Tuesday, June 8, 2021

সব জান্তা বাজারী সুশীলরা কি বনবাসে?

আচ্ছা সেই মুখগুলো কোথায়? সেই।যারা মোমবাতি জ্বালিয়ে ফ্লেক্সে মুখ আঁকিয়ে "পরিবর্তন" চেয়েছিল,ভদ্র নম্র রুচীশীল মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেবের সাদা পাঞ্জাবীতে রক্তের দাগ দেগে বামফ্রন্টএর বিকল্প এই বর্বর চোর লুঠেরা হাতে বাংলাকে তুলে দিতে পায়ে হেঁটেছিল, সেই বিভাস চক্রবর্তী মনোজ মিত্র,শাঁওলী মিত্র,রুদ্রপ্রসাদ,অপর্না সেন কৌশিক সেন সুমন মুখার্জীর মত আরো কত আনন্দবাজারী সুশীল বিদ্দ্বজনেরা? দুটো প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেল।ধ্বংস হয়ে গেল গোটা শিক্ষা ব্যাবস্থা, বন্ধ্যা হয়ে গেল শিল্প,কৃষি,স্বাস্থ্য,সংস্কৃতি।এরা কোথায়? এরাকি এখন বলাৎকারী ঋতব্রতর কাছে ফ্যাসিবাদের চরিত্রের পাঠ নিচ্ছে? দিন বদলাবেই বদলাবে।কৌশলে বার বার বোকা বানানো যাবে না মানুষকে। মানুষ তাঁদের নিজেদের কথা বলবেনই।নিজেদের রায় নিজেরাই দেবেন। সেদিন এই সব লোভী, স্বার্থপর,বিশ্বাসঘাতকদের (যদি বেঁচে থাকে) রাস্তায় টেনে এনে মানুষ রক্তাক্ত করবেন। তীব্র ঘৃনা আর ক্রোধ যখন সহজাত হয় তখন সেটাই পায় স্বাভাবিকত্ব। সেদিন আসবেই আসবে। এটা মনে রাখুক ঐ বাজারী, পোষা দ্বিপদী চতুষ্পদরা।ক্ষমা নেই।কোন ক্ষমা সেদিন হবে স্বাভাবিকত্বের শত্রু।
[ ধ্বংস হচ্ছে জাতি।জাতির মেরুদন্ড "শিক্ষা"।। ধ্বংস হচ্ছে দেশ।দেশের শিল্প কৃষি শিক্ষা স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য।অথচ সব জান্তা বাজারী সুশীলরা বনবাসে? সাবধান।দিন আসবেই আসবে।এটাই মার্ক্সবাদ।]
৭ ই জুন। ২০২১।
শ্যামল ভট্টাচার্য। শপথ। কলকাতা।

ভাল কম্যুনিস্ট খারাপ কম্যুনিস্ট?হয়?

সুব্রত এক ই মশলা কি সব পাকে লাগে? নিজেই পড়ে দেখ। আমার প্রশ্ন।বিশ্ব ইতিহাসে কম্যুনিস্টদের এই বাধাও পেরোতে হয়েছে। বুদ্ধিজীবীরা ছুরি নিয়ে কম্যুনিস্ট খুনে মেতেছে এ নজীরও আছে। আমার প্রশ্ন ছিল ভিন্ন। নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে বিরোধিতা করা আর সরকারকে শক্তিশালী করা একই। কাজ করলে ভুল হবে। ঠিকও হবে। বরং অপন্ডিতি ভাষায় বলা যায় "ঠিক" টায় পৌছতে বহু "ভুল" ও পেরোতে হয়। ভুলগুলোকে যাঁরা প্রকট করে প্রচার করেন, করেন বিশেষ উদ্দেশ্যেই।এবং সে উদ্দেশ্য র প্রথম এবং প্রধান কাজ ১) কম্যুনিস্ট তথা বাম নেতৃত্বের(ভাম নয়) "ঠিক কাজ গুলোকে ফিকে করে দেওয়া,।অতি সাধারন করে দেওয়া।২) মানুষের স্মৃতি থেকে বামদের (এই সংবিধানের মধ্যে থেকেও)  জনমুখী ঐতিহাসিক সাফল্যগুলোকে সরিয়ে দেওয়া
৩) বাম নেতৃত্বের মধ্যে ভগবান আর দানব তৈরী করে  এবং কুৎসিত প্রচারে তাকে ব্যাপ্ত করে কম্যুনিস্ট পার্টীর শৃঙখলাকে প্রশ্নের সামনে নিয়ে আসা। যা অবান্তর কিন্তু বাজারী। কমরেড জ্যোতি বসুই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।  
এবং এসবই করা হয় কম্যুনিস্ট মতাদর্শের প্রসারে এবং প্রচারে মার্ক্সের জামা পরেই।
আরও বিস্তৃত আলোচনার অবকাশ আছে। তবে পার্টী যখন উদবিগ্ন এবং স্বাভাবিক কারনেই দেশ এবং রাজ্য নিয়ে।দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে, নিরাপত্তা দেশের স্বাধীনতার সংবিধানের, মানুষের রুটী রুজি শিক্ষা স্বাস্থ নিয়ে তখন পার্টীকে সংহত করে তুলতে হলে মানুষের পক্ষে তাঁদের কাজ, সংবিধানের প্রয়োগ,এবং ধর্মীয় ফ্যাসীবাদের বিরুদ্ধে গনতান্ত্রিক সংগ্রামকে সংগঠিত করতে নিজেদের ছোট্ট কিন্তু প্রয়োজনীয় ভূমিকা গ্রহন করে মানুষকে বিজয়ে বিশ্বাসী করে তোলাই প্রকৃত কম্যুনিস্ট মতাদর্শীদের প্রাথমিক কর্তব্য। লক্ষ্য করছি নির্বাচনের ফলাফল টাকেই নির্নায়ক করে পার্টীকে পার্টী শুন্য করার একটা প্রবনতার প্রসার ঘটাতে বোরখা ধারী কিছু প্রতিক্রিয়াশীল জমা হচ্ছে।নজর রাখছি। জানি তোমার আদর্শের প্রতি প্রেম হয়তো তোমাকে ক্ষুব্ধ করেছে। কিন্তু সুব্রত আবেগকে বুদ্ধি দিয়ে পরিচালনা যেমন বড় স্রস্টার কাজ ঠিক তেমন ই কম্যুনিস্ট ভাবাদর্শে বিশ্বাসীদেরও কাজ।। আবেগেই " বাম" ভাম হয়। যাতে না হয় তার জন্য সতর্কতাই বোধ হয় শিক্ষা। দেখা হলে কোথাও কথা হবে। ভাল থেকো।
[ ভাল কম্যুনিস্ট খারাপ কম্যুনিস্ট?হয়?]
বন্ধু সুব্রত কাঞ্জিলালের মন্তব্যের প্রেক্ষাপতে]
 শ্যামল ভট্টাচার্য। শপথ। কলকাতা। 
৮ ই জুন। ২০২১।

Monday, June 7, 2021

আবেদন সমর্থকদের প্রতি

বিশ্বরূপ, বাড়ীর বয়স্কদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে কি বাড়ীর কর্তা বনা যায়? কোথা থেকে শিখলেন এই অসভ্যতা? কি জানেন পার্টীর এই নিবেদিত প্রান কমরেডদের জীবনের ত্যাগ তিতিক্ষার ইতিহাস? কি জানেন এঁদের ওপর শাসকের সন্ত্রাস নির্যাতনের কাহিনী?জানেন কি এঁরা প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত জীবনে এবং পারিবারিক ঐতিহ্যে শীর্ষস্থানীয়।কিন্তু তবু মানুষের সংগ্রামে সাথী হতে মার্ক্সবাদে দীক্ষিত এই বর্তমানের বয়স্ক নেতৃত্ব নিজেদের যৌবনকে বলি দিয়েছেন বহু বহু তরুন যৌবন আর তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত তৈরী করতে। দেশকে শৃঙখল মুক্ত করে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিতে। একজন কমরেড মানে জনগনের এগিয়ে থাকা অংশের একজন। এই এগিয়ে আসতে তাঁদের প্রত্যেককে আসতে হয়েছে কঠিন অগ্নি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। পার্টী কোন গেষ্ট হাউস নয় যে যে কেউ আস্তে পারে,থাকতে পারে,আবার স্ব ইচ্ছায় চলে যেতে পারে। এটা একটা বিপ্লবের আখড়া এখানে নতুন প্রজন্ম তৈরী হয় পুরোন কমরেডদের হাত ধরে পার্টী এবং সামাজিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে। এটা কম্যুনিস্ট পার্টী। এই পার্টীতে বাচালতা অসভ্যতা,অশ্লীলতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। জানিনা আপনি কোথায় কোন স্তরে আদৌ পার্টীর কোন অংশের সাথে সভ্য বা সমর্থক হিসেবে যুক্ত কি না? শুধু জেনে রাখুন এই পার্টীর একজন সাধারন সমর্থক হতে গেলেও তাঁকে অলিখিত ভাবেই এইসব স্বেচ্ছা  অনুশাসনের অনুগত হতে হয়। আর তাই এই পার্টীতে সভ্যদের সাথে সাথে সমর্থকদেরও গুরুত্ব আর সম্মান থাকে। সে সম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব যার যার নিজের। ফারাক এই যে এই অনুশাসন ভাঙলে সভ্য সভ্যা তাঁরা যে স্তরেরই হন না কেন হন "বহিষ্কৃত"।আর সমর্থকদের বহিষ্কার সমর্থকরা নিজেরাই করেন। বহিষ্কৃত সদস্যের ফিরে আসার সুযোগ আছে নিজের শুদ্ধিকরন ঘটিয়ে।কিন্তু স্ব বহিষ্কৃত সমর্থক আর সে সুযোগ পান না।কারন একমাত্র পার্টীর ঘোষিত কর্মসূচীতে নিয়ত অংশ গ্রহনের মাধ্যমেই বহিষ্কৃত সভ্যরা আবেদন করে ফেরার সুযোগ পান। স্বঘোষিত সমর্থকেরও সে সুযোগ থাকে। কিন্তু তফাত হয়ে যায় আগ্রহে আর যাপনে। পারলে নিজেকে  চিহ্নিত করুন।নইলে সোস্যাল মাধ্যমকে ময়লা কগজের পরিত্যক্ত বাক্স তৈরী করবেন না। এই আবেদন সমস্ত সমর্থকদের৷ জন্য।
শ্যামল ভট্টাচার্য। শপথ।বেহালা।
৭ ই জুন।২০৮১।
[আবেদন সমর্থকদের প্রতি]

Saturday, June 5, 2021

এ পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় আতঙ্কের শেষ কোথায়?

