নয়া সাম্রাজ্যবাদ আমেরিকা এবং তার সহযোগীরা বিভক্ত দেশের লাভ কুড়তে মরিয়া । তারা তাদের যুদ্ধাস্ত্র বিক্রীর বড় বাজার তৈরি করলো । দু দেশেই পরে তিন দেশেই তারা যুদ্ধের পৃষ্ঠপোষকতায় মনোযোগী। সন্ত্রাস তাদের হাতিয়ার আজ সমগ্র এশিয়া জুড়ে । পারেনি , পারছেনা চীনকে বাগাতে । এ ছাড়া যেখানেই রয়ে গেছে উপোনিবেশবাদের ক্ষত সেখানেই তারা ছড়াচ্ছে সন্ত্রাস । লক্ষ্য সেই সব দেশের গনতন্ত্র। কারন ওরা জানে গনতন্ত্রের পথ ধরেই বিশ্বে উঠে আসবেই সমাজতন্ত্র ,ঘটবে কম্যুনিস্ট অভ্যুত্থান,এবং পুঁজিবাদের সাম্রাজ্যবাদের চিরকালীন কবরে মাথা তুলে দাঁড়াবে শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্ত মেহনতি মানুষের " লাল ঝান্ডা "। এবং তাই তাদের লুঠের গনতন্ত্রের দস্তানা চাপিয়ে সে দেশের শাসকদের বন্ধুত্বের মুখোশ পরে সাহায্যের নামে খুনী লুঠেরা হাত দস্তানায় ঢেকে তারা দেশগুলিকে করে তুলছে অস্থির । কোথাও বন্দুকের যোগান দিয়ে কোথাও ধর্মের জিগীর তুলে আবার কোথাও তথাকথিত "গনতন্ত্রের " দোহাই দিয়ে । ভৌগলিক কারনেই এবং জনশক্তির কারনে আমাদের সোনার দেশ রীতিমত ধনীই । যে কারনে বার বার বিদেশী আক্রমনে আমার দেশ হয়েছে রক্তাক্ত । কিন্তু তবুও নিঃস্ব করতে পারেনি কেউ । এমনকি ২০০ বছরে ব্রিটিশও । কংগ্রেস শাসনে থাকলেও পণ্ডিত নেহেরুরা ছিলেন সমাজতন্ত্রের সমর্থক । কিন্তু শ্রেনীহীন সমাজ ব্যাবস্থাকে স্বীকার না কোরে সমাজতন্ত্রের চিন্তা সো নার পাথরবাটীর মতই অবাস্তব ,অলীক । তাই শেষ পর্যন্ত সে সরকারটা হয়েছিল ধনীদের ই সরকার । চোরা স্রোতে সাম্প্রদায়িকতা থাকলেও এবং কম্যুনিস্ট পার্টী ছাড়া ভারতের সব রাজনৈতিক দলগুলি শাসন ক্ষমতায় আসতে কিংবা থাকতে তা ব্যবহারও করেছে বার বার । কিন্তু সংবিধানে ঘোষিত " সেকুলারিজম"এর সীমা লঙ্ঘন করেনি । ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে কংগ্রেসের শ্রমিক কৃষক বিরোধী নীতিগুলির বিরুদ্ধে কম্যুনিস্ট পার্টীর নেতৃত্বে জন জাগরন একসময় কংগ্রেসকেও ফ্যাসীবাদী পথে হাঁটতে বাধ্য করে । মানুষের প্রতিরোধে ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায় একদা ব্রিটিশের মদত পুস্ট এবং পরে নয়া সাম্রাজ্যবাদের দোসর "কংগ্রেস "। দেশে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটলো । একদিকে গড়ে উঠলো বাম ফ্রন্ট এবং তার বন্ধু শক্তি অন্যদিকে কম্যুনিস্ট ও বাম বিরোধীরা । সাম্রাজ্যবাদীরা প্রমাদ গুনতে শুরু করলো । ৭০ বছরের সোভিয়েতকে ভেঙ্গে দিয়ে ওরা ভেবেছিলো সমাজতন্ত্রের কবর দেওয়া গেছে । আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের মদতে সমাজতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত , ইয়োরোপে বেশ কিছু রাস্ট্রে সমাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ওরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলো । পোষা প্রচার মাধ্যমগুলি কম্যুনিস্ট মতাদর্শের শরশয্যা রচনায় যখন ব্যাস্ত তখনই পূর্ব ভারতে এবং দক্ষিনে কেরালায় মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে আবারও কম্যুনিস্ট পার্টীর নেতৃত্বে বাম ও গনতান্ত্রিক শক্তি । ওদের পেটোয়া কংগ্রেস আজ নখ দন্ত হীন । চাই নতুন শক্তি । যে হবে বেপরোয়া ,অ গনতান্ত্রিক, এবং সমাজতন্ত্রের এই পিছু হাটার দিনে কর্পোরেট শক্তিকে করবে অবাধ এবং জেট গতিতে, কম্যুনিস্টরা সারা ভারতে সংবিধানগতভাবে শক্তিশালী হওয়ার আগেই । মঞ্চে হাজির বি জে পি তথা আর এস এস এবং তার সহযোগীরা এবং তৃনমূল । কি ভাবে এবং কোন আভ্যন্তরীন পরিস্থিতিতে সে বিষয়ে পরেরবার । (ক্রমশঃ)
No comments:
Post a Comment