Sunday, May 30, 2021

" জানতে চাইলেই জানা যায়।অন্ধতায় নয়"

অসাধারন।পন্ডিতেরা যে ব্যাখ্যাই হাজির করুন ধর্মের নামে যুগে যুগে ভারতের এবং বিশ্বেরও সমস্ত সৃষ্টির মহানায়ক শ্রমিক।শুধুই শ্রমিক শ্রেনী। শিক্ষা তাঁদের অভিজ্ঞতা। প্রকৃতিকে জেনে বুঝে তাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের যে সৃষ্টি তাতে মানুষের মধ্যে কোন জাতি বা লিঙ্গ ভেদের প্রভেদ ছিল না। তাঁরা সেদিনও ছিলেন অনুচ্চারিত, আজও তাই। অপরের শ্রম, উদ্ভাবন শক্তি আত্মস্মাৎ করেই  একটা ক্ষুদ্র অংশ শাসক সেজে সব লুঠ করে সে সবের মালিক সেজেছে।আর ভাড়া করা ক্ষুন্নিবৃত্তির চাটুকারদের ঐতিহাসিক সাজিয়ে তা লিপিবদ্ধ করে প্রচারে স্থায়ী করেছে। কার্ল মার্ক্স মূলের এই জায়গাটাতেই আঘাত হেনে চিনিয়েছেন পৃথিবীর মহান রূপকারদের।এবং দাবী করেছেন করতে শিখিয়েছেন "এবং তাই পৃথবীটা বেশী মানুষের। অল্প কজন শাসকের নয়। পুঁজি,শ্রম,সম্পদ,আর মুনাফার  বেড়াজালে আবদ্ধ যে মানুষের শ্রম তার মুক্তিই মানুষের প্রকৃত মুক্তি। এবং তাই আজ ও মার্ক্সবাদ অপরাজেয়।
[বন্ধু চন্দ্র শেখর এর কেদার এবং সংলগ্ন মন্দির গুলির বৈজ্ঞানিক অবস্থানের বিবরনের প্রসঙ্গে।
" জানতে চাইলেই জানা যায়।অন্ধতায় নয়"।]
শ্যামল ভট্টাচার্য। শপথ। কলকাতা।
বেহালা।কলকাতা ৬০।
২৯ শে মে। ২০২১।

বন্ধু তোমার পথের সাথিকে চিনে নিও- শ্যামল ভট্টাচার্য

একদম সময়োচিত,যথার্থ এবং আত্মবিশ্বাসী পর্যবেক্ষন। তোমার আমার মত সমর্থকদের দায় আছে। লিখিত দায়িত্ব নেই।তবু আমরা সে দায়িত্ব বহন করি আমাদের মতন করে। না করলেও বোধ হয় চলে। এবারের নির্বাচনে বীভৎস ঝিঙ্কু ড্যান্স, সেলিব্রিটির পেশী দেখানো ইত্যাদি আরও অনেক কিছুর উপস্থাপন,এবং পার্টী নেতৃত্বের সে সবের পক্ষে সওয়াল এবং সমর্থন দেখিয়ে দিয়েছে, যেন আধুনিকতায়,চট জলদী চমক বিনোদনে" দিন বদলের পালা" র দিন অস্তমিত। এখন নাকি মানুষ এটাই চান।তাই গোটা নির্বাচনে শুধু নির্দিস্ট দিনে নিজের বা নিজেদের ভোট টুকু দেওয়া ছাড়া আর কোন কাজ ছিল না।এমনকি বহু আগেই নিজেদের উদ্যোগে "ঘন্টা খানেক সঙ্গে শপথ" পথ নাটক নিয়ে পথে নেমেও এবং সর্বস্তরে আবেদন রেখেও নিষ্ক্রিয় করে রাখা হল। আসলে জানি এ সবই  স্বল্প সময়ের মধ্যেই পর পর ঐতিহাসিক ভুলগুলো করার পর দিকভ্রান্ত হওয়ার নজীর।কিন্তু ক্ষতি হল মানুষের।সামনে  আবারও যুদ্ধ। ২০২৪ এ।জানিনা এ যুদ্ধে পার্টীর কৌশল কি? আসলে উনারা করেন।আমরা দেখি।আর যেহেতু বাম মানসিকতাতেই থাকি, তাই মূক শরিক হয়ে জিতলে দু হাত তুল নাচি।আর হারলে হতাশ হয়ে নিজেরাই নিজেদের বলি "জানি এই শুণ্যের কারন গুলির হয়তো কিছুটা।কিন্তু সেতো শুধু নিজেরা নিজেদের জানানো। উনাদের নয়। কেননা আমরা আম জনতা উনাদেরই চাই একথা উনাদের কাছে পৌছনোর উপায় নেই। উনারা আমাদের থেকে দূর। " কাছে থেকে দূর রচার"মধ্যেই বোধ হয় লুকিয়ে ছিল কোন নতুন নক্ষত্রের জন্ম কথা। অতএব প্রশ্ন নয়।অধিকারও নেই।তবুও করলে আছে তকমা " বিরোধী"। আর চুপ থেকে অপ্রতিক্রীত থাকলে " বন্ধু"।আর আমাদের থাকে দৃষ্টি আর পুরানো কথা সুর। তাই গেয়ে বেড়াই "বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিয়ো"। তবুও বলে যাবো বাকি যেটুকু বাঁচি " পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছো?"
[ বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিয়ো।]
শ্যামল ভট্টাচার্য। শপথ। কলকাতা।
৩০ শে মে। ২০২১।
বেহালা। কলকাতা ৬০।

