Monday, November 26, 2018

৮ এর পর "দস্তানার চরিত্র---৯

আমাদের মত দেশে সংসদীয় গনতন্ত্রে  শিক্ষিত মানুষ জনদের প্রতিফলন তুলনামূলক ভাবে অনেক অনেক কম। কারন  রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থাটাই সে ভাবে তৈরী যাতে  বেশী সচেতন মানুষের প্রতিনিধিত্ব না আসতে পারে পার্লামেন্ট এ কিংবা বিধান সভায় ।উপনিবেশবাদীদের অনুকরনে প্রচলিত এই  সংবিধান অন্ততঃ কিছুটা গনমুখী হলেও গন অর্থাৎ বেশীর ভাগ মানুষই জানেন না ,কোনটা তাঁদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ,আর  কোনটা তাঁদের আরও দরকার ? এ  রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার মানুষের জন্য যে  পরিমান কাজ  করেছিলেন তা  কিন্তু ঐ সংবিধানের  অধিকারের মধ্যে ,বদল করে  নয় ।  আর এটাতেই প্রমানিত হয় স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচিত রাজ্য সরকার গুলির থেকে এই  সরকারের প্রকৃত সৎ উদ্দেশ্য গুলিকে । অন্যান্য সরকারগুলির  থেকে মার্ক্সবাদী সরকারগুলির দৃস্টিভঙ্গীর ফারাক । যুক্ত রাস্ত্রীয় কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখেও । মার্ক্সবাদীদের মূল লক্ষ্য সংসদীয় ব্যাবস্থার আমূল পরিবর্তন , তথা রাস্ট্র যন্ত্রের  দখল । আর  এটা  মার্ক্সবাদীদের কোনো গোপন চক্রান্ত নয় । বরং  বলিষ্ঠ ঘোষনা ।এবং তা হবে মার্ক্সবাদী লেনিন বাদী পথেই ।  সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অর্থে বল প্রয়োগের দ্বারা রাস্ত্র ক্ষমতার দখল আজ এই যুগে এই সময়ে এবং এত বড় দেশে বোধ হয় সম্ভব নয় , অন্ততঃ প্রাথমিক বিশ্লেষনেতো তাই ই মনে হয় । অবশ্য পরিবেশ পরিস্থিতি বদলালে কোন পথে আসবে  বেশীর ভাগ  মানুষের মুক্তি তা  সময়ই বলতে পারে ।  বর্তমান  নয় । অতএব বিকল্প কোনো পথ না পাওয়া পর্যন্ত এই সংসদীয় গনতন্ত্রের পথেই ,এবং এই গনতান্ত্রিক সীমা বদ্ধতার মধ্যেই মার্ক্সবাদীদের হয়ে উঠতে হোচ্ছে  সৃস্টিশীল । আর সৃস্টিশীল যে  কোনো কাজ কখনোই  সরলরেখায় চলে না । আঁকা বাঁকা পথেই তাকে পৌছতে হয়  সম্পূর্ণতায়। আর এই  চলাটাই সম্পুর্ণতায় পৌছলে চলার  এই  ছন্দ এই আঁকিবুকিটাই হয়ে  যায় একটী ছবি ,আরো একটি প্রয়োগ পদ্ধতি  , আরো একটি মার্ক্সবাদী প্রয়োগ । তৈরী হয় নতুন তত্ত্ব । এটাই মার্ক্সবাদী সৃজন শীলতা ,যা অবিনশ্বর এবং সুন্দর । কারন এর  মূল  চালিকা শক্তি সচেতন  মানুষ। আর এ  ছবি আঁকতে মার্ক্সবাদীরা বিশ্বাস করেন গনতন্ত্রে । তাই সীমীত হলেও যেটুকু গনতন্ত্র আছে তাকে  রক্ষা  করতে হবে এবং আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গনতন্ত্রের সীমানা বাড়াতে হবে । যে গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আমাদের শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে কাংখিত " সমাজ তন্ত্রে"। এবং তাই বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর অনেক পার্টি কর্মী কিংবা দরদীদের বলতে শুনি ," সরকারে আসাটা আমাদের  লক্ষ্য  নয় । আমরা মানুষের সংগ্রামে মানুষের পাশে থাকতে পথেই আছি ।" হ্যাঁ ।পথেইতো থাকতে  হবে ।কারন মানুষ পথেই ছিলেন ,পথেই আছেন ,পথেই থাকবেন । কোনো মিনারে নয় । কিন্তু পথ থেকে আমাদের গন্তব্য কোথায়? সংসদীয় গনতন্ত্রের সংগ্রামে নির্বাচন এবং নির্বাচনে জয়লাভটাকে অস্বীকার করি কি করে ?  আর নির্বাচনে অংশগ্রহন এবং তাতে জয়লাভ করতে প্রয়োজন শক্তির (সব অর্থে) ব্যাপকতা এবং ব্যাপক শক্তিকে সংগঠিত করা । প্রতিটী এলাকায় এলাকায় সন্ত্রস্ত বিপন্ন আক্রান্ত সর্বস্বান্ত মানুষের কাছে পৌঁছে এ সাহস যোগাতে হবে যে ," পারেন । আপনারাই পারেন। আপনারাই পেরেছিলেন। আপনাদের সঙ্গে  নিয়ে আমরাই পারি এই সন্ত্রাস, আতংক, বেকারীর বিরুদ্ধে , শিল্পের পক্ষে কৃষির পক্ষে শিক্ষার পক্ষে স্বাস্থের পক্ষে লড়াই জারী রাখতে এবং আবার ও বামফ্রন্ট সরকার গড়তে । এবং গনতন্ত্রের পরিধিকে প্রশস্ত  করতে সারা দেশের মানুষকে সমবেত করতে বামফ্রন্টের নেতৃত্বে "। চলুন  আবারও  ডাক তুলি , বামফ্রন্ট সরকার --সংগ্রামের হাতিয়ার"।  কারন লড়াইটা আজ একেবারে  মুখোমুখী। দস্তানায় তালু লুকিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে করপোরেট তথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি , তারাই এখন  মুখোমুখী এ দেশের কোটী কোটী মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে  কম্যুনিস্ট পার্টি তথা বাম্পন্থীদের । এই  লড়াইটা লড়তে গেলে এবং জিততে  গেলে একটা সামিট ক্যাম্প বা বেস ক্যাম্প দরকার । ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিন ভারতে সে সম্ভাবনা প্রবল। তাই  ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সব শক্তি নিয়ে সংগঠনের  কাজে। এটাই ভারতের দ্বিতীয় এবং বৃহত্তম স্বাধীনতা যুদ্ধ ।। ( ক্রমশঃ)।

No comments:

Post a Comment