অনেক অনেক অনেকটাএগিয়ে গেছে এই প্রথম পছন্দ বিচ্ছিন্নতা এবং আতঙ্ক। (সুত্র -মৈনাক সেনগুপ্ত। বিশিষ্ট নাট্য ও সমাজ কর্মী)
 অনেক অনেক টা। অনেক অনেক দেরী করে ফেলেছি বোধ হয় আমরা এই ভয়ানক আক্রমনের বিরুদ্ধে মানুষকে সজাগ এবং সক্রিয় করে তুলতে। শিক্ষালয়,পরীক্ষা ব্যবস্থ্যা,খেলাধুলো শরীর চর্চা,থিয়েটার,সিনেমা,প্রত্যক্ষ সেমিনার,আলোচনা সভা কবিতা পাঠ সব বন্ধ করে মানুষের মস্তিষ্কে ওরা এই আতঙ্ক প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে। সাথ দিয়েছে  দালাল বানিয়া অসভ্য, দেশের এবং মনুষ্য জাতির কলঙ্ক "মিডিয়া"। "মরনটাই যেন সত্যি " প্রচার করে। তাই অভিভাবকরাও চাইছেন না স্কুল কলেজ খুলুক। বাজার হাট বসুক স্বাভাবিক ভাবে। আমাদের যাপনেও আমরা "ভয় নেই ভয় নেই" বলেও ওই আতঙ্ককেই বয়ে বেড়িয়েছি। বেড়াচ্ছি। কারন পেছটান। আতঙ্কটা আজ মস্তিষ্ক সমাজের। দেহ গুলো অপারগ।  এটা যে বহু পরিকল্পিত বয়ে আনা আতঙ্ক,রাজনৈতিক আতঙ্ক এই সত্যটা কোথাও যাপনে বা প্রচারে বামপন্থীদেরও ভূমিকা আকর্ষনীয় নয়।আজ শ্মশান জনপদে শুধু "ছিলাম" এর আওয়াজ। "এই তো আছি"  সেই সদর্ভ  উপস্থিতি যেন আজ রূপকথা। এরই মাঝে পার্টীর নেতৃত্বে "রেড ভলান্টিয়ার্স রা " একটা নতুন ভাষা।নতুন রূপ।দাঙ্গা মহামারীর সময়ে অবিভক্ত কম্যুনিস্ট পার্টীর মানুষকে বাঁচানোর এবং মানুষের মধ্যে কম্যুনিস্ট পার্টীকে বাঁচিয়ে রাখার যে একদা অধ্যায় বলা যায় রেড ভলান্টিয়ার্স  তার পুনঃস্থাপন।অবশ্যই  যথোপযুক্ত।কিন্তু আক্রান্ত মস্তিষ্ক কে সম্পূর্ন নিরাময় করতে নয়। তবে পথ কি? জানি না। তবে মানি অবাধ্যতার ঢেউ,বাধা ভাঙার দুর্জয় সাহস ও গাঢ় অন্ধকারের প্রাচীরে ছিদ্র চেনায়। দেখায় ওপাড়ে আলো নিশ্চয়।
[এ পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় আতঙ্কের শেষ কোথায়? 
বিচ্ছিন্নতায়,বন্দী জীবনে? না মুক্তির লক্ষ্যে অবাধ্যতার ঢেউ তোলা? ভাবছেন কি কেউ? কেউ?] 
  শ্যামল ভট্টাচার্য। শপথ। কলকাতা।
৫ ই জুন।শনিবার। দুপুর আড়াইটে। ২০২১।

মাননীয়া যশোধরা বাগচি,রেড ভলান্টিয়ার্স, এবং ঘন্টা সুমন প্রসঙ্গে

 "আমাদের ছেলে এবিপি তে দারুন বলেছে" বলে এত উদবাহু নৃত্য করি কেন? ঘৃনার সঙ্গে প্রত্যাখ্যানের সাহসও তো দেখিনা। দেখিনা কারন আমাদের কোন বিকল্প নেই। অথচ আমার বিশ্বাস এ বিকল্প বামেদের সহজাত। অ ব্যাবহারে তার নির্ভরশীলতা প্রশ্ন সাপেক্ষ। কিন্তু ছিল। তখনও মিডিয়া ছিল না আমাদের। ফারাক হল, কম্যুনিস্টরা মানুষের মাধ্যমেই বৃহত্তর মানুষে পৌছাতেন। তাই জনসংযোগ ছিল পাহাড়ের মত সু উচ্চ। বৃক্ষের মত প্রথিত। আর এখন? বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে " মিডিয়া  নির্ভরতায় ভুগি, যেখানে মানুষের উত্তাপ  ওম থাকে দূরে।বহু দূরে। তাই বাষ্পায়িত হন তারা।তপ্ত না। যেমন পার্থক্য থিয়েটার আর সিনেমার মধ্যে। থিয়েটারের মানুষ থাকেন নিত্য ছোঁয়া।আর সিনেমার টা বায়বীয়। তাই থিয়েটারের মানুষ যত সহজ যত সহজ বোধগম্য সিনেমার তা নয়। একজন অভিনেতা হিসেবে ক্রমাগত তিনটে মাধ্যমে কাজ করে এই সত্য উপলব্ধিতে  আমি নির্দ্বিধ। সিনেমায় লোককে মানুষ ভাবেন দূরের রূপকথার কেউ।কিন্তু থিয়েটারের মানুষটা নিত্য। প্রচারেও দেখেছি "সেলিব্রিটি " র পোশাকে এই দূরের সাজানো মানুষজন নিয়ে ইদানীং রাজনৈতিক দলগুলোর নক্কারজনক হ্যাঁঙলামী। আর তাই দালাল মিডিয়া সুযোগ পায় আমাদের দেওয়ালে ছিদ্র তৈরী করতে। অধুনা কমরেড তন্ময় এর মত পোড় খাওয়া নেতা তার প্রমান। শত্রু নির্বাচিত হলে চরমতম ঘৃনাই তার প্রাপ্য। নচেত ঐ" আমার যেমন বেণী তেমনি রবে চুল ভেজাবো না"র মত দুর্বল  দীঘি ওরা নয়। বছরে একটা দুটো ওতে ডোবেই।পার্টীর লাইফ বেল্টেও বাঁচে না।তাই বলি আগে নিজেদের শানিত করি বরং। পরে তর্জনী তোলা যাবেখন। ওরা থাকবে না। থাকবেন কম্যুনিস্ট রাই। এবং শুধুই কম্যুনিস্ট পার্টী তা সে যে নামেই হোক।আমি নিশ্চিত।
[ মাননীয়া যশোধরা বাগচি,রেড ভলান্টিয়ার্স, এবং ঘন্টা সুমন প্রসঙ্গে]
শ্যামল।শপথ।কলকাতা।