স্মরণে কমরেড বিউটি দাস

কত ফুল এভাবেই ঝরে যায় রোজ।
হিসাব কে আর রাখে তার?
যা থাকে তা নিয়েই মেতে থাকি রোজ
মেলে না যাওয়ার উত্তর।
শুনি নারী পুরুষ কত কণ্ঠে শহর থেকে গাঁ
"এই যে শুনুন ----
আমরা বাঁচতে চেয়ে ছিলাম"
একা নয়।সবাই মিলে।সবাইকে নিয়ে। তবু--
কেন একা করে দিলে হায়?
"স্মরনে শ্যামল"
[চলে গেলেন এক কম্যুনিস্ট পরিবারের যোদ্ধা
কমরেড বিউটি দাস] 
"" লাল সেলাম বোন।"


Saturday, December 1, 2018

দস্তানার চরিত্র--৯ এর পর দস্তানার চরিত্র--১০

ভারতবর্ষে বর্তমান রাজনীতি আবর্তিত "জোট  রাজনীতিতে"। এটাও মার্ক্সবাদী বিশ্লেষন এর অবধারিত পর্যায় । এই পর্যায়তেও নেতৃত্বে থাকতে হবে মার্ক্সবাদীদেরই ।  তাই শ্রেনী দৃস্টিভঙ্গীর নিরিখে  মানুষকে সঙ্গে নিয়ে  লক্ষ্যে পৌছতে মার্ক্সবাদীদের হতে  হবে তীক্ষ্ণ ও কৌশলী ।  আজ  দেশের  সবচেয়ে বড় শত্রু বি জে পি তথা আর এস এস । তাই সমস্ত বিরোধিতার মুখকে ধারালো করতে হবে ওদের বিরুদ্ধে এবং ওদের সহযোগী দলগুলোর বিরুদ্ধে ।যেমন পশ্চিমবঙ্গে " তৃনমূল"। তাই প্রাথমিক ভাবে লুঠ হওয়া গনতন্ত্র রক্ষাকে  পাখীর  চোখ  করে বন্ধুর সংখ্যা বাড়াতেই হবে । শত্রু যখন মানুষের কাছেও চিহ্নিত তখন বন্ধু নির্বাচনে খানিকটা প্রশস্ততাও  যেমন  জরুরী তেমনই জরুরী তীক্ষ্ণ সতর্কতা । কারন  শাসকও নিজের  শক্তি  বাড়াতে "জোট" কেই হাতিয়ার করতে সচেষ্ট ।এমনকি প্রয়োজনে বি জে পি বিরোধী সেজেও মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আসলে এরা  গনতন্ত্র রক্ষার জোট কেই ভাঙতে বদ্ধ পরিকর । নিরন্তর আন্দোলন সংগ্রাম এবং নিবীড় জনসংযোগে এই   চক্রান্তের জাল  ছিন্ন করে  গনতন্ত্রের পতাকাকে তুলে ধরতে হবে । পাশা পাশি বহু যুদ্ধে শানিত বামফ্রন্টকে অর্থাৎ বামফ্রন্টের মধ্যের রাজনৈতিক দলগুলির  মধ্যে বন্ধু নির্বাচনে  মতৈক্যে  পৌছতে চিরাচরিত ধারনায়  নিজেদের অবরুদ্ধ না  করে বাস্তব দৃস্টিভঙ্গীর  পরিচয় রাখাটাই জরুরী । বন্ধু বা সঙ্গী নির্বাচনে সামান্যতম ভুল এই  পরিস্থিতিকে জটীল করে  তুলতে পারে । মনে  রাখাটা  জরুরী --দেশের দাবী ই বাস্তবতা ,নিছক দলীয় দাবী নয় । আর  রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা  সংগ্রাম আমাদের দেশে  বহুধা এবং  দীর্ঘস্থায়ী । তাই এখনটাই শেষ নয় । কথাগুলো তুললাম কারন উল্লিখিত সবকটা শুভ এবং অ-শুভ গনতান্ত্রিক জোটের পক্ষে এবং বিপক্ষে চারিত হোচ্ছে ।এবং বাজারী সংবাদ মাধ্যমগুলিও কোমর বেঁধে নেমেছে গনতান্ত্রিক জোট সম্পর্কে মানুষকে হতাশ এবং অবিশ্বাষী করে তুলতে । যেমন এ রাজ্যে তৃনমুলের বিকল্পে বি জে পি কে  তুলে ধরে মার্ক্সবাদীদের অগ্রগতিকে অস্বীকার করা । তবে এত  চক্রান্তের পরেও শ্রমিক  কৃষক সাধারন মানুষ ছাত্র যুব মহিলারা লাখে লাখ সোচ্চার মার্ক্সবাদী কম্যুনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে তথা বাম ফ্রন্টের নেতৃত্বে । নবান্ন অভিযান,সিঙ্গুর থেকে রাজ ভবন অভিযান ,দিল্লীর লাখে লাখ কৃষক  সমাবেশ , সারা ভারত শ্রমিক ধর্মঘট গুলি প্রমান  করছে বাম ও গনতান্ত্রিক শক্তির দুর্বার উত্থান এবং মার্ক্সবাদীদের অবশ্যম্ভাবী নেতৃত্বের । তাই বামেদের জোটকে হতে  হবে নিশ্ছিদ্র । দেশ পরিবর্তনের এক সন্ধিক্ষনে এসে দাঁড়িয়েছে এবং আমাদের সবার দায়িত্ব আছে দস্তানার নীচে লুকোনো কালো রক্তখাগী হাতগুলোকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ।দেশকে ,রাজ্যগুলিকে ,সমাজকে বিপন্মুক্ত করার । ধর্মের দস্তানায়  লুকোন কর্পোরেট হাত গুলিকে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেবার । মনে  রাখুন ,বাঁচার  ইচ্ছেটা প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন আমাদের প্রত্যেকের ।উপায়টা লড়ায়ের ময়দানেই নিরূপিত হবে--অবশ্যই মারক্সবাদীদের নেতৃত্বে । আশা রাখছি সাফল্যের । ধন্যবাদ । লাল সেলাম । (আপাতত এইটুকুই) ।

