ত্রী ? অবধারিত পতনের শঙ্কায় এমন রাস্ট্রীয় সন্ত্রাস ? পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদেরও নির্বিচারে সন্ত্রাস ,বাধাদান,এবং মনোনয়ন জমা না দিতে দেওয়া এবং গনতন্ত্রের কোনো তোয়াক্কা না করে পঞ্চায়েতকে বিরোধী শুন্য করার ঘৃণ্য প্রয়াস কি প্রমান করে না মাননীয়া জনতার আতংকে দিশেহারা ? এমন নজীর আরো বহু । কিন্তু পথ কি এটাই ? ক্রমাগত সন্ত্রাসের ধর্ম ঘুরে দাঁড়ানোর সন্ত্রাস । এখনই শুরু হয়েছে ,তবে প্রয়োজনের তুলনায় খুব ই কম । হয়তো হুঁশিয়ারি মাত্র । কিন্তু যখন এ প্রতিরোধ সব সীমা ছাড়াবে তখন পারবে মাননীয়া আপনার দলদাস পুলিশ ,আপনার পাশে অনেক হয়ে থাকা আপনার পোষা সমাজবিরোধীরা আপনার পতন রুখতে ? ভাবছেন পুলিশ শিরদাঁড়া বিক্রী করা তথাকথিত সুশীল বুদ্ধিজীবিদের পশু খামারে ঢুকিয়ে আপনি নিরাপদ? নিশ্চিত ভাবেই " না "। অবিলম্বে সুকৃতি সহ সমস্ত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্ত করুন । রাজ্যে গনতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনুন । নচেত মানুষ কিন্তু তৈরী হোচ্ছেন প্রতি ঘরে শেষ কথা বলার । কোন সন্ত্রাস সুকৃতিদের নিস্তব্ধ কোরতে পারবে না । আপনাদের শুভোদয় ঘটুক ।
Thursday, October 11, 2018
কুশ মানে ঘাস বা খড় । পুত্তলিকা মানে পুতুল । খড়ের পুতুল পুড়লো বলে " সুকৃতির" ওপর ঝাঁপিয়ে পড় , তোমরা যে সব রক্ত খেকো খুন কোরে সব খোশ করো ? তার বেলা ? কবি অন্নদা শংকরকে অনুসরন করে এভাবে কি বলা যায় যে , পুলিশ তুমি ভুলে গেছ যে সরকার আসে সরকার যায় , মানুষ কিন্তু থেকেই যায় । ইতিহাস সাক্ষী মানুষের আদালতও ক্ষমাহীন । বিচার হবেই । তখন ?
Subscribe to:
Posts (Atom)