১৯৭৭- ২০ শে জুন কংগ্রেস ঘোষিত জরুরী অবস্থা মোকাবেলা করে পশ্চিমবঙ্গে বহু নির্যাতন খুন সন্ত্রাসের জবাব কমরেড জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে প্রথম " বাম ফ্রন্ট সরকার"। মনে রাখতে হবে "বাম ফ্রন্ট' পর্যন্ত পৌঁছতে বাম নেতৃত্বকে পেরোতে হয়েছে অনেকখানি পথ । প্রথমে "বাম ও গনতান্ত্রিক " ঐক্য এবং "যুক্ত ফ্রন্ট" সরকার । কেন্দ্রের বে আইনী আক্রমন .৩৫৬ ধারার প্রয়োগে সরকারের পতন । কিছু তথাকথিত গনতান্ত্রিকদের দস্তানা খুলে কালো হাতের দর্শন । কম্যুনিস্টরা রইলেন মানুষের সঙ্গে । আবার নির্বাচন । এবার আরো বড় জয় । তৈরি হল দ্বিতীয় " যুক্ত ফ্রন্ট" সরকার । আবারো আক্রমন। চলল এম এল এ কেনা বেচা। আবারো ৩৫৬ র প্রয়োগ ,সরকারের পতন । এবং সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে চাপানো হোলো " কুখ্যাত রাস্ত্রপতি শাসন"। আবারও নতুন লড়াই । নতুন কৌশল । নীতিগত ভাবে বামপন্থীরা বুঝলেন "যুক্ত ফ্রন্ট" এর প্রয়োজন ফুরিয়েছে । মানুষের কাছে ওই ফ্রন্ট তার বিশ্বাস রাখতে পারেনি । ওই ফ্রন্টের মধ্যের কিছু শক্তি যারা প্রকৃত কংগেস জাত তাদের আক্রমনের মুল লক্ষ্য সি পি আই (এম) ও তার বন্ধু শক্তিদের । অতএব সি পি আই ( এম) নেতৃত্ব ডাক দিলেন শুধু " বাম ফ্রন্ট "। আন্দোলন সংগ্রাম মানুষ চাইলে সরকার ও গড়বেন "বাম ফ্রন্ট ' । মানুষের চাওয়াও যে ছিলো একদম তাই তার প্রমান রাজ্যে বিপুল সংখ্যাধিক্যে ~ বামফ্রন্ট সরকার । এবং জ্যোতি বসুর ঘোষনা , এ রাজ্যের সরকার চলবেনা মহাকরন থেকে । এ সরকার চলবে সমস্ত মানুষের দ্বারা তাঁদের কেন্দ্রগুলী থেকে --গ্রাম থেকে । শুরু হলো কর্ম যজ্ঞ । গঠিত হলো পঞ্চায়েত রাজ অর্থাৎ গ্রামগুলীর নিজেদের সরকার । কৃষকদের স্বার্থে অপারেশন বর্গা । জমিতে কৃষকদের দেওয়া হল লুঠ হয়ে যাওয়া অধিকার । দেওয়া হল দল মত নির্বিশেষে সমস্ত রাজ নৈতিক কারনে আটকে রাখা রাজনৈতিক বন্দীদের নিঃশর্ত মুক্তি,শিক্ষার বিস্তারে উপযোগী ভুমিকা এবং কৃষির উন্নয়নের সাথে সাথে শিল্পের উদ্যোগ ইত্যাদি আরো বহু জনমুখী কাজ যা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনোন্নয়নে আন্তরিক । কমরেড প্রমোদ দাসগুপ্ত ,হরেকৃষন কোনার প্রভাস রায় ,ডক্টর অশোক মিত্রর মত ব্যক্তিত্বদের নেতৃত্বে এ রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার মার্ক্সবাদের ও এক নতুন পরীক্ষা । যুক্ত রাস্ট্রীয় কাঠামোকে অক্ষুন্ন রেখেই সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যে থেকেও মানুষের বিপুল সমর্থনে এই সরকারের ৩৪ বছর প্রমান করেছে মারক্সবাদীরা কতটা সৃস্টিশীল । এখন প্রশ্ন তবুও মানুষেরই রায়ে বিশেষত গ্রামের মানুষের দ্বারা এই জনপ্রিয় বামফ্রন্ট প্রত্যাখ্যাত হলো কেন ? সমস্যাটা কি পার্টির ঘোষিত নীতিগুলির রুপায়নে সরকার থেকে সরকার ঘোষিত নীতিগুলির পার্টীর রুপায়নের ফারাক ? ফলে জন বিচ্ছিন্নতা ? কম্যুনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী পার্টীর সরকারী পার্টীতে পরিনত হওয়ার একটা ভয়ানক বিচ্যুতি? জানিনা । আমি একজন সাধারন নাট্যকর্মী মাত্র । সমাজ রাজনীতি অর্থনীতি এবং মানুষের ভাঙ্গা গড়ার ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থেকেই (আমার সীমাবদ্ধতা নিয়েই) নাটক করে চলেছি । তাই আমি নয় । এ সংশয়ের নিরশন করবেন পেশাদার রাজনৈতিক মানুষজন ,যারা রাজনীতির প্রয়োগে ভুলও করেন আবার ঠিকও করেন । ফারাক আছে । একদল ক্রমাগত ভুল করতে করতে হয়তো কখনও এক আধটা ঠিক করতে বাধ্য হয় ( ব্যাঙ্ক জাতীয়করন) নিজেদের পেশাকে বাঁচাতে । তাই তারা " ভুল" বলে কিছু স্বীকার করে না । বরঞ্চ ঘটে যাওয়া একটি বা দুটি "ঠিক" কে হাতিয়ার করে নিজেদের জয়ঢাক বাজায় ।বিপরীতে পেশাদার রাজনীতিক কম্যুনিস্টরা তথা বামেরা "ঠিক" করতে করতেই ঠিক করতে চেয়েই কখনও " ভুল" করে বসেন । বিশ্লেষনে ধরা পরলে মানুষের কাছে তা স্বীকার করে নেন সোচ্চারে কারন একমাত্র মানুষের কাছেই তাঁরা দায়বদ্ধ । তা হলে এ বিশ্বাসতো করাই যায় ৩৪ বছর ধরে এত বিপুল মানুষের সমর্থন যেমন অ-কারন ঘটেছে তা নয় ,ঠিক তেমনিই ৩৪ বছর বাদে বেশী মানুষের অ-সমর্থনও অ-কারন ঘটেছে তা নয় ? তা হলে কারনটা কি? মানুষেরতো তা জানা উচিত । হয়তো জানলে মানুষই বলবেন যে ভুল আপনাদের দৃস্টির বাইরে অথচ আপনাদের আলোচনায় আসেনি ।হয়নাকি ? নাকি পেশাদার হলেই তিনি সর্বজ্ঞ হয়ে যান ? মানুষ যা বলেন কিংবা বলতে চান তার দু একটা জানাবো পরবর্তীতে ।এবং তার পর তার পরের কিস্তি । শুভ রাত্রি বন্ধুরা । আবার দেখা হবে পরের অধ্যায়ে । ( ক্রমশঃ)।
No comments:
Post a Comment