Monday, November 26, 2018

৮ এর পর "দস্তানার চরিত্র---৯

আমাদের মত দেশে সংসদীয় গনতন্ত্রে  শিক্ষিত মানুষ জনদের প্রতিফলন তুলনামূলক ভাবে অনেক অনেক কম। কারন  রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থাটাই সে ভাবে তৈরী যাতে  বেশী সচেতন মানুষের প্রতিনিধিত্ব না আসতে পারে পার্লামেন্ট এ কিংবা বিধান সভায় ।উপনিবেশবাদীদের অনুকরনে প্রচলিত এই  সংবিধান অন্ততঃ কিছুটা গনমুখী হলেও গন অর্থাৎ বেশীর ভাগ মানুষই জানেন না ,কোনটা তাঁদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ,আর  কোনটা তাঁদের আরও দরকার ? এ  রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার মানুষের জন্য যে  পরিমান কাজ  করেছিলেন তা  কিন্তু ঐ সংবিধানের  অধিকারের মধ্যে ,বদল করে  নয় ।  আর এটাতেই প্রমানিত হয় স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচিত রাজ্য সরকার গুলির থেকে এই  সরকারের প্রকৃত সৎ উদ্দেশ্য গুলিকে । অন্যান্য সরকারগুলির  থেকে মার্ক্সবাদী সরকারগুলির দৃস্টিভঙ্গীর ফারাক । যুক্ত রাস্ত্রীয় কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখেও । মার্ক্সবাদীদের মূল লক্ষ্য সংসদীয় ব্যাবস্থার আমূল পরিবর্তন , তথা রাস্ট্র যন্ত্রের  দখল । আর  এটা  মার্ক্সবাদীদের কোনো গোপন চক্রান্ত নয় । বরং  বলিষ্ঠ ঘোষনা ।এবং তা হবে মার্ক্সবাদী লেনিন বাদী পথেই ।  সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অর্থে বল প্রয়োগের দ্বারা রাস্ত্র ক্ষমতার দখল আজ এই যুগে এই সময়ে এবং এত বড় দেশে বোধ হয় সম্ভব নয় , অন্ততঃ প্রাথমিক বিশ্লেষনেতো তাই ই মনে হয় । অবশ্য পরিবেশ পরিস্থিতি বদলালে কোন পথে আসবে  বেশীর ভাগ  মানুষের মুক্তি তা  সময়ই বলতে পারে ।  বর্তমান  নয় । অতএব বিকল্প কোনো পথ না পাওয়া পর্যন্ত এই সংসদীয় গনতন্ত্রের পথেই ,এবং এই গনতান্ত্রিক সীমা বদ্ধতার মধ্যেই মার্ক্সবাদীদের হয়ে উঠতে হোচ্ছে  সৃস্টিশীল । আর সৃস্টিশীল যে  কোনো কাজ কখনোই  সরলরেখায় চলে না । আঁকা বাঁকা পথেই তাকে পৌছতে হয়  সম্পূর্ণতায়। আর এই  চলাটাই সম্পুর্ণতায় পৌছলে চলার  এই  ছন্দ এই আঁকিবুকিটাই হয়ে  যায় একটী ছবি ,আরো একটি প্রয়োগ পদ্ধতি  , আরো একটি মার্ক্সবাদী প্রয়োগ । তৈরী হয় নতুন তত্ত্ব । এটাই মার্ক্সবাদী সৃজন শীলতা ,যা অবিনশ্বর এবং সুন্দর । কারন এর  মূল  চালিকা শক্তি সচেতন  মানুষ। আর