Friday, June 4, 2021

সাবধান। থার্ড ওয়েভ আসছে

আলেয়ার পেছনে ছুটিনিতো আমরা? মিডিয়ার ক্রমাগত প্রচারে যে বাইনারী খেলা, তথাকথিত লিবারেল দের সঙ্গে নিয়ে যে নির্বাচন পর্ব সমাপ্ত হল রাস্ত্রের প্রত্যক্ষ মদতে(নির্বাচন কমিশন,প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে) এবং যার ফলাফল "বাম শূন্য"। প্রচারী লক্ষ্য বি.জে.পি.ঠেকাতে তৃনমুলকে সরকারে আনো,তাতে ওরা সফল।পাশাপাশি বামেরা দিতে চেয়েছিলেন একটা প্রকৃত গনতান্ত্রিক বিকল্প। কিন্তু মানুষের আতঙ্ককে অতিক্রম করা যায় নি।আর এই আতঙ্কর প্রধান দুটি হাতিয়ার ১)পরিকল্পিত করোনা আর ২) ধর্মীয় বিভাজন(এবং তাই এন আর সি।)। এরই ফল বি.জে.পি.র ৭৮ টি আসন। এবং এই আটাত্তরটী আসনই বেনামে তৃনমূলের।অথবা তৃনমূল প্রভাবিত। মমতা দেবীর নিজের উক্তি" বেশী করে আসন দিন।নচেত বেইমানরা জিতে গেলে বি.জে.পি.র হয়ে যাবে।" বাজারেও খবর ছিল এমন সম্ভাব্য বহু প্রার্থী যাদের জয়ের সম্ভাবনা বেশী তারা কোটী কোটী টাকার দাদন নিয়ে বসে আছে। শর্ত "হারলে ফেরত নয়।জিতলে বি.জে.পি.তে"। সরকার গড়ার কাছাকাছি থাকলে হয়তো এতদিনে খেলাটা শুরু হয়ে যেত।তাই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এটাকে জিইয়ে রেখে মৃত্যুকে নিশ্চিত করতে এলোমেলো  চিকিৎসা ব্যাবস্থা। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ফলাও প্রচারে মানুষের আতঙ্ক হবে আরো গভীর।এ আতঙ্ক মস্তিষ্কে প্রবেশ করাতে পারলেই মানুষ বেশ অনেকদিন ধরে স্ব ইচ্ছায় থাকবেন এবং থাকতে বাধ্য করবেন " বিচ্ছিন্ন" একে অপরের থেকে। আর বিচ্ছিন্নতার মস্তিষ্কে "জোটের বার্তা" পৌছয় না।মানুষ থাকবেন বিভ্রান্ত।অগছালো।আর এই সুযোগেই আবারো আতঙ্ক তৈরী করতে হাতিয়ার করো ১)করোনা  আর দুই) এন আর সি। তাই আসছে তৃতীয় ঢেউ। অনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী এতদিনে জেনে গেছেন,বুঝে গেছেন ধর্মীয় ফ্যাসীবাদের চাওয়া "বাম শুন্য বিধান সভা" আসলে আর এস এস আর মিডিয়ার তৈরী "জতুগৃহ"। এ জতুগৃহে তিনি একজন পরাজিত সেনাপতি। তাই চলছে বিভিন্ন খাতে ওপর মহলের ভর্তুকি। কারন তাঁকে যে ভাবে হোক নির্বাচিত হতেই হবে। আর বি.জে.পি.তার রাস্ত্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী শিকারী বাঘের মত এগোতে চাইছে বাংলাকে গ্রাস করতে। তাই করোনার ঘোষিত তৃতীয় ঢেউ  ৬ই নভেম্বরের মধ্যে ৬টী কেন্দ্রে নির্বাচনের অন্তরায় হলেও আশ্চর্য  হবার নয়। কারন রাষ্ট্রপতি থেকে উচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশন, দালাল মিডিয়াকুল,এমন কি মানবাধিকার কমিশন টা পর্যন্ত আজ আর এস এস দের প্রতিনিধি দ্বারা চালিত। তাই একটা ভয়ানক নাগপুরী প্যাঁচের সম্ভাবনাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় কি? আর নির্বাচনটীর দিন অতিক্রান্ত হলে দাদন নেওয়া গুপ্ত ঘাতকরা নিজেদের প্রকাশ্য করতে আর অপেক্ষা করবে না। ফলে ছলে বলে কৌশলে বাংলা দখল একেবারে অসম্ভব কি?  বাম শুন্যর খেলায় বাংলার মানুষের জন্য পথে রক্ত ঝরাবেন সেই বামেরাই। নব্য বিপ্লবীরা তখন হয়তো মার্ক্সবাদী জামা পরে কম্যুনিস্টদের প্রয়োজনীয় উদারতার সুযোগ নিয়ে সেই জন বিস্ফোরনকে ছুরি মারতে আবারও ভীড়ে থাকবে বাম দুর্গে পুততুন্ডু ভটতাচার্যদের মত আর কত নামে কত পরিচ্ছদে। কিন্তু বাংলা তথা ভারতের এই ভয়ানক বিপদকে তারাও এড়াতে পারবে না।তারা শেষ হবে হয় জনতার রোষানলে আর নয়তো ধর্মীয় ফ্যাসীবাদেরই হাতে। এটা বুঝতে তাত্ত্বিকতার দরকার নেই। গেঁয়ো অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট।" কাজের সময় কাজী। কাজ ফুরোলেই গামছা কাঁধে কিষানজী।"এ প্রবাদ তৃনমূল আর লিবারেল দুজনের ক্ষেত্রেই অবধারিত। রইল পড়ে ব্যাপক জনতা আর কম্যুনিস্ট পার্টী।পরবর্তী অধ্যায় রচনা করবেন যাঁরা।করবেনই।করতেই হবে।কারন মানুষ কখনও নিরাশ্রিত থাকেন না। জঙ্গলে থাকলেও বটবৃক্ষ খুঁজে নেন।  এর ই নাম দ্বান্দিক প্রগতি।[ সাবধান।  থার্ড ওয়েভ আসছে]শ্যামল ভট্টাচার্য। শপথ। কলকাতা।৩রা জুন। ২০২১।বেহালা। কলকাতা।

Wednesday, June 2, 2021

বিকল্পের সন্ধানে

জোট টাকে নিশ্চিত করুক। জোটকে শিক্ষিতও করুক। শেষ পর্যন্ত  জোট টার লক্ষ্য,চরিত্র আর প্রচার নিবিড় হোক। এই ভয়ানক যুদ্ধে ওদের শক্তি কমানোটাই মূল লক্ষ্য। আমাদের নিজস্ব শক্তির বৃদ্ধিতো নিরলস কর্মসূচী। কিন্তু সংগঠন আর যুদ্ধ বিশেষত বয়ে আনা বা চাপিয়ে দেওয়া যে কোন যুদ্ধই আর তা যখন শিয়রে তখন নিজেদের সংগঠনের সাথে সাথেই নিজেদের শক্তির সঠিক হিসাব করেই ওদের দুর্বল করাটাই জোটের কৌশল এবং সুনিপুন হাতে তা ব্যবহার করাটাই সংগঠনের কাজ। আমাদের সময় কম। দায়িত্ব বেশী। তাই অহেতুক হতাশার প্রকাশে নেতৃত্বকে আক্রমন মোটেও সুস্থতা নয়। আমাদের  আমাদের নিষ্ঠাটুকু বজায় রেখে সেবা দিয়ে প্রতিবাদ দিয়ে,প্রয়োজনে স্থান বিশেষে সক্রিয় এমনকি চরম প্রতিরোধ দিয়েই মানুষের আস্থা জাগাতে হবে। বিশ্বাস জাগাতে হবেই সর্বভারতীয় বিকল্পের। কেরালা শুরু করেছেন। বাংলা, ত্রিপুরা অপেক্ষায়। চলুন বন্ধু এক এক করে কাজ নির্দিষ্ট করে পথে নামি। কোমলে কঠোরে আমরাই পারি মানুষকে আপাত বিকল্প দেখাতে।এবং শেষ মেষ মহা বিকল্প।ইন কিলাব।জিন্দাবাদ।
[ বিকল্পের সন্ধানে] 
শ্যামল ভট্টাচার্য।শপথ। কলকাতা। 
২ রা জুন। ২০২১।

Tuesday, June 1, 2021

চলে গেলেন আমার অচেনা কিন্তু গোটা বীরভূমের চেনা, দক্ষ ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার, প্রসিদ্ধ গায়ক,মেতে থাকা নাট্য পরিচালক।গ্রামের আটচালায় পাঠশালা বসানো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নে বিভোর৷ নাটকের পটূয়া মাননীয় অশোক। বাবু নয়। দা।দাদা।অশোকদা।-শপথের শ্রদ্ধার্ঘ

অনামী প্রতিমা শিল্পী এমন বহু আছেন সারা বাংলায় যাঁরা শহুরে ভাষায় 'স্যার"হন না। কিন্তু থেকে যান থিয়েটারের আটচালাতেই  পাঠশালার রেওয়াজে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্বপ্নে নিবিড়ভাবে তুলি ধরে চক্ষুদানে। সমবেদনা জানাই বন্ধুকে, ছাত্রদের,এবং উনার স্বজনদের। না আমার সাথে কোন পরিচয় ছিল না। নামও শুনি নি কোথাও। আসলে চেনা  শোনার জগৎ টাইতো সংকীর্ণ  বহু।মজে থাকি আত্ম প্রচারে।কিন্তু যে গাছ ফল দেয় সে তো নিজের পরিচিতি রেখেই যায়। ফল থেকে বীজ হয়। বীজ থেকে আবার বৃক্ষ। তাই পাঠশালা বিশ্ববিদ্যালয়ের  ক্ষয় নেই। ওটাই থিয়েটার এর স্থপতি। নমস্কার নেবেন৷
[ চলে গেলেন আমার অচেনা কিন্তু গোটা বীরভূমের  চেনা, দক্ষ ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার, প্রসিদ্ধ গায়ক,মেতে থাকা নাট্য পরিচালক।গ্রামের আটচালায় পাঠশালা বসানো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নে বিভোর৷ নাটকের পটূয়া মাননীয় অশোক। বাবু নয়। দা।দাদা।অশোকদা। শপথের শ্রদ্ধার্ঘ।] 
শ্যামল ভট্টাচার্য।শপথ। কলকাতা। 
১ লা জুন ২০২১।

রাজনৈতিক জোট না নামের জোট?জোট অপরিহার্য না

যুদ্ধ বাকি। পথও দীর্ঘ।নেতৃত্বকে দায়ী করে করে ক্ষত বিক্ষত করার আগে নিজেদেরও ক্ষত বিক্ষত করি আসুন। পার্টী সিদ্ধান্ত্ব যখন জরুরী প্রয়োজনে এখনি জোট (যে নামেই হোক তা) তখন তা কার্যকরী করতে আমি আমরা আমাদের এলাকায় কতটা সরব থেকেছি। পার্টীকে প্রশ্ন করার সময় আছে। বিরোধিতা করারও।কিন্তু যুদ্ধের সময় সেনাধ্যক্ষের আদেশ বা নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই প্রত্যেক্টা সৈনিকের অবশ্য কর্তব্য। তা কি আমরা সবাই দ্বিধাহীন  ভাবে মেনেছি? কোরেছি? এবার সময় আছে আলোচনার। আমি একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে এই দেওয়ালেই সে বিষয় উত্থাপন করেছি।অংশীর সংখ্যা বাড়লে পার্টীর উপকার হবে।আর পার্টী  কোন ব্যক্তি নয়। পার্টীটা আমাদেরই পরিবার।আমাদের হাতে শ্রমে স্বপ্নে গড়া একটা নিটোল আশ্রয়। এই আশ্রয়টা যত শক্তিশালী হবে ততই নিশছিদ্র হবে আমাদের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের সব রকমের নিরাপত্তা।নিরাপত্তা স্বাস্থ্যের,শিক্ষার,কর্মের,নারী
মুক্তির, শিল্পের,কৃষির সংস্কৃতির, নিরাপত্তা দেশের। দেশের অধিকাংশ মানুষের। তাই আসুন। হাত বাড়ান।
[ রাজনৈতিক জোট না নামের জোট?
জোট অপরিহার্য না

প্রতিরোধের মূহুর্তেই চেনা যায়, বন্ধু পাড়া পড়শী, প্রতিবেশীদের-তত্ত্বে কিংবা বকবকানিতে নয়

