রাজ্যের অর্থে পশ্চিমবঙ্গের ত্রুটীগুলিও সর্বমোট ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টীর (মার্ক্সবাদী) গৃহীত ভুল সিদ্ধান্ত্ব ও কৌশলগুলিরই ফলাফল। উপরন্তু যোগ হলো পার্টীর বেশীটাই আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা । বাম পার্টীগুলিকে কোরে তুললো জন বিচ্ছিন্ন । পার্টীর এবং মানুষের মধ্যের রক্ত মাংসের যোগ যত কমেছে ততই পার্টির মতাদর্শের লড়াই হয়েছে ম্লান । আর এই বিশাল জনবুনোট এর আলগা ফাঁকে বাসা বাঁধলো বিষাক্ত কীট , প্রোমোটার,কন্ট্রাক্টর , চাটুকারদের ছদ্মবেশে। অনেক জেলায় তারাই হয়ে উঠেছিলো পার্টির নিয়ন্তা এবং সাধারন মানুষের কাছে পার্টী তথা সরকারের সেতু । গ্রাম থেকে শহর এমন কি সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও শক্তিশালী হলো একদল রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক " মাফিয়া"। শুধু নেতৃত্ব আজীবন সৎ থেকেও রক্ষা করা যায়নি সামগ্রিক রাজনৈতিক সততা । এই মাফিয়াদের সংখ্যা ছিল তুলনায় কমই , কিন্তু ক্ষমতা ছিলো অসীম । থানা কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যালিটী , পঞ্চায়েত , বিদ্যালয় , মহা বিদ্যালয় , হাসপাতাল , সাংস্কৃতিক অঙ্গন , মোটের ওপর যে সমস্ত স্থানে সাধারন মানুষেরা নিত্য সেখানেই এরাই ছিলো মাতব্বর , লাল মিছিলে পা মিলিয়ে , লাল জামা পরেই । প্রমান ? লক্ষন শেঠ এর মতো লোকেরা । প্রসঙ্গ সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম----------। এ কথা ভুললে চলবে না যে উন্নত পঞ্চায়েত ব্যাবস্থার মাধ্যমে গ্রামীন সরকারকে শক্তিশালী করে একদিন ক্রীতদাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ নুব্জে পড়া কৃষক সমাজকে মেরুদন্ড সোজা করে মাথা উঁচু করে বাঁচার পথ দেখিয়েছিলেন বামফ্রন্ট সরকার । গ্রামের মানুষের চরম অর্থনৈতিক পরাধীনতাকে সম্ভব মতো অবসান করার ফলে বাড়লো গ্রামের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা । তাই পরিকল্পনা মাফিকই তৈরি হোল নতুন নতুন বিদ্যালয় ,মহা বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় । কারন এই সরকার সচেতন ছিলেন যে দেশের বেশীরভাগ মানুষ থাকেন গ্রামে ।এবং দারিদ্রের সংখ্যাও বেশী । তাই ১৯৭৭ এই এক দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার ক্রম সাজিয়ে ছিলেন ।প্রথমে কৃষি , তারপর শিক্ষা, এবং অবশ্যই শিল্প । তাই প্রথম থেকেই লক্ষ্য পূরনে এই সরকার ছিলেন সচল । অর্থাৎ কৃষির উন্নয়নের সাথে সাথেই এগিয়ে যেতে হবে শিক্ষায় । এবং শিক্ষায় এগিয়ে থাকা একটি জাতি কখনই শুধু মাত্র কৃষি কাজে আবদ্ধ থাকতে পারেন না । কারন বেশী মানুষের হাতে পয়সা আসা মানেই বাজারে তাঁদের অধিকারের বৃদ্ধি । তাই বাজার( লুঠের নয় ) এবং শিক্ষাকে সফল করে তুলতে প্রয়োজন ভারী শিল্প । এবং তারই নিরন্তর প্রচেস্টার ফলশ্রুতি সিঙ্গুররের মোটর কারখানা টাটা গোষ্ঠীর । অন্য দিকে পুরুলিয়ায় জিন্দালদের বৃহত্তম ইস্পাত প্রকল্প এবং নন্দীগ্রামে কেমিকাল হাব । প্রমাদ গুনলো বাম বিরোধীরা এবং অবশ্যই কর্পোরেট শক্তি তথা সাম্রাজ্যবাদ । কারন সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যেও কম্যুনিস্টরা কৃষি সমস্যা মিটিয়ে শিল্প ভাবনায় সাফল্য পায় তবে সেই দৃস্ট্বান্ত দেশের অন্য রাজ্যগুলিকেও বিকল্প ভাবনায় সাহসী করে তুলবে । এবং কম্যুনিস্ট তথা বাম শক্তির প্রসার ঘটবে । সংসদীয় গনতন্ত্রের মধ্যে থেকেও পরীক্ষা নীরিক্ষার এই সফল প্রয়োগ শুধু ভারত নয় ,এশিয়া মহাদেশের থেকেও সাম্রাজ্যবাদ তথা করপোরেট শক্তির কাছে যেন অন্তিম বার্তা । তাই যে ভাবেই হোক একে রুখতে হবে । প্রয়োজনে সব শক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করে । এবং তা করতে হাতিয়ার হয়ে উঠলো বাম্ফ্রন্ট ও সি পি আই (এম ) এর ভুলগুলি এবং ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্নতা । অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর দুর্বল প্রশাসনিক চরিত্র । বাংলাকে তছনছ করতে বিদেশী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি কোমর বেঁধে নামলো । জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ রইলো ২১দিন । আদালতের সুস্পস্ট রায় সরকারের পক্ষে। অথচ সরকার তার রাস্ত্রীয় ক্ষমতার প্রয়োগ না করে দিনের পর দিন আলোচনায় মীমাংসায় পৌঁছতে সচেস্ট থেকে ওদের সংগঠিত ও সাহসী হয়ে উঠতে শক্তি জোগালো । শিক্ষিত মানুষ বুদ্ধ বাবু ভুলে গেলেন যে অশিক্ষিত এবং "একা" একজন ক্ষমতা লোভীকেই বেছে নিয়েছে করপোরেট শক্তি । যাতে লুম্পেন দ্বারাই চালিত করানো যায় তাকে । তাই প্রায় শেষ হবার মুখে টাটার কারখানা বন্ধ হয়ে গেল ।পরিকল্পনা করেই নন্দীগ্রামে চলল অবরোধ - মাও বাদী দের ভাড়া করে । "পরিবর্তনের " আওয়াজ তুলে তাকে সফল করতে ওই দুস্ট শক্তি অই সাহসটিকেই পুঁজি করলো । তারপরটাযে সুখকর নয় এ আর না জানা আছে কার ? এখন প্রশ্ন সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম প্রশ্নে ভুলটা কার ? সরকারের না পার্টীর ? ( ক্রমশঃ)
No comments:
Post a Comment