এ  ছবি আঁকতে মার্ক্সবাদীরা বিশ্বাস করেন গনতন্ত্রে । তাই সীমীত হলেও যেটুকু গনতন্ত্র আছে তাকে  রক্ষা  করতে হবে এবং আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গনতন্ত্রের সীমানা বাড়াতে হবে । যে গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আমাদের শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে কাংখিত " সমাজ তন্ত্রে"। এবং তাই বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর অনেক পার্টি কর্মী কিংবা দরদীদের বলতে শুনি ," সরকারে আসাটা আমাদের  লক্ষ্য  নয় । আমরা মানুষের সংগ্রামে মানুষের পাশে থাকতে পথেই আছি ।" হ্যাঁ ।পথেইতো থাকতে  হবে ।কারন মানুষ পথেই ছিলেন ,পথেই আছেন ,পথেই থাকবেন । কোনো মিনারে নয় । কিন্তু পথ থেকে আমাদের গন্তব্য কোথায়? সংসদীয় গনতন্ত্রের সংগ্রামে নির্বাচন এবং নির্বাচনে জয়লাভটাকে অস্বীকার করি কি করে ?  আর নির্বাচনে অংশগ্রহন এবং তাতে জয়লাভ করতে প্রয়োজন শক্তির (সব অর্থে) ব্যাপকতা এবং ব্যাপক শক্তিকে সংগঠিত করা । প্রতিটী এলাকায় এলাকায় সন্ত্রস্ত বিপন্ন আক্রান্ত সর্বস্বান্ত মানুষের কাছে পৌঁছে এ সাহস যোগাতে হবে যে ," পারেন । আপনারাই পারেন। আপনারাই পেরেছিলেন। আপনাদের সঙ্গে  নিয়ে আমরাই পারি এই সন্ত্রাস, আতংক, বেকারীর বিরুদ্ধে , শিল্পের পক্ষে কৃষির পক্ষে শিক্ষার পক্ষে স্বাস্থের পক্ষে লড়াই জারী রাখতে এবং আবার ও বামফ্রন্ট সরকার গড়তে । এবং গনতন্ত্রের পরিধিকে প্রশস্ত  করতে সারা দেশের মানুষকে সমবেত করতে বামফ্রন্টের নেতৃত্বে "। চলুন  আবারও  ডাক তুলি , বামফ্রন্ট সরকার --সংগ্রামের হাতিয়ার"।  কারন লড়াইটা আজ একেবারে  মুখোমুখী। দস্তানায় তালু লুকিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে করপোরেট তথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি , তারাই এখন  মুখোমুখী এ দেশের কোটী কোটী মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে  কম্যুনিস্ট পার্টি তথা বাম্পন্থীদের । এই  লড়াইটা লড়তে গেলে এবং জিততে  গেলে একটা সামিট ক্যাম্প বা বেস ক্যাম্প দরকার । ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিন ভারতে সে সম্ভাবনা প্রবল। তাই  ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সব শক্তি নিয়ে সংগঠনের  কাজে। এটাই ভারতের দ্বিতীয় এবং বৃহত্তম স্বাধীনতা যুদ্ধ ।। ( ক্রমশঃ)।

