Saturday, November 3, 2018

দস্তানার চরিত্র-৩

আমি ভারতবাসী । ভারতবর্ষ আমার দেশ । বহুমুখী লড়াই সংগ্রামের ফসল আমার দেশের স্বাধীনতা । ইংরেজ বানিয়াদের বিরুদ্ধে এই সংগ্রামে কংগ্রেসের সাথে সাথে বহু অন্য সংগঠনের অবদানও অবশ্যই স্বীকার্য । সাঁওতাল বিদ্রোহ, তিতুমীর এর বিদ্রোহ , চোয়াড় বিদ্রোহ , সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ ,  চন্দ্রশেখর আজাদ ভগত সিং দের অকুতোভয় সংগ্রাম, ঐতিহাসিক নৌ বিদ্রোহ  , সুভাস চন্দ্র বসুর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজের ইম্ফল পর্যন্ত আগমন ব্রিটিশ সিংহকে  মুষিকে পরিনত করেছিল।। ভারত ছেড়ে তাদের চলে যাওয়া হয়ে উঠেছিলো বাধ্যতামূলক। তাই যাবার আগে নিজেদের অর্থনৈতিক শোষণ অব্যাহত রাখতে তারা ধর্মের নামে ভারতকে দুভাগ করে দিল ভারত এবং পাকিস্তান । পরে আবার পাকিস্তান ভেঙ্গে হল বাংলাদেশ ।কিছু স্বার্থবাদী  ক্ষমতা লোভী দেশী বানিয়াদের প্রতিনিধিরা রাতের অন্ধকারে গোপন বোঝাপড়ায় ব্রিটিশদের চুক্তিমত রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভিক্ষা নিল । যে স্বাধীনতা ছিল মহান " অর্জনের " প্রতীক্ষায় তা ভুলুন্থিত হোল ।  আবুল কালাম আজাদ সহ বহু নেতৃবৃন্দ এবং কম্যুনিস্ট পার্টি এই খন্ডিত স্বাধীনতা মানতে চান নি । এমন কি জিন্নাও প্রথমদিকে ছিলেন না দেশ ভাগের পক্ষে । পরিবর্তে তাঁর দাবী নাকি ছিল সায়ত্ত্ব শাসনের । কিন্তু সেসব কিছুই যাতে না হয় তাই  ব্রিটিশ অপেক্ষাকৃত নরম বিরোধীদের রাজী করিয়ে পাশা খেলে রাতের অন্ধকারে ঘোষণা করলো স্বাধীনতা । ইতিহাসে যা খ্যাত "  FREEDOM AT MID NIGHT" নামে । মনে আছে দৃপ্ত স্বরে সেদিন কম্যুনিস্ট পার্টীর ডাক ছিলো ' ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যায় "। পরে উনারা  নির্দিষ্ট কারনে ও বৃহত্তর স্বারথে ওই  স্লোগান থেকে সরে আসেন । কিন্তু মানুষ জানেন ইয়ে আজাদী তাঁরা চান নি । আজাদীর পর কি তা ছিল তাঁদের অজ্ঞাত । ইংরেজ তাড়িয়ে ভারতীয়রা শাসনে বসার নাম স্বাধীনতা না তারপরেরটাই আসল ? সেই পরেরটা কি ? কেমন হবে স্বাধীন দেশের শিল্পনীতি কৃষি নীতি শিক্ষা নীতি আবাসন নীতি স্বাস্থ্য নীতি সাংস্কৃতিক সংরক্ষন ও বোঝাপড়া ? এসবের কোনো পরিষ্কার উচ্চারন সেদিন পাওয়া যায় নি , এই  রাজনৈতিক স্বাধীনতার অপরিহার্যতার আবেগিত আবেদন ছাড়া । একমাত্র প্রাপ্তি এই যে আমাদের দেশ " সেকুলারিজম" কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রতিবেশী পাকিস্তানে যা নেই । (ক্রমশঃ)

No comments:

Post a Comment