বাড়িতে আগুন। অপেক্ষা নির্দেশের? আঘাত থেকেইতো প্রত্যাঘাত।আঘাত কে সইতে হলে প্রত্যাঘাত ও স্বাভাবিক। এ তো বিজ্ঞানের শর্ত। এর আবার "ডাক" লাগে নাকি? শর্ত্তগুলোকে একজোট করে বিস্ফোরণের আকার দেওয়া সংগঠনের কাজ। অবহেলা করলে বা অনুধাবন করতে না পারলেই ঘটে যায় নিজেদের সামর্থ মতই। সেটাও কম নয়। কিন্তু সমগ্র নয়।  পরে যাঁরা নিজেদের বিদ্বান বা শিক্ষিত ভেবে ভূয়ো গর্বে খানিক পাঁচ সাত বক বক করি ",কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল,কোনটা সন্ত্রাস,কোনটা প্রতিরোধ বা কোনটা প্রতিরোধের নামে সন্ত্রাস আর কোনটা সন্ত্রাসের মাধ্যমেই প্রতিরোধ" তাতে আক্রান্তদের কোন সুরাহা হয় না।বস্তুতঃ তাঁরা এসব কূটকচালীর বিশেষ মূল্যও দেন না। কারন তাঁরা অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝেন যা করনীয়, যা না করলে তাঁদের সন্তান সন্ততিদের রক্ষা করা যেত না, ঠিক সেটুকুই তাঁরা করেছেন। বেশ করেছেন। আবারও প্রয়োজন পড়লে আবারও করবেন। " উনাদের কাছে দেশী টোটকাই শিক্ষা।"লোহা গরম হলেই হাতুরির ঘা মারো।বানিয়ে নাও তোমার অস্ত্র।"।এটাই শাশ্বত। এভাবে এপথেই মানুষের অগ্রগতি।রূপান্তর। মানি আর নাই মানি,এই শ্রেনী ব্যাবস্থায় আঘাত আসবেই। আর প্রত্যঘাতও ঘটবে বার বার।বার বার। আমি স্বাগত জানাই সে প্রত্যাঘাত কে। কবিগুরুর শান্তিনিকেতন ও আজ আক্রান্ত।তাই প্রয়োজন প্রত্যাঘাত।আর এই প্রত্যাঘাত থেকে মুখ ঘুরিয়ে যাঁরা তত্ত্বর আড়ালে মুখ লুকিয়ে বুদ্ধিজীবি সাজবেন তাঁদের কবিই বলে গেছেন,"ওরে ভীরু।তোমার হাতে নাই ভুবনের ভার।ওরে ভীরু।"।
[প্রতিরোধের মূহুর্তেই চেনা যায়, বন্ধু পাড়া পড়শী, প্রতিবেশীদের। তত্ত্বে কিংবা বকবকানিতে নয়]
 ১লা জুন ২০২১। বেহালা। কলকাতা ৬০।
শ্যামল ভোট্টাচার্য। শপথ। কলকাতা।

Sunday, May 30, 2021

" জানতে চাইলেই জানা যায়।অন্ধতায় নয়"

অসাধারন।পন্ডিতেরা যে ব্যাখ্যাই হাজির করুন ধর্মের নামে যুগে যুগে ভারতের এবং বিশ্বেরও সমস্ত সৃষ্টির মহানায়ক শ্রমিক।শুধুই শ্রমিক শ্রেনী। শিক্ষা তাঁদের অভিজ্ঞতা। প্রকৃতিকে জেনে বুঝে তাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের যে সৃষ্টি তাতে মানুষের মধ্যে কোন জাতি বা লিঙ্গ ভেদের প্রভেদ ছিল না। তাঁরা সেদিনও ছিলেন অনুচ্চারিত, আজও তাই। অপরের শ্রম, উদ্ভাবন শক্তি আত্মস্মাৎ করেই  একটা ক্ষুদ্র অংশ শাসক সেজে সব লুঠ করে সে সবের মালিক সেজেছে।আর ভাড়া করা ক্ষুন্নিবৃত্তির চাটুকারদের ঐতিহাসিক সাজিয়ে তা লিপিবদ্ধ করে প্রচারে স্থায়ী করেছে। কার্ল মার্ক্স মূলের এই জায়গাটাতেই আঘাত হেনে চিনিয়েছেন পৃথিবীর মহান রূপকারদের।এবং দাবী করেছেন করতে শিখিয়েছেন "এবং তাই পৃথবীটা বেশী মানুষের। অল্প কজন শাসকের নয়। পুঁজি,শ্রম,সম্পদ,আর মুনাফার  বেড়াজালে আবদ্ধ যে মানুষের শ্রম তার মুক্তিই মানুষের প্রকৃত মুক্তি। এবং তাই আজ ও মার্ক্সবাদ অপরাজেয়।
[বন্ধু চন্দ্র শেখর এর কেদার এবং সংলগ্ন মন্দির গুলির বৈজ্ঞানিক অবস্থানের বিবরনের প্রসঙ্গে।
" জানতে চাইলেই জানা যায়।অন্ধতায় নয়"।]
শ্যামল ভট্টাচার্য। শপথ। কলকাতা।
বেহালা।কলকাতা ৬০।
২৯ শে মে। ২০২১।

বন্ধু তোমার পথের সাথিকে চিনে নিও- শ্যামল ভট্টাচার্য

একদম সময়োচিত,যথার্থ এবং আত্মবিশ্বাসী পর্যবেক্ষন। তোমার আমার মত সমর্থকদের দায় আছে। লিখিত দায়িত্ব নেই।তবু আমরা সে দায়িত্ব বহন করি আমাদের মতন করে। না করলেও বোধ হয় চলে। এবারের নির্বাচনে বীভৎস ঝিঙ্কু ড্যান্স, সেলিব্রিটির পেশী দেখানো ইত্যাদি আরও অনেক কিছুর উপস্থাপন,এবং পার্টী নেতৃত্বের সে সবের পক্ষে সওয়াল এবং সমর্থন দেখিয়ে দিয়েছে, যেন আধুনিকতায়,চট জলদী চমক বিনোদনে" দিন বদলের পালা" র দিন অস্তমিত। এখন নাকি মানুষ এটাই চান।তাই গোটা নির্বাচনে শুধু নির্দিস্ট দিনে নিজের বা নিজেদের ভোট টুকু দেওয়া ছাড়া আর কোন কাজ ছিল না।এমনকি বহু আগেই নিজেদের উদ্যোগে "ঘন্টা খানেক সঙ্গে শপথ" পথ নাটক নিয়ে পথে নেমেও এবং সর্বস্তরে আবেদন রেখেও নিষ্ক্রিয় করে রাখা হল। আসলে জানি এ সবই  স্বল্প সময়ের মধ্যেই পর পর ঐতিহাসিক ভুলগুলো করার পর দিকভ্রান্ত হওয়ার নজীর।কিন্তু ক্ষতি হল মানুষের।সামনে  আবারও যুদ্ধ। ২০২৪ এ।জানিনা এ যুদ্ধে পার্টীর কৌশল কি? আসলে উনারা করেন।আমরা দেখি।আর যেহেতু বাম মানসিকতাতেই থাকি, তাই মূক শরিক হয়ে জিতলে দু হাত তুল নাচি।আর হারলে হতাশ হয়ে নিজেরাই নিজেদের বলি "জানি এই শুণ্যের কারন গুলির হয়তো কিছুটা।কিন্তু সেতো শুধু নিজেরা নিজেদের জানানো। উনাদের নয়। কেননা আমরা আম জনতা উনাদেরই চাই একথা উনাদের কাছে পৌছনোর উপায় নেই। উনারা আমাদের থেকে দূর। " কাছে থেকে দূর রচার"মধ্যেই বোধ হয় লুকিয়ে ছিল কোন নতুন নক্ষত্রের জন্ম কথা। অতএব প্রশ্ন নয়।অধিকারও নেই।তবুও করলে আছে তকমা " বিরোধী"। আর চুপ থেকে অপ্রতিক্রীত থাকলে " বন্ধু"।আর আমাদের থাকে দৃষ্টি আর পুরানো কথা সুর। তাই গেয়ে বেড়াই "বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিয়ো"। তবুও বলে যাবো বাকি যেটুকু বাঁচি " পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছো?"
[ বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিয়ো।]
শ্যামল ভট্টাচার্য। শপথ। কলকাতা।
৩০ শে মে। ২০২১।
বেহালা। কলকাতা ৬০।

স্মরণে কমরেড বিউটি দাস

কত ফুল এভাবেই ঝরে যায় রোজ।
হিসাব কে আর রাখে তার?
যা থাকে তা নিয়েই মেতে থাকি রোজ
মেলে না যাওয়ার উত্তর।
শুনি নারী পুরুষ কত কণ্ঠে শহর থেকে গাঁ
"এই যে শুনুন ----
আমরা বাঁচতে চেয়ে ছিলাম"
একা নয়।সবাই মিলে।সবাইকে নিয়ে। তবু--
কেন একা করে দিলে হায়?
"স্মরনে শ্যামল"
[চলে গেলেন এক কম্যুনিস্ট পরিবারের যোদ্ধা
কমরেড বিউটি দাস] 
"" লাল সেলাম বোন।"