Saturday, November 24, 2018

দস্তানার চরিত্র---৮

প্রসংগ সিঙ্গুর রুপায়নের প্রশ্নে ভুলটা কার ? পার্টির না  সরকারের ?   জ্যোতি বাবু প্রমোদ বাবু অশোক ঘোষ নিখিল দাস দের সময়ে গৃহীত নীতি ছিলো , " বাম ফ্রন্ট এ আলোচনা কোরে যে কোনো সিদ্ধান্ত্ব গ্রহন করতে হবে " , সরকারের তরফ থেকে যে কোনো প্রস্তাবের বা বাম ফ্রন্ট এর পক্ষ থেকে যে কোনো প্রস্তাব । বাম ফ্রন্ট এর সম্মতি মতোই সরকার এবং পার্টীগুলি একযোগে তা রুপায়নে মাঠে নামবেন । প্রশ্ন , তেমনটা হয়েছিলো কি ? যদি হয়ে থাকে তবে ফ্রন্টের এক বড় শরিক(নাম করছিনা ফ্রন্ট এর অস্তিত্বের প্রয়োজনে ) এর উচ্চ স্তরের নেতাদের সিঙ্গুর বিরোধিতা জন মনে প্রশ্ন তুলেছিলো কেন? ২ ) সি পি আই (এম)এর কৃষক সভার জ্ঞাতে কি টাটার পছন্দের জমি নির্বাচিত হয়েছিলো ? যদি হতো তবে জমি দখলের প্রশ্নে প্রথম দিকে চাষীরা বাধা দিয়েছিলেন কেন ? পরে যদিও কৃষক সভার নেতৃত্বেই জমি দিতে বেশীর ভাগ চাষীই সম্মত হয়েছিলেন এবং সরকারের উন্নয়নের এই উদ্যোগ যে শিল্পের সাথে সাথে তাঁদেরও সার্বিক উন্নয়ন তা তাঁরা উপলব্ধি  করে বামফ্রন্ট এর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ।  কিন্তু আগেই কৃষক সভাকে সম্মত  করে এ কাজে নামলে বেচারামদের জন্ম হোত কি ?  তাই মানুষ সাদা চোখে মনে করেন কোথাও একটা সরকারী ঔদ্ধত্য পার্টী এবং ফ্রন্ট কে অন্ধকারে রেখেছিলো । তাই এ ভুল সরকারের । ক্ষতি নিরাময়ে সবাই পরে একজোট হলেও ক্ষতি ঠেকানো গেল না । কারন  অশিক্ষিত এবং ধ্বংসকারী শক্তি তৃনমুলের বিরুদ্ধে সরকার তার রাষ্ট্রীয় ভাষা প্রয়োগের বদলে গনতান্ত্রিক ভাষা এবং ব্যাবহার বহাল রাখায় । এক্ষেত্রেও প্রশ্ন থাকে পার্টী ,ফ্রন্ট ,ও সরকারের সাজুয্যতা নিয়ে । অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কম্যুনিস্ট পার্টীর তফাত এই যে ,অন্য দলগুলোর অস্তিত্ব কিংবা না অস্তিত্বর  ওপর নির্ভর করে না সাধারন মানুষের জীবন জীবিকা কিংবা নিরাপত্তার প্রশ্ন। কিন্তু কম্যুনিস্ট পার্টী ও  কম্যুনিস্ট ভাবাদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে যা একেবারেই  বিপরীত । কারন কম্যুনিস্ট পার্টীর একমাত্র  স্বার্থ মানুষের শৃংখল মুক্তি ।রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তি ।মার্ক্সবাদী পথে । তাই সাধারন মানুষের ওপর যে কোনো আক্রমন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কিংবা ব্যাক্তিক  সে আক্রমন আসলে কম্যুনিস্ট পার্টী কিংবা কম্যুনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী মার্ক্সবাদী পার্টীগুলির ওপরই আক্রমন । আর  তাই মানুষ তাকিয়ে থাকেন  এই আক্রমনের মোকাবেলায়  পার্টীর ভূমিকার  এবং নির্দেশের দিকে । এ ক্ষেত্রেও তাই  স্বভাবতই পার্টীকে  হতে  হয় একই সাথে সাবধানী ,সতর্ক, এবং প্রতিরোধী । দায়িত্বটা কঠিন কিন্তু অবশ্য কর্তব্য । প্রশ্ন এখন এই সময়ে পার্টী কোথায়, আমরা কোথায়, আর কি ই বা আজকের রাজ্যের এবং দেশের পরিস্থিতি? কি আমাদের কর্তব্য ? (পরের বার ) ।

