আমাদের মত দেশে সংসদীয় গনতন্ত্রে শিক্ষিত মানুষ জনদের প্রতিফলন তুলনামূলক ভাবে অনেক অনেক কম। কারন রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থাটাই সে ভাবে তৈরী যাতে বেশী সচেতন মানুষের প্রতিনিধিত্ব না আসতে পারে পার্লামেন্ট এ কিংবা বিধান সভায় ।উপনিবেশবাদীদের অনুকরনে প্রচলিত এই সংবিধান অন্ততঃ কিছুটা গনমুখী হলেও গন অর্থাৎ বেশীর ভাগ মানুষই জানেন না ,কোনটা তাঁদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ,আর কোনটা তাঁদের আরও দরকার ? এ রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার মানুষের জন্য যে পরিমান কাজ করেছিলেন তা কিন্তু ঐ সংবিধানের অধিকারের মধ্যে ,বদল করে নয় । আর এটাতেই প্রমানিত হয় স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচিত রাজ্য সরকার গুলির থেকে এই সরকারের প্রকৃত সৎ উদ্দেশ্য গুলিকে । অন্যান্য সরকারগুলির থেকে মার্ক্সবাদী সরকারগুলির দৃস্টিভঙ্গীর ফারাক । যুক্ত রাস্ত্রীয় কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখেও । মার্ক্সবাদীদের মূল লক্ষ্য সংসদীয় ব্যাবস্থার আমূল পরিবর্তন , তথা রাস্ট্র যন্ত্রের দখল । আর এটা মার্ক্সবাদীদের কোনো গোপন চক্রান্ত নয় । বরং বলিষ্ঠ ঘোষনা ।এবং তা হবে মার্ক্সবাদী লেনিন বাদী পথেই । সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অর্থে বল প্রয়োগের দ্বারা রাস্ত্র ক্ষমতার দখল আজ এই যুগে এই সময়ে এবং এত বড় দেশে বোধ হয় সম্ভব নয় , অন্ততঃ প্রাথমিক বিশ্লেষনেতো তাই ই মনে হয় । অবশ্য পরিবেশ পরিস্থিতি বদলালে কোন পথে আসবে বেশীর ভাগ মানুষের মুক্তি তা সময়ই বলতে পারে । বর্তমান নয় । অতএব বিকল্প কোনো পথ না পাওয়া পর্যন্ত এই সংসদীয় গনতন্ত্রের পথেই ,এবং এই গনতান্ত্রিক সীমা বদ্ধতার মধ্যেই মার্ক্সবাদীদের হয়ে উঠতে হোচ্ছে সৃস্টিশীল । আর সৃস্টিশীল যে কোনো কাজ কখনোই সরলরেখায় চলে না । আঁকা বাঁকা পথেই তাকে পৌছতে হয় সম্পূর্ণতায়। আর এই চলাটাই সম্পুর্ণতায় পৌছলে চলার এই ছন্দ এই আঁকিবুকিটাই হয়ে যায় একটী ছবি ,আরো একটি প্রয়োগ পদ্ধতি , আরো একটি মার্ক্সবাদী প্রয়োগ । তৈরী হয় নতুন তত্ত্ব । এটাই মার্ক্সবাদী সৃজন শীলতা ,যা অবিনশ্বর এবং সুন্দর । কারন এর মূল চালিকা শক্তি সচেতন মানুষ। আর এ ছবি আঁকতে মার্ক্সবাদীরা বিশ্বাস করেন গনতন্ত্রে । তাই সীমীত হলেও যেটুকু গনতন্ত্র আছে তাকে রক্ষা করতে হবে এবং আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গনতন্ত্রের সীমানা বাড়াতে হবে । যে গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আমাদের শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে কাংখিত " সমাজ তন্ত্রে"। এবং তাই বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর অনেক পার্টি কর্মী কিংবা দরদীদের বলতে শুনি ," সরকারে আসাটা আমাদের লক্ষ্য নয় । আমরা মানুষের সংগ্রামে মানুষের পাশে থাকতে পথেই আছি ।" হ্যাঁ ।পথেইতো থাকতে হবে ।কারন মানুষ পথেই ছিলেন ,পথেই আছেন ,পথেই থাকবেন । কোনো মিনারে নয় । কিন্তু পথ থেকে আমাদের গন্তব্য কোথায়? সংসদীয় গনতন্ত্রের সংগ্রামে নির্বাচন এবং নির্বাচনে জয়লাভটাকে অস্বীকার করি কি করে ? আর নির্বাচনে অংশগ্রহন এবং তাতে জয়লাভ করতে প্রয়োজন শক্তির (সব অর্থে) ব্যাপকতা এবং ব্যাপক শক্তিকে সংগঠিত করা । প্রতিটী এলাকায় এলাকায় সন্ত্রস্ত বিপন্ন আক্রান্ত সর্বস্বান্ত মানুষের কাছে পৌঁছে এ সাহস যোগাতে হবে যে ," পারেন । আপনারাই পারেন। আপনারাই পেরেছিলেন। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরাই পারি এই সন্ত্রাস, আতংক, বেকারীর বিরুদ্ধে , শিল্পের পক্ষে কৃষির পক্ষে শিক্ষার পক্ষে স্বাস্থের পক্ষে লড়াই জারী রাখতে এবং আবার ও বামফ্রন্ট সরকার গড়তে । এবং গনতন্ত্রের পরিধিকে প্রশস্ত করতে সারা দেশের মানুষকে সমবেত করতে বামফ্রন্টের নেতৃত্বে "। চলুন আবারও ডাক তুলি , বামফ্রন্ট সরকার --সংগ্রামের হাতিয়ার"। কারন লড়াইটা আজ একেবারে মুখোমুখী। দস্তানায় তালু লুকিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে করপোরেট তথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি , তারাই এখন মুখোমুখী এ দেশের কোটী কোটী মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কম্যুনিস্ট পার্টি তথা বাম্পন্থীদের । এই লড়াইটা লড়তে গেলে এবং জিততে গেলে একটা সামিট ক্যাম্প বা বেস ক্যাম্প দরকার । ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিন ভারতে সে সম্ভাবনা প্রবল। তাই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সব শক্তি নিয়ে সংগঠনের কাজে। এটাই ভারতের দ্বিতীয় এবং বৃহত্তম স্বাধীনতা যুদ্ধ ।। ( ক্রমশঃ)।
No comments:
Post a Comment