Saturday, December 1, 2018

দস্তানার চরিত্র--৯ এর পর দস্তানার চরিত্র--১০

ভারতবর্ষে বর্তমান রাজনীতি আবর্তিত "জোট  রাজনীতিতে"। এটাও মার্ক্সবাদী বিশ্লেষন এর অবধারিত পর্যায় । এই পর্যায়তেও নেতৃত্বে থাকতে হবে মার্ক্সবাদীদেরই ।  তাই শ্রেনী দৃস্টিভঙ্গীর নিরিখে  মানুষকে সঙ্গে নিয়ে  লক্ষ্যে পৌছতে মার্ক্সবাদীদের হতে  হবে তীক্ষ্ণ ও কৌশলী ।  আজ  দেশের  সবচেয়ে বড় শত্রু বি জে পি তথা আর এস এস । তাই সমস্ত বিরোধিতার মুখকে ধারালো করতে হবে ওদের বিরুদ্ধে এবং ওদের সহযোগী দলগুলোর বিরুদ্ধে ।যেমন পশ্চিমবঙ্গে " তৃনমূল"। তাই প্রাথমিক ভাবে লুঠ হওয়া গনতন্ত্র রক্ষাকে  পাখীর  চোখ  করে বন্ধুর সংখ্যা বাড়াতেই হবে । শত্রু যখন মানুষের কাছেও চিহ্নিত তখন বন্ধু নির্বাচনে খানিকটা প্রশস্ততাও  যেমন  জরুরী তেমনই জরুরী তীক্ষ্ণ সতর্কতা । কারন  শাসকও নিজের  শক্তি  বাড়াতে "জোট" কেই হাতিয়ার করতে সচেষ্ট ।এমনকি প্রয়োজনে বি জে পি বিরোধী সেজেও মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আসলে এরা  গনতন্ত্র রক্ষার জোট কেই ভাঙতে বদ্ধ পরিকর । নিরন্তর আন্দোলন সংগ্রাম এবং নিবীড় জনসংযোগে এই   চক্রান্তের জাল  ছিন্ন করে  গনতন্ত্রের পতাকাকে তুলে ধরতে হবে । পাশা পাশি বহু যুদ্ধে শানিত বামফ্রন্টকে অর্থাৎ বামফ্রন্টের মধ্যের রাজনৈতিক দলগুলির  মধ্যে বন্ধু নির্বাচনে  মতৈক্যে  পৌছতে চিরাচরিত ধারনায়  নিজেদের অবরুদ্ধ না  করে বাস্তব দৃস্টিভঙ্গীর  পরিচয় রাখাটাই জরুরী । বন্ধু বা সঙ্গী নির্বাচনে সামান্যতম ভুল এই  পরিস্থিতিকে জটীল করে  তুলতে পারে । মনে  রাখাটা  জরুরী --দেশের দাবী ই বাস্তবতা ,নিছক দলীয় দাবী নয় । আর  রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা  সংগ্রাম আমাদের দেশে  বহুধা এবং  দীর্ঘস্থায়ী । তাই এখনটাই শেষ নয় । কথাগুলো তুললাম কারন উল্লিখিত সবকটা শুভ এবং অ-শুভ গনতান্ত্রিক জোটের পক্ষে এবং বিপক্ষে চারিত হোচ্ছে ।এবং বাজারী সংবাদ মাধ্যমগুলিও কোমর বেঁধে নেমেছে গনতান্ত্রিক জোট সম্পর্কে মানুষকে হতাশ এবং অবিশ্বাষী করে তুলতে । যেমন এ রাজ্যে তৃনমুলের বিকল্পে বি জে পি কে  তুলে ধরে মার্ক্সবাদীদের অগ্রগতিকে অস্বীকার করা । তবে এত  চক্রান্তের পরেও শ্রমিক  কৃষক সাধারন মানুষ ছাত্র যুব মহিলারা লাখে লাখ সোচ্চার মার্ক্সবাদী কম্যুনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে তথা বাম ফ্রন্টের নেতৃত্বে । নবান্ন অভিযান,সিঙ্গুর থেকে রাজ ভবন অভিযান ,দিল্লীর লাখে লাখ কৃষক  সমাবেশ , সারা ভারত শ্রমিক ধর্মঘট গুলি প্রমান  করছে বাম ও গনতান্ত্রিক শক্তির দুর্বার উত্থান এবং মার্ক্সবাদীদের অবশ্যম্ভাবী নেতৃত্বের । তাই বামেদের জোটকে হতে  হবে নিশ্ছিদ্র । দেশ পরিবর্তনের এক সন্ধিক্ষনে এসে দাঁড়িয়েছে এবং আমাদের সবার দায়িত্ব আছে দস্তানার নীচে লুকোনো কালো রক্তখাগী হাতগুলোকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ।দেশকে ,রাজ্যগুলিকে ,সমাজকে বিপন্মুক্ত করার । ধর্মের দস্তানায়  লুকোন কর্পোরেট হাত গুলিকে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেবার । মনে  রাখুন ,বাঁচার  ইচ্ছেটা প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন আমাদের প্রত্যেকের ।উপায়টা লড়ায়ের ময়দানেই নিরূপিত হবে--অবশ্যই মারক্সবাদীদের নেতৃত্বে । আশা রাখছি সাফল্যের । ধন্যবাদ । লাল সেলাম । (আপাতত এইটুকুই) ।

Monday, November 26, 2018

৮ এর পর "দস্তানার চরিত্র---৯

আমাদের মত দেশে সংসদীয় গনতন্ত্রে  শিক্ষিত মানুষ জনদের প্রতিফলন তুলনামূলক ভাবে অনেক অনেক কম। কারন  রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থাটাই সে ভাবে তৈরী যাতে  বেশী সচেতন মানুষের প্রতিনিধিত্ব না আসতে পারে পার্লামেন্ট এ কিংবা বিধান সভায় ।উপনিবেশবাদীদের অনুকরনে প্রচলিত এই  সংবিধান অন্ততঃ কিছুটা গনমুখী হলেও গন অর্থাৎ বেশীর ভাগ মানুষই জানেন না ,কোনটা তাঁদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ,আর  কোনটা তাঁদের আরও দরকার ? এ  রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার মানুষের জন্য যে  পরিমান কাজ  করেছিলেন তা  কিন্তু ঐ সংবিধানের  অধিকারের মধ্যে ,বদল করে  নয় ।  আর এটাতেই প্রমানিত হয় স্বাধীনতার পর থেকে নির্বাচিত রাজ্য সরকার গুলির থেকে এই  সরকারের প্রকৃত সৎ উদ্দেশ্য গুলিকে । অন্যান্য সরকারগুলির  থেকে মার্ক্সবাদী সরকারগুলির দৃস্টিভঙ্গীর ফারাক । যুক্ত রাস্ত্রীয় কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখেও । মার্ক্সবাদীদের মূল লক্ষ্য সংসদীয় ব্যাবস্থার আমূল পরিবর্তন , তথা রাস্ট্র যন্ত্রের  দখল । আর  এটা  মার্ক্সবাদীদের কোনো গোপন চক্রান্ত নয় । বরং  বলিষ্ঠ ঘোষনা ।এবং তা হবে মার্ক্সবাদী লেনিন বাদী পথেই ।  সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অর্থে বল প্রয়োগের দ্বারা রাস্ত্র ক্ষমতার দখল আজ এই যুগে এই সময়ে এবং এত বড় দেশে বোধ হয় সম্ভব নয় , অন্ততঃ প্রাথমিক বিশ্লেষনেতো তাই ই মনে হয় । অবশ্য পরিবেশ পরিস্থিতি বদলালে কোন পথে আসবে  বেশীর ভাগ  মানুষের মুক্তি তা  সময়ই বলতে পারে ।  বর্তমান  নয় । অতএব বিকল্প কোনো পথ না পাওয়া পর্যন্ত এই সংসদীয় গনতন্ত্রের পথেই ,এবং এই গনতান্ত্রিক সীমা বদ্ধতার মধ্যেই মার্ক্সবাদীদের হয়ে উঠতে হোচ্ছে  সৃস্টিশীল । আর সৃস্টিশীল যে  কোনো কাজ কখনোই  সরলরেখায় চলে না । আঁকা বাঁকা পথেই তাকে পৌছতে হয়  সম্পূর্ণতায়। আর এই  চলাটাই সম্পুর্ণতায় পৌছলে চলার  এই  ছন্দ এই আঁকিবুকিটাই হয়ে  যায় একটী ছবি ,আরো একটি প্রয়োগ পদ্ধতি  , আরো একটি মার্ক্সবাদী প্রয়োগ । তৈরী হয় নতুন তত্ত্ব । এটাই মার্ক্সবাদী সৃজন শীলতা ,যা অবিনশ্বর এবং সুন্দর । কারন এর  মূল  চালিকা শক্তি সচেতন  মানুষ। আর এ  ছবি আঁকতে মার্ক্সবাদীরা বিশ্বাস করেন গনতন্ত্রে । তাই সীমীত হলেও যেটুকু গনতন্ত্র আছে তাকে  রক্ষা  করতে হবে এবং আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গনতন্ত্রের সীমানা বাড়াতে হবে । যে গনতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আমাদের শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেবে কাংখিত " সমাজ তন্ত্রে"। এবং তাই বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর অনেক পার্টি কর্মী কিংবা দরদীদের বলতে শুনি ," সরকারে আসাটা আমাদের  লক্ষ্য  নয় । আমরা মানুষের সংগ্রামে মানুষের পাশে থাকতে পথেই আছি ।" হ্যাঁ ।পথেইতো থাকতে  হবে ।কারন মানুষ পথেই ছিলেন ,পথেই আছেন ,পথেই থাকবেন । কোনো মিনারে নয় । কিন্তু পথ থেকে আমাদের গন্তব্য কোথায়? সংসদীয় গনতন্ত্রের সংগ্রামে নির্বাচন এবং নির্বাচনে জয়লাভটাকে অস্বীকার করি কি করে ?  আর নির্বাচনে অংশগ্রহন এবং তাতে জয়লাভ করতে প্রয়োজন শক্তির (সব অর্থে) ব্যাপকতা এবং ব্যাপক শক্তিকে সংগঠিত করা । প্রতিটী এলাকায় এলাকায় সন্ত্রস্ত বিপন্ন আক্রান্ত সর্বস্বান্ত মানুষের কাছে পৌঁছে এ সাহস যোগাতে হবে যে ," পারেন । আপনারাই পারেন। আপনারাই পেরেছিলেন। আপনাদের সঙ্গে  নিয়ে আমরাই পারি এই সন্ত্রাস, আতংক, বেকারীর বিরুদ্ধে , শিল্পের পক্ষে কৃষির পক্ষে শিক্ষার পক্ষে স্বাস্থের পক্ষে লড়াই জারী রাখতে এবং আবার ও বামফ্রন্ট সরকার গড়তে । এবং গনতন্ত্রের পরিধিকে প্রশস্ত  করতে সারা দেশের মানুষকে সমবেত করতে বামফ্রন্টের নেতৃত্বে "। চলুন  আবারও  ডাক তুলি , বামফ্রন্ট সরকার --সংগ্রামের হাতিয়ার"।  কারন লড়াইটা আজ একেবারে  মুখোমুখী। দস্তানায় তালু লুকিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে করপোরেট তথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি , তারাই এখন  মুখোমুখী এ দেশের কোটী কোটী মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে  কম্যুনিস্ট পার্টি তথা বাম্পন্থীদের । এই  লড়াইটা লড়তে গেলে এবং জিততে  গেলে একটা সামিট ক্যাম্প বা বেস ক্যাম্প দরকার । ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিন ভারতে সে সম্ভাবনা প্রবল। তাই  ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে সব শক্তি নিয়ে সংগঠনের  কাজে। এটাই ভারতের দ্বিতীয় এবং বৃহত্তম স্বাধীনতা যুদ্ধ ।। ( ক্রমশঃ)।