Friday, November 23, 2018

দস্তানার চরিত্র---৭

রাজ্যের অর্থে পশ্চিমবঙ্গের ত্রুটীগুলিও সর্বমোট ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টীর (মার্ক্সবাদী) গৃহীত ভুল সিদ্ধান্ত্ব ও কৌশলগুলিরই ফলাফল। উপরন্তু যোগ হলো পার্টীর বেশীটাই আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা । বাম পার্টীগুলিকে কোরে  তুললো জন বিচ্ছিন্ন ।  পার্টীর এবং মানুষের মধ্যের রক্ত মাংসের যোগ যত কমেছে ততই পার্টির মতাদর্শের লড়াই হয়েছে ম্লান । আর  এই বিশাল জনবুনোট এর আলগা ফাঁকে  বাসা বাঁধলো বিষাক্ত কীট , প্রোমোটার,কন্ট্রাক্টর , চাটুকারদের ছদ্মবেশে। অনেক জেলায় তারাই হয়ে  উঠেছিলো পার্টির নিয়ন্তা এবং সাধারন মানুষের কাছে পার্টী তথা সরকারের সেতু । গ্রাম থেকে শহর এমন কি সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও শক্তিশালী হলো একদল রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক " মাফিয়া"। শুধু নেতৃত্ব আজীবন  সৎ থেকেও রক্ষা করা  যায়নি  সামগ্রিক রাজনৈতিক সততা ।  এই মাফিয়াদের সংখ্যা ছিল তুলনায় কমই , কিন্তু ক্ষমতা ছিলো অসীম । থানা কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যালিটী , পঞ্চায়েত , বিদ্যালয় , মহা বিদ্যালয় , হাসপাতাল , সাংস্কৃতিক অঙ্গন , মোটের ওপর  যে  সমস্ত স্থানে সাধারন মানুষেরা নিত্য সেখানেই এরাই ছিলো মাতব্বর , লাল মিছিলে পা মিলিয়ে , লাল জামা পরেই । প্রমান ? লক্ষন শেঠ এর মতো  লোকেরা ।  প্রসঙ্গ সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম----------। এ  কথা ভুললে চলবে না যে উন্নত পঞ্চায়েত ব্যাবস্থার মাধ্যমে গ্রামীন সরকারকে শক্তিশালী করে  একদিন ক্রীতদাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ  নুব্জে পড়া কৃষক সমাজকে মেরুদন্ড সোজা করে মাথা উঁচু করে বাঁচার পথ দেখিয়েছিলেন বামফ্রন্ট সরকার  । গ্রামের মানুষের চরম অর্থনৈতিক পরাধীনতাকে সম্ভব মতো অবসান করার ফলে বাড়লো গ্রামের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা । তাই পরিকল্পনা মাফিকই তৈরি হোল নতুন নতুন বিদ্যালয় ,মহা বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় । কারন এই  সরকার সচেতন ছিলেন যে দেশের বেশীরভাগ মানুষ থাকেন  গ্রামে ।এবং দারিদ্রের সংখ্যাও বেশী । তাই ১৯৭৭ এই এক দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার ক্রম সাজিয়ে ছিলেন ।