Saturday, November 24, 2018

দস্তানার চরিত্র---৮

প্রসংগ সিঙ্গুর রুপায়নের প্রশ্নে ভুলটা কার ? পার্টির না  সরকারের ?   জ্যোতি বাবু প্রমোদ বাবু অশোক ঘোষ নিখিল দাস দের সময়ে গৃহীত নীতি ছিলো , " বাম ফ্রন্ট এ আলোচনা কোরে যে কোনো সিদ্ধান্ত্ব গ্রহন করতে হবে " , সরকারের তরফ থেকে যে কোনো প্রস্তাবের বা বাম ফ্রন্ট এর পক্ষ থেকে যে কোনো প্রস্তাব । বাম ফ্রন্ট এর সম্মতি মতোই সরকার এবং পার্টীগুলি একযোগে তা রুপায়নে মাঠে নামবেন । প্রশ্ন , তেমনটা হয়েছিলো কি ? যদি হয়ে থাকে তবে ফ্রন্টের এক বড় শরিক(নাম করছিনা ফ্রন্ট এর অস্তিত্বের প্রয়োজনে ) এর উচ্চ স্তরের নেতাদের সিঙ্গুর বিরোধিতা জন মনে প্রশ্ন তুলেছিলো কেন? ২ ) সি পি আই (এম)এর কৃষক সভার জ্ঞাতে কি টাটার পছন্দের জমি নির্বাচিত হয়েছিলো ? যদি হতো তবে জমি দখলের প্রশ্নে প্রথম দিকে চাষীরা বাধা দিয়েছিলেন কেন ? পরে যদিও কৃষক সভার নেতৃত্বেই জমি দিতে বেশীর ভাগ চাষীই সম্মত হয়েছিলেন এবং সরকারের উন্নয়নের এই উদ্যোগ যে শিল্পের সাথে সাথে তাঁদেরও সার্বিক উন্নয়ন তা তাঁরা উপলব্ধি  করে বামফ্রন্ট এর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ।  কিন্তু আগেই কৃষক সভাকে সম্মত  করে এ কাজে নামলে বেচারামদের জন্ম হোত কি ?  তাই মানুষ সাদা চোখে মনে করেন কোথাও একটা সরকারী ঔদ্ধত্য পার্টী এবং ফ্রন্ট কে অন্ধকারে রেখেছিলো । তাই এ ভুল সরকারের । ক্ষতি নিরাময়ে সবাই পরে একজোট হলেও ক্ষতি ঠেকানো গেল না । কারন  অশিক্ষিত এবং ধ্বংসকারী শক্তি তৃনমুলের বিরুদ্ধে সরকার তার রাষ্ট্রীয় ভাষা প্রয়োগের বদলে গনতান্ত্রিক ভাষা এবং ব্যাবহার বহাল রাখায় । এক্ষেত্রেও প্রশ্ন থাকে পার্টী ,ফ্রন্ট ,ও সরকারের সাজুয্যতা নিয়ে । অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কম্যুনিস্ট পার্টীর তফাত এই যে ,অন্য দলগুলোর অস্তিত্ব কিংবা না অস্তিত্বর  ওপর নির্ভর করে না সাধারন মানুষের জীবন জীবিকা কিংবা নিরাপত্তার প্রশ্ন। কিন্তু কম্যুনিস্ট পার্টী ও  কম্যুনিস্ট ভাবাদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে যা একেবারেই  বিপরীত । কারন কম্যুনিস্ট পার্টীর একমাত্র  স্বার্থ মানুষের শৃংখল মুক্তি ।রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তি ।মার্ক্সবাদী পথে । তাই সাধারন মানুষের ওপর যে কোনো আক্রমন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কিংবা ব্যাক্তিক  সে আক্রমন আসলে কম্যুনিস্ট পার্টী কিংবা কম্যুনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী মার্ক্সবাদী পার্টীগুলির ওপরই আক্রমন । আর  তাই মানুষ তাকিয়ে থাকেন  এই আক্রমনের মোকাবেলায়  পার্টীর ভূমিকার  এবং নির্দেশের দিকে । এ ক্ষেত্রেও তাই  স্বভাবতই পার্টীকে  হতে  হয় একই সাথে সাবধানী ,সতর্ক, এবং প্রতিরোধী । দায়িত্বটা কঠিন কিন্তু অবশ্য কর্তব্য । প্রশ্ন এখন এই সময়ে পার্টী কোথায়, আমরা কোথায়, আর কি ই বা আজকের রাজ্যের এবং দেশের পরিস্থিতি? কি আমাদের কর্তব্য ? (পরের বার ) ।

Friday, November 23, 2018

দস্তানার চরিত্র---৭

রাজ্যের অর্থে পশ্চিমবঙ্গের ত্রুটীগুলিও সর্বমোট ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টীর (মার্ক্সবাদী) গৃহীত ভুল সিদ্ধান্ত্ব ও কৌশলগুলিরই ফলাফল। উপরন্তু যোগ হলো পার্টীর বেশীটাই আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা । বাম পার্টীগুলিকে কোরে  তুললো জন বিচ্ছিন্ন ।  পার্টীর এবং মানুষের মধ্যের রক্ত মাংসের যোগ যত কমেছে ততই পার্টির মতাদর্শের লড়াই হয়েছে ম্লান । আর  এই বিশাল জনবুনোট এর আলগা ফাঁকে  বাসা বাঁধলো বিষাক্ত কীট , প্রোমোটার,কন্ট্রাক্টর , চাটুকারদের ছদ্মবেশে। অনেক জেলায় তারাই হয়ে  উঠেছিলো পার্টির নিয়ন্তা এবং সাধারন মানুষের কাছে পার্টী তথা সরকারের সেতু । গ্রাম থেকে শহর এমন কি সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও শক্তিশালী হলো একদল রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক " মাফিয়া"। শুধু নেতৃত্ব আজীবন  সৎ থেকেও রক্ষা করা  যায়নি  সামগ্রিক রাজনৈতিক সততা ।  এই মাফিয়াদের সংখ্যা ছিল তুলনায় কমই , কিন্তু ক্ষমতা ছিলো অসীম । থানা কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যালিটী , পঞ্চায়েত , বিদ্যালয় , মহা বিদ্যালয় , হাসপাতাল , সাংস্কৃতিক অঙ্গন , মোটের ওপর  যে  সমস্ত স্থানে সাধারন মানুষেরা নিত্য সেখানেই এরাই ছিলো মাতব্বর , লাল মিছিলে পা মিলিয়ে , লাল জামা পরেই । প্রমান ? লক্ষন শেঠ এর মতো  লোকেরা ।  প্রসঙ্গ সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম----------। এ  কথা ভুললে চলবে না যে উন্নত পঞ্চায়েত ব্যাবস্থার মাধ্যমে গ্রামীন সরকারকে শক্তিশালী করে  একদিন ক্রীতদাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ  নুব্জে পড়া কৃষক সমাজকে মেরুদন্ড সোজা করে মাথা উঁচু করে বাঁচার পথ দেখিয়েছিলেন বামফ্রন্ট সরকার  । গ্রামের মানুষের চরম অর্থনৈতিক পরাধীনতাকে সম্ভব মতো অবসান করার ফলে বাড়লো গ্রামের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা । তাই পরিকল্পনা মাফিকই তৈরি হোল নতুন নতুন বিদ্যালয় ,মহা বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় । কারন এই  সরকার সচেতন ছিলেন যে দেশের বেশীরভাগ মানুষ থাকেন  গ্রামে ।এবং দারিদ্রের সংখ্যাও বেশী । তাই ১৯৭৭ এই এক দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার ক্রম সাজিয়ে ছিলেন ।প্রথমে কৃষি , তারপর শিক্ষা, এবং  অবশ্যই শিল্প । তাই প্রথম থেকেই লক্ষ্য পূরনে এই  সরকার ছিলেন সচল । অর্থাৎ  কৃষির উন্নয়নের  সাথে সাথেই এগিয়ে যেতে  হবে শিক্ষায় । এবং  শিক্ষায় এগিয়ে  থাকা  একটি  জাতি কখনই শুধু মাত্র কৃষি কাজে আবদ্ধ থাকতে  পারেন না । কারন বেশী মানুষের হাতে  পয়সা আসা মানেই বাজারে তাঁদের অধিকারের বৃদ্ধি । তাই বাজার( লুঠের নয় ) এবং শিক্ষাকে সফল  করে  তুলতে প্রয়োজন ভারী শিল্প । এবং  তারই নিরন্তর প্রচেস্টার ফলশ্রুতি সিঙ্গুররের মোটর কারখানা টাটা গোষ্ঠীর । অন্য দিকে পুরুলিয়ায় জিন্দালদের বৃহত্তম ইস্পাত প্রকল্প এবং  নন্দীগ্রামে কেমিকাল  হাব । প্রমাদ গুনলো বাম বিরোধীরা এবং অবশ্যই  কর্পোরেট শক্তি তথা সাম্রাজ্যবাদ । কারন  সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যেও কম্যুনিস্টরা কৃষি সমস্যা মিটিয়ে শিল্প ভাবনায় সাফল্য  পায় তবে  সেই  দৃস্ট্বান্ত দেশের অন্য রাজ্যগুলিকেও বিকল্প ভাবনায় সাহসী  করে  তুলবে । এবং কম্যুনিস্ট তথা বাম শক্তির প্রসার ঘটবে । সংসদীয় গনতন্ত্রের মধ্যে থেকেও পরীক্ষা  নীরিক্ষার এই সফল  প্রয়োগ  শুধু ভারত নয় ,এশিয়া মহাদেশের থেকেও সাম্রাজ্যবাদ তথা করপোরেট শক্তির কাছে যেন  অন্তিম  বার্তা । তাই যে ভাবেই হোক  একে রুখতে হবে । প্রয়োজনে সব  শক্তি  ও  কৌশল প্রয়োগ করে । এবং তা  করতে হাতিয়ার হয়ে উঠলো বাম্ফ্রন্ট ও সি পি আই (এম ) এর  ভুলগুলি এবং ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্নতা ।  অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী কমরেড  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর দুর্বল প্রশাসনিক চরিত্র । বাংলাকে তছনছ করতে বিদেশী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি কোমর বেঁধে নামলো । জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ  রইলো ২১দিন । আদালতের সুস্পস্ট রায় সরকারের পক্ষে। অথচ সরকার তার রাস্ত্রীয় ক্ষমতার প্রয়োগ  না  করে দিনের  পর  দিন আলোচনায় মীমাংসায়  পৌঁছতে সচেস্ট থেকে ওদের সংগঠিত  ও  সাহসী হয়ে  উঠতে শক্তি  জোগালো । শিক্ষিত  মানুষ  বুদ্ধ বাবু  ভুলে  গেলেন যে  অশিক্ষিত এবং  "একা" একজন  ক্ষমতা লোভীকেই বেছে নিয়েছে করপোরেট  শক্তি । যাতে  লুম্পেন  দ্বারাই চালিত  করানো যায় তাকে । তাই প্রায় শেষ হবার  মুখে টাটার কারখানা বন্ধ হয়ে  গেল ।পরিকল্পনা করেই  নন্দীগ্রামে চলল অবরোধ - মাও বাদী দের  ভাড়া করে । "পরিবর্তনের " আওয়াজ তুলে তাকে  সফল  করতে ওই  দুস্ট শক্তি অই সাহসটিকেই পুঁজি করলো । তারপরটাযে  সুখকর  নয় এ আর না  জানা  আছে  কার ?   এখন প্রশ্ন সিঙ্গুর ও  নন্দীগ্রাম প্রশ্নে ভুলটা কার ? সরকারের না পার্টীর ? ( ক্রমশঃ) 

Thursday, November 22, 2018

দস্তানার চরিত্র--৬

দস্তানা-৫ এ কথা ছিল ৩৪ বছরের জনমুখী  সরকার চালানো সত্ত্বেও এই সরকারের পতন কেন? সাধারন মানুষের বিবেচনায় ভুলগুলি কি ? এই বিবেচনার মধ্যে হয়তো পাওয়া নাও যেতে পারে কোনো তত্ত্বের দ্বান্দিক বিশ্লেষন। বিজ্ঞ তর্কযুদ্ধে হয়তো নাস্তানাবুদ হবেন সাধারন বামপ্রিয় মানুষেরা।  কিন্তু তবু তাঁদের সোজা সাপ্টা কথাগুলি একেবারে অদ্বান্দিক এবং অ -দূরদর্শী এমনটা ভেবে অভিজ্ঞ মার্ক্সবাদী সাজলে এ বিপদ আসবে বারবার । আর ঠিক এখনকার রাজনৈতিক বাতাবরন যেন মানুষের অনুভবের সোজাসাপ্টা প্রকাশকেই যুক্তিনিষ্ঠ করে।  ১) কমরেড সইফুদ্দিন চৌধুরী যখন সিপিয়াই (এম) এর নেতা ছিলেন এবং অত্যন্ত সুদক্ষ সাংসদ ,তখন তাঁর একটি  রাজনৈতিক বিশ্লেষন "কংগ্রেস" সম্পর্কে এবং বামেদের দায়িত্ব যা নেতৃত্ব মানেন নি এবং কমরেড সইফুদ্দিন এর সাথে পার্টি সম্পর্ক ছিন্ন হয় বা করা হয় তা যে সঠিক পরবর্তিকালে ইউ পি এ -১ গঠনের মধ্যেই প্রমানিত । ২) প্রসিদ্ধ পার্টীনেতা ও  জননেতা কমরেড জ্যোতি বসু কে প্রধান মন্ত্রী হতে না  দেওয়া। মনে  রাখতে  হবে বুরজোয়ারা এ সময় নেতৃত্বহীন এবং বিপরীতে জোট সরকার পরিচালনায় কমরেড জ্যোতি বসু এবং সি পি আই (এম) এর কৃতকার্যতা এবং বড় দল হয়েও  জোট কে প্রাধান্য দেওয়ার বিশ্বস্ততায় কমরেড জ্যোতি বসুর প্রতি ওদের আহ্বান ছিলো সময়ের বিচারে অবশ্যম্ভাবী । কিন্তু এ  ক্ষেত্রেও পার্টীর রক্ষনশীল মনোভাবে পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহনের এবং তা অনুযায়ী রননীতি তৈরী করার সাহস এবং কুশলতা নেতৃত্বের দুর্বলতাকেই প্রকট করেছে। বাংলার তথা ভারতের মানুষের মনে তা চুড়ান্ত আঘাত হানে । অভিজ্ঞ কম্যুনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু "ঘুম ভাঙ্গাতে " আওয়াজ তুললেন " ঐতিহাসিক ভুল" । কিন্তু রক্ষনশীল ভীতু নেতৃত্বের তাতে ঘুম  ভাংগেনি । বরং আরো বেশী করে চাদর টেনে দিবানিদ্রায় গেলেন ,যখন দেশ জুড়ে পুঁজিপতিদের সমর্থনে বিপজ্জনক ও ভয়ানক সাম্প্রদায়িক শক্তি আর এস এস তথা বি জে পি নিজেদের শক্তিশালী করতে জোট সঙ্গীর সন্ধানে তাদের রাজনৈতিক উদ্যোগে জোর দিচ্ছে ।  মনে  রাখুন  আজকের সারা দেশের   ওপর নেমে আসা  এমন রক্তাক্ত দিন ,গনতন্ত্রের অবনায়নের তীব্র গতির আঁতুড়ঘর ছিল সেই "ঐতিহাসিক ভুল"। ৩) দীর্ঘ পরীক্ষিত সি পি আই (এম ) নেতা ,বিশিস্ট ব্যাবহারজীবি  সি পি আই(এম) সাংসদ ,পশ্চিমবঙ্গ শিল্প নিগম এর বাম ফ্রন্ট এর সময়ের চেয়ার ম্যান এবং পার্টির অনুমোদনে ইউ পি এ-১ সরকারের লোকসভার অধ্যক্ষ (যে সরকার বামেদের সমর্থনে গঠিত  কংগ্রেস পরিচালিত সরকার ) মাননীয় কমরেড সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় কে ভুল কারনে পার্টি থেকে বহিস্কার যা বাংলার মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে  পারেন নি ।( কারণটিও একটি ঐতিহাসিক ভুল। বহু আলোচিত।তাই আর উল্লেখ করলাম না ) ।এবং ৪ ) ইউ পি এ ১ থেকে তার  মেয়াদ উত্তীর্ণ (আর অল্প কিছু দিন ছিলো) হওয়ার আগেই " নিউক্লিয়ারস ইস্যুতে" সমর্থন   তুলে  নেওয়া । মানুষের বিশ্বাস কমরেড জ্যোতি বসুর বাস্তবতাবোধও নিশ্চয় ছিলো পার্টির এই সিদ্ধান্ত্বের বিরুদ্ধে । সঠিক জানি না । তবে মানুষের জীবন বোধ দিয়ে চেনা জ্যোতি বাবু সম্পর্কে মানুষের এ বিশ্বাসকে  অমর্যাদা করার সাহস না দেখানোই ভালো।  আর এই ভুলের পরিনাম কংগ্রেসের হাত ধরে বিক্ষুব্ধ বাংলার মনের চাপা আঁচে বাতাস দিয়ে  কংগ্রেস জাত  বি জে পি পালিত  তৃনমূলের তথা সংগঠিত লুম্পেন শক্তির বিপুল উত্থান এবং সরকার  থেকে বাম ফ্রন্টের পতন ।  উল্লিখিত  ভুলগুলি শুধু মাত্র কম্যুনিস্ট নেতৃত্বের ভুল,  কেন্দ্রিয় ভাবে । এবার আলোচনা রাজ্য স্তরে । (ক্রমশঃ)                         