প্রথমে কৃষি , তারপর শিক্ষা, এবং  অবশ্যই শিল্প । তাই প্রথম থেকেই লক্ষ্য পূরনে এই  সরকার ছিলেন সচল । অর্থাৎ  কৃষির উন্নয়নের  সাথে সাথেই এগিয়ে যেতে  হবে শিক্ষায় । এবং  শিক্ষায় এগিয়ে  থাকা  একটি  জাতি কখনই শুধু মাত্র কৃষি কাজে আবদ্ধ থাকতে  পারেন না । কারন বেশী মানুষের হাতে  পয়সা আসা মানেই বাজারে তাঁদের অধিকারের বৃদ্ধি । তাই বাজার( লুঠের নয় ) এবং শিক্ষাকে সফল  করে  তুলতে প্রয়োজন ভারী শিল্প । এবং  তারই নিরন্তর প্রচেস্টার ফলশ্রুতি সিঙ্গুররের মোটর কারখানা টাটা গোষ্ঠীর । অন্য দিকে পুরুলিয়ায় জিন্দালদের বৃহত্তম ইস্পাত প্রকল্প এবং  নন্দীগ্রামে কেমিকাল  হাব । প্রমাদ গুনলো বাম বিরোধীরা এবং অবশ্যই  কর্পোরেট শক্তি তথা সাম্রাজ্যবাদ । কারন  সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যেও কম্যুনিস্টরা কৃষি সমস্যা মিটিয়ে শিল্প ভাবনায় সাফল্য  পায় তবে  সেই  দৃস্ট্বান্ত দেশের অন্য রাজ্যগুলিকেও বিকল্প ভাবনায় সাহসী  করে  তুলবে । এবং কম্যুনিস্ট তথা বাম শক্তির প্রসার ঘটবে । সংসদীয় গনতন্ত্রের মধ্যে থেকেও পরীক্ষা  নীরিক্ষার এই সফল  প্রয়োগ  শুধু ভারত নয় ,এশিয়া মহাদেশের থেকেও সাম্রাজ্যবাদ তথা করপোরেট শক্তির কাছে যেন  অন্তিম  বার্তা । তাই যে ভাবেই হোক  একে রুখতে হবে । প্রয়োজনে সব  শক্তি  ও  কৌশল প্রয়োগ করে । এবং তা  করতে হাতিয়ার হয়ে উঠলো বাম্ফ্রন্ট ও সি পি আই (এম ) এর  ভুলগুলি এবং ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্নতা ।  অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী কমরেড  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর দুর্বল প্রশাসনিক চরিত্র । বাংলাকে তছনছ করতে বিদেশী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি কোমর বেঁধে নামলো । জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ  রইলো ২১দিন । আদালতের সুস্পস্ট রায় সরকারের পক্ষে। অথচ সরকার তার রাস্ত্রীয় ক্ষমতার প্রয়োগ  না  করে দিনের  পর  দিন আলোচনায় মীমাংসায়  পৌঁছতে সচেস্ট থেকে ওদের সংগঠিত  ও  সাহসী হয়ে  উঠতে শক্তি  জোগালো । শিক্ষিত  মানুষ  বুদ্ধ বাবু  ভুলে  গেলেন যে  অশিক্ষিত এবং  "একা" একজন  ক্ষমতা লোভীকেই বেছে নিয়েছে করপোরেট  শক্তি । যাতে  লুম্পেন  দ্বারাই চালিত  করানো যায় তাকে । তাই প্রায় শেষ হবার  মুখে টাটার কারখানা বন্ধ হয়ে  গেল ।পরিকল্পনা করেই  নন্দীগ্রামে চলল অবরোধ - মাও বাদী দের  ভাড়া করে । "পরিবর্তনের " আওয়াজ তুলে তাকে  সফল  করতে ওই  দুস্ট শক্তি অই সাহসটিকেই পুঁজি করলো । তারপরটাযে  সুখকর  নয় এ আর না  জানা  আছে  কার ?   এখন প্রশ্ন সিঙ্গুর ও  নন্দীগ্রাম প্রশ্নে ভুলটা কার ? সরকারের না পার্টীর ? ( ক্রমশঃ)