Thursday, November 15, 2018

দস্তানার চরিত্র----৫

১৯৭৭- ২০ শে জুন কংগ্রেস  ঘোষিত জরুরী অবস্থা মোকাবেলা করে পশ্চিমবঙ্গে বহু নির্যাতন খুন সন্ত্রাসের জবাব কমরেড জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে প্রথম " বাম ফ্রন্ট সরকার"। মনে রাখতে হবে "বাম ফ্রন্ট' পর্যন্ত পৌঁছতে বাম নেতৃত্বকে পেরোতে হয়েছে অনেকখানি পথ । প্রথমে "বাম ও গনতান্ত্রিক " ঐক্য এবং "যুক্ত ফ্রন্ট" সরকার । কেন্দ্রের বে আইনী আক্রমন .৩৫৬ ধারার প্রয়োগে সরকারের পতন । কিছু তথাকথিত গনতান্ত্রিকদের  দস্তানা খুলে কালো হাতের দর্শন । কম্যুনিস্টরা রইলেন মানুষের সঙ্গে । আবার নির্বাচন । এবার আরো বড়  জয় । তৈরি হল দ্বিতীয় " যুক্ত ফ্রন্ট" সরকার । আবারো আক্রমন। চলল  এম এল এ কেনা বেচা। আবারো ৩৫৬ র প্রয়োগ ,সরকারের পতন । এবং সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে চাপানো হোলো " কুখ্যাত রাস্ত্রপতি শাসন"। আবারও নতুন লড়াই । নতুন কৌশল । নীতিগত ভাবে  বামপন্থীরা বুঝলেন "যুক্ত ফ্রন্ট" এর প্রয়োজন  ফুরিয়েছে । মানুষের কাছে ওই ফ্রন্ট তার  বিশ্বাস রাখতে পারেনি । ওই ফ্রন্টের মধ্যের কিছু শক্তি যারা প্রকৃত কংগেস জাত তাদের আক্রমনের মুল লক্ষ্য সি পি আই (এম) ও তার বন্ধু শক্তিদের । অতএব সি পি আই ( এম) নেতৃত্ব ডাক দিলেন শুধু " বাম ফ্রন্ট "। আন্দোলন সংগ্রাম মানুষ চাইলে সরকার ও গড়বেন "বাম ফ্রন্ট ' । মানুষের চাওয়াও যে ছিলো একদম তাই তার প্রমান রাজ্যে বিপুল  সংখ্যাধিক্যে ~ বামফ্রন্ট সরকার । এবং জ্যোতি বসুর ঘোষনা ,  এ রাজ্যের সরকার চলবেনা মহাকরন থেকে । এ  সরকার চলবে সমস্ত মানুষের দ্বারা তাঁদের কেন্দ্রগুলী থেকে --গ্রাম থেকে । শুরু হলো কর্ম যজ্ঞ । গঠিত হলো  পঞ্চায়েত রাজ  অর্থাৎ গ্রামগুলীর নিজেদের সরকার । কৃষকদের স্বার্থে  অপারেশন বর্গা । জমিতে কৃষকদের দেওয়া হল লুঠ হয়ে যাওয়া অধিকার । দেওয়া হল দল মত নির্বিশেষে সমস্ত রাজ নৈতিক কারনে আটকে রাখা রাজনৈতিক বন্দীদের  নিঃশর্ত মুক্তি,শিক্ষার বিস্তারে উপযোগী ভুমিকা এবং কৃষির উন্নয়নের সাথে সাথে শিল্পের উদ্যোগ ইত্যাদি আরো বহু জনমুখী কাজ যা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনোন্নয়নে  আন্তরিক । কমরেড প্রমোদ দাসগুপ্ত ,হরেকৃষন কোনার প্রভাস রায় ,ডক্টর অশোক মিত্রর মত ব্যক্তিত্বদের   নেতৃত্বে এ রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার মার্ক্সবাদের ও এক নতুন পরীক্ষা । যুক্ত রাস্ট্রীয় কাঠামোকে অক্ষুন্ন রেখেই সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত সীমাবদ্ধ  ক্ষমতার মধ্যে থেকেও মানুষের বিপুল সমর্থনে এই  সরকারের ৩৪ বছর প্রমান করেছে মারক্সবাদীরা কতটা সৃস্টিশীল । এখন প্রশ্ন তবুও মানুষেরই রায়ে বিশেষত গ্রামের মানুষের দ্বারা এই  জনপ্রিয় বামফ্রন্ট  প্রত্যাখ্যাত হলো কেন ? সমস্যাটা কি পার্টির ঘোষিত নীতিগুলির রুপায়নে সরকার  থেকে সরকার ঘোষিত নীতিগুলির পার্টীর রুপায়নের  ফারাক ? ফলে  জন বিচ্ছিন্নতা ? কম্যুনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী পার্টীর সরকারী  পার্টীতে পরিনত হওয়ার  একটা ভয়ানক বিচ্যুতি? জানিনা । আমি একজন সাধারন নাট্যকর্মী মাত্র । সমাজ  রাজনীতি অর্থনীতি এবং মানুষের ভাঙ্গা গড়ার  ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থেকেই (আমার সীমাবদ্ধতা নিয়েই)  নাটক করে  চলেছি । তাই আমি নয় । এ সংশয়ের নিরশন করবেন পেশাদার রাজনৈতিক মানুষজন ,যারা রাজনীতির প্রয়োগে ভুলও করেন আবার ঠিকও করেন । ফারাক আছে । একদল ক্রমাগত ভুল করতে করতে হয়তো কখনও এক আধটা ঠিক করতে বাধ্য হয় ( ব্যাঙ্ক জাতীয়করন) নিজেদের পেশাকে বাঁচাতে । তাই  তারা " ভুল" বলে কিছু স্বীকার করে না । বরঞ্চ ঘটে যাওয়া একটি বা  দুটি "ঠিক" কে  হাতিয়ার করে নিজেদের জয়ঢাক বাজায় ।বিপরীতে পেশাদার রাজনীতিক কম্যুনিস্টরা তথা  বামেরা  "ঠিক" করতে  করতেই ঠিক  করতে  চেয়েই  কখনও " ভুল" করে বসেন । বিশ্লেষনে ধরা পরলে মানুষের  কাছে তা  স্বীকার করে নেন সোচ্চারে কারন  একমাত্র মানুষের কাছেই তাঁরা দায়বদ্ধ ।  তা হলে এ বিশ্বাসতো করাই  যায় ৩৪ বছর  ধরে এত  বিপুল মানুষের সমর্থন যেমন অ-কারন ঘটেছে তা  নয় ,ঠিক  তেমনিই ৩৪ বছর  বাদে বেশী মানুষের অ-সমর্থনও  অ-কারন ঘটেছে তা নয় ? তা হলে কারনটা কি? মানুষেরতো  তা  জানা উচিত । হয়তো জানলে মানুষই বলবেন যে ভুল আপনাদের দৃস্টির বাইরে অথচ আপনাদের আলোচনায় আসেনি ।হয়নাকি ? নাকি পেশাদার হলেই তিনি সর্বজ্ঞ হয়ে  যান ? মানুষ যা বলেন কিংবা বলতে চান তার দু একটা জানাবো পরবর্তীতে ।এবং তার পর তার পরের কিস্তি । শুভ রাত্রি বন্ধুরা ।  আবার দেখা হবে পরের  অধ্যায়ে । ( ক্রমশঃ)।


Sunday, November 4, 2018

দস্তানার চরিত্র -- ৪

নয়া সাম্রাজ্যবাদ আমেরিকা এবং তার সহযোগীরা বিভক্ত দেশের লাভ কুড়তে মরিয়া । তারা  তাদের যুদ্ধাস্ত্র বিক্রীর বড় বাজার তৈরি করলো । দু দেশেই পরে তিন দেশেই তারা যুদ্ধের পৃষ্ঠপোষকতায় মনোযোগী।  সন্ত্রাস  তাদের হাতিয়ার আজ সমগ্র এশিয়া জুড়ে । পারেনি , পারছেনা  চীনকে বাগাতে । এ ছাড়া যেখানেই রয়ে গেছে উপোনিবেশবাদের ক্ষত সেখানেই তারা ছড়াচ্ছে সন্ত্রাস । লক্ষ্য সেই সব দেশের গনতন্ত্র। কারন ওরা জানে গনতন্ত্রের পথ ধরেই বিশ্বে উঠে আসবেই সমাজতন্ত্র ,ঘটবে কম্যুনিস্ট  অভ্যুত্থান,এবং পুঁজিবাদের সাম্রাজ্যবাদের চিরকালীন কবরে মাথা  তুলে দাঁড়াবে  শ্রমিক কৃষক মধ্যবিত্ত মেহনতি মানুষের  " লাল ঝান্ডা "। এবং তাই তাদের লুঠের গনতন্ত্রের দস্তানা চাপিয়ে  সে দেশের শাসকদের বন্ধুত্বের মুখোশ পরে সাহায্যের নামে খুনী লুঠেরা হাত দস্তানায় ঢেকে  তারা দেশগুলিকে করে তুলছে অস্থির । কোথাও বন্দুকের যোগান দিয়ে কোথাও ধর্মের  জিগীর তুলে আবার কোথাও তথাকথিত "গনতন্ত্রের " দোহাই দিয়ে । ভৌগলিক কারনেই এবং জনশক্তির কারনে  আমাদের সোনার দেশ রীতিমত ধনীই । যে কারনে বার বার বিদেশী আক্রমনে আমার দেশ হয়েছে রক্তাক্ত । কিন্তু তবুও নিঃস্ব করতে পারেনি কেউ । এমনকি ২০০ বছরে ব্রিটিশও । কংগ্রেস শাসনে থাকলেও পণ্ডিত নেহেরুরা ছিলেন সমাজতন্ত্রের সমর্থক । কিন্তু শ্রেনীহীন সমাজ ব্যাবস্থাকে স্বীকার না কোরে সমাজতন্ত্রের চিন্তা সো নার পাথরবাটীর মতই অবাস্তব ,অলীক ।  তাই শেষ পর্যন্ত সে সরকারটা  হয়েছিল ধনীদের ই সরকার । চোরা স্রোতে সাম্প্রদায়িকতা থাকলেও এবং কম্যুনিস্ট পার্টী ছাড়া  ভারতের সব রাজনৈতিক দলগুলি শাসন  ক্ষমতায়   আসতে কিংবা থাকতে  তা ব্যবহারও করেছে বার বার । কিন্তু সংবিধানে ঘোষিত " সেকুলারিজম"এর সীমা লঙ্ঘন করেনি । ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে কংগ্রেসের শ্রমিক কৃষক বিরোধী নীতিগুলির বিরুদ্ধে কম্যুনিস্ট পার্টীর নেতৃত্বে জন জাগরন  একসময় কংগ্রেসকেও ফ্যাসীবাদী পথে হাঁটতে বাধ্য করে । মানুষের প্রতিরোধে ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায় একদা ব্রিটিশের মদত পুস্ট   এবং পরে নয়া  সাম্রাজ্যবাদের দোসর "কংগ্রেস "। দেশে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটলো ।  একদিকে গড়ে উঠলো  বাম ফ্রন্ট এবং তার বন্ধু শক্তি  অন্যদিকে কম্যুনিস্ট ও বাম বিরোধীরা । সাম্রাজ্যবাদীরা প্রমাদ গুনতে শুরু করলো । ৭০ বছরের সোভিয়েতকে ভেঙ্গে দিয়ে ওরা ভেবেছিলো সমাজতন্ত্রের কবর দেওয়া গেছে । আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদের মদতে সমাজতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত , ইয়োরোপে বেশ কিছু রাস্ট্রে  সমাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে  ওরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলো । পোষা প্রচার মাধ্যমগুলি কম্যুনিস্ট মতাদর্শের শরশয্যা রচনায় যখন ব্যাস্ত তখনই পূর্ব ভারতে এবং দক্ষিনে কেরালায় মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে আবারও কম্যুনিস্ট পার্টীর নেতৃত্বে বাম ও গনতান্ত্রিক শক্তি । ওদের  পেটোয়া কংগ্রেস আজ নখ দন্ত হীন । চাই নতুন শক্তি । যে হবে বেপরোয়া ,অ গনতান্ত্রিক, এবং সমাজতন্ত্রের এই পিছু হাটার দিনে কর্পোরেট শক্তিকে করবে অবাধ এবং জেট গতিতে, কম্যুনিস্টরা  সারা ভারতে সংবিধানগতভাবে শক্তিশালী হওয়ার আগেই ।  মঞ্চে হাজির বি জে পি তথা আর এস এস এবং তার সহযোগীরা এবং তৃনমূল । কি ভাবে এবং কোন আভ্যন্তরীন পরিস্থিতিতে  সে বিষয়ে  পরেরবার । (ক